উচ্ছেদের দুই ঘণ্টা পরই ফের বসল দোকান
ঢাকা- সিলেট মহাসড়কে প্রশাসনের ব্যর্থ অভিযান
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২২:১১ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২২:১৪
রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দখলমুক্ত করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। এর দুই ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় সেখানে দোকান বসান ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভূলতা-গোলাকান্দাইল অংশে মহাসড়কের উভয় পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাটের কারণে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন হচ্ছিল। পথচারীদের চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। এ প্রেক্ষাপটে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আল সোহানের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবজেল হোসেনসহ পুলিশ সদস্যরা।
অভিযান চলাকালে মহাসড়কের দুই পাশ দখল করে গড়ে ওঠা সবজির দোকান, কাপড়ের দোকান, মাছের আড়তসহ বিভিন্ন পণ্যের অস্থায়ী স্টল উচ্ছেদ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দিয়ে সড়ক সম্পূর্ণ দখলমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে স্বস্তি ফিরে আসে এবং পথচারীরাও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন। কিন্তু প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা স্থান ত্যাগ করার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে আবার মহাসড়কের পাশে দোকানপাট বসাতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। দ্রুতই আগের মতো সড়কের অংশবিশেষ দখল হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নজরদারির অভাব, দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং স্থায়ী সমাধান না থাকায় এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবজেল হোসেন বলেন, উচ্ছেদের পর পুনরায় অবৈধভাবে দোকান বসানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ নির্দেশনা অমান্য করে আবার সড়ক দখল করলে তাদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় পথচারী আব্দুল কাদের বলেন, প্রশাসন এলে কিছুক্ষণ স্বস্তি পাই। তারা চলে গেলেই আগের মতো দখল হয়ে যায়। এতে আমাদের চলাচল করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়। আরেক পথচারী নাসিমা আক্তার বলেন, মহাসড়কের পাশে হাঁটার জায়গা না থাকায় গাড়ির পাশ দিয়েই হাঁটতে হয়। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এটি খুবই বিপজ্জনক।
সড়কের পাশে দোকান বসানো প্রসঙ্গে ফল ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ। এখানে বসে যা আয় করি, তা দিয়েই সংসার চলে। আমাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা বরাদ্দ দিলে সেখানেই বসতে রাজি। আরেক ফল ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন বলেন, উচ্ছেদ হলে আমাদের মালপত্র নষ্ট হয়। প্রশাসন যদি বিকল্প ব্যবস্থা করে, তাহলে বারবার এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হবে না।
সবজি বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, বাজারের ভেতরে জায়গা পাই না। বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে বসি। পুলিশ এলে উঠে যাই, পরে আবার বসতে হয় জীবিকার তাগিদে। ফুটপাতে কাপড় বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা কেউ রাস্তা দখল করতে চাই না। কিন্তু পেটে ভাত না থাকলে উপায় থাকে না। সরকার যদি ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করে, তাহলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে।
এদিকে সচেতন মহল বলছে, শুধু তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ অভিযান নয়; নিয়মিত মনিটরিং ও বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে মহাসড়ক দখলমুক্ত রাখা কঠিন হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের স্থায়ী ও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।
- বিষয় :
- উপজেলা
- প্রশাসন
- উচ্ছেদ অভিযান
