প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমছে, বাড়বে মূল্যস্ফীতি: অর্থ উপদেষ্টা
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | ১৬:২২ | আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | ১৬:২৭
চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমানো হবে এবং মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা বাড়িয়ে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
আজ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
আপনারা যখন বাজেট দিয়েছিলেন এবং এডিপির যে সাইজ দিয়েছিলেন তখন বলেছিলেন এটা রিয়েলিস্টিক, প্রেগমেটিক ওয়েতেই করা হয়েছে, এখন শোনা যাচ্ছে বাজেটকে আবার কমিয়ে আনা হবে। তাহলে আগের যে প্রেগমেটিক ওয়েতে, রিলিস্টিক ওয়েতে বাজেট করা হয়েছিল সেটা কি আমাদের ভুল ছিল? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘ওই সময়ের কনটেক্সটে ওটা রিয়ালিস্টিক ছিল। আমরা যখন বাজেট ইমপ্লিমেন্টে যাই তখন নানা রকম ইস্যুস আসে। প্রথম অর্থসংস্থানের ব্যাপার আছে। এনবিআর বন্ধ থাকার পরে আপনারা দেখেছেন আমরা যাচাই করছি, তারপর যারা ইমপ্লিমেন্ট করছে তাদের ব্যাপারে কিছুটা .. আছে, সবাই তো ইমপ্লিমেন্ট করতে পারেনি। অনেক রকম ইস্যু চলে আসে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, একেবারে আমাদের বাজেট থেকে যে একটা খুব বিরাট ব্যত্যয় ঘটবে তা না। আমরা শুধু প্রবৃদ্ধি বলেছি, প্রবৃদ্ধি আমরা কমিয়েছি, আর মূল্যস্ফীতি আমরা বলছি, সেটা ৭ করেছি। এখন এই দুইটা মেজর জিনিস আমরা রেখেছি। আর বাকিগুলো টাকার অংকগুলো খুব বেশি হেরফের হবে না মনে হয়। আমরা দেখি শেষ পদ্ধতিতে কতটুকু টেকে।
রাজস্ব বোর্ড এমনি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে বারবার। এ অবস্থায় পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কাছে পাওনা প্রায় তিন হাজার কোটি, একইভাবে পেট্রোবাংলার কাছে পাওনা হলো প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই বকেয়া টাকা উদ্ধারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা? এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তাড়া দিচ্ছি। ওদের অনেক রকম ফ্যাক্টর আছে। আমরা যে দামে পেট্রোল কিনি সেই দামে তো বিক্রি করতে পারছি না। আমরা তো প্রাইস এডজাস্ট করতে পারছি না।
তিনি বলেন, ওদের দিকটাও আছে যে পুরাপুরি আমরা ওদেরকে এলাও করছি না। আমরা যদি দিতাম যে তোমরা প্রাইস বাড়িয়ে দাও অন্তত তারা দিতে পারতো। সবদিক দেখতে হবে তো, আমরা কনসার্ন যে রাজস্ব বাড়ানোর জন্য। আমরা রাজস্ব বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছি। ট্যাক্স যেন ফাঁকি না দেয়, লিকেজ যেন না হয়। ওইদিকে বেশি নজর দিয়েছি। সবচেয়ে বেশি কিন্তু এসে ট্যাক্সটা এফেক্ট করার আদেশটা ওইখানে।
১৩ নভেম্বর ঘিরে বিভিন্ন পরিবহনে আগুন দেওয়া হচ্ছে। এতে অর্থনীতিতে কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ওটা আমি বলতে পারবে না। ওটা আমি এসেস করতে পারব না।
নির্বাচন উপলক্ষে বডি ক্যামেরা কেনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বডি ক্যামেরার ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্ত নেব, ওটা কিছু কাজ আছে বাকি। হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে ওটা আমরা করতে পারব। আমরা দেখি পারচেস মেথড আমরা চেষ্টা করব তাড়াতাড়ি এক্সপেড করতে।
