ইতালিতে পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে ফরিদপুরে মানববন্ধন
ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎর অভিযোগে মানববন্ধন। ছবি: সমকাল
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ১২:৫১ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ | ১৩:২৪
ফরিদপুরের সালথায় ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, লিবিয়ায় নিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী। সোমবার সকালে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় বাহিরদিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, বড় বাহিরদিয়া গ্রামের মতি মোল্লার দুই ছেলে হেমায়েত মোল্লা (৩৮) ও সাজ্জাদ মোল্লা (৩২) ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় অন্তত ৮ থেকে ১০ জনের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু কাউকেই ইতালিতে পাঠানো হয়নি।
তারা আরও বলেন, বিভিন্ন ধাপে অর্থ নেওয়ার পর ভুক্তভোগীদের প্রথমে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের কাছে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণের নামে পরিবারের কাছ থেকে আরও বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়। এ সময় তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এখনও কয়েকজনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী বলেন, সাজ্জাদ মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় অবস্থান করে একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থেকে বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে পাঠানোর নামে লোক সংগ্রহ করতেন। আর দেশে অবস্থান করে তার ভাই হেমায়েত মোল্লা প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতেন। দুই ভাইয়ের যোগসাজশে এলাকার বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে।
ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম বলেন, হেমায়েত মোল্লা ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে যান। সেখানে সাজ্জাদ মোল্লার কাছে যাওয়ার পর ১৫ থেকে ২০ দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে একটি মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আমার কাছ থেকে প্রায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি অর্থ ফেরত ও অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
আরেক ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মুক্তার বলেন, ছেলে ও ভাতিজাকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে হেমায়েত মোল্লার কাছে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা দেওয়া হলেও তাদের ইতালিতে পাঠানো হয়নি। বরং লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হেমায়েত মোল্লা বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গত ১৭ জুলাই তারা একটি মানববন্ধন করেছিলেন। এরই জেরে গ্রাম্য বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।