চিকিৎসক-রোগী উভয়ের নিরাপত্তা সরকারের অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:৪৮ | আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:৫৭
চিকিৎসক ও রোগী-উভয়ের নিরাপত্তাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীদের নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকারও রক্ষা করতে হবে।
আজ সোমবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ আয়োজিত ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের যোগদান ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকেরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষের নিরাপত্তা ও সুচিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ তুলে ধরে ড. মুহিত বলেন, দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৫ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু নিরাপত্তা জোরদার করলেই হবে না, স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক পরিবেশও উন্নত করতে হবে।
তিনি বলেন, চিকিৎসার মান বাড়ানো, হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত করা এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে মানুষের ক্ষোভ ও আক্ষেপ কমবে। এসব সমস্যার মূল কারণগুলো সমাধান করা গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিও অনেকাংশে দূর করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে ২০টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। চিকিৎসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তার ভাষ্য, সরকার একটি দুর্নীতি, দালালির দৌরাত্ম্য ও অনিয়মে জর্জরিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা পেয়েছে। বাস্তবতার ভিত্তিতে এ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।
নবীন চিকিৎসকদের প্রশাসনিক দক্ষতা অর্জনের তাগিদ দিয়ে ড. মুহিত বলেন, বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়া কর্মজীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; এটি দীর্ঘ কর্মজীবনের সূচনা। চিকিৎসার পাশাপাশি সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া, ই-টেন্ডারিং ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তাদের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার মানসিকতাও তৈরি করতে হবে।
ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রযুক্তিনির্ভর ও গবেষণামুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সরকার আধুনিক ‘ডিজিটাল হেলথ’ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। আগামী কয়েক দশকে জনগণকে আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দিতে নবীন চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন প্রমুখ।