সংশোধিত শ্রম আইনের গেজেট প্রকাশ
২০ শ্রমিকের সম্মতিতেই করা যাবে ট্রেড ইউনিয়ন
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫ | ১৮:৩২
সংশোধিত শ্রম আইন অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। গেজেটে দেখা যায়, শিল কারখানার ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২০ জন শ্রমিকের সম্মতির শর্ত রাখা হয়েছে। মাত্র ২০ জন শ্রমিক মিলে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে মালিক পক্ষের আপত্তি ছিল। তাদের মতে, এতে শিল্প কারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। অন্তত ১০০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব ছিল তাদের পক্ষ থেকে। এর আগে ২০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতিতে কোন কারখানা কিংবা প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনয়ন গঠন করা যেত।
সোমবার জারি করা অধ্যাদেশের গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন সরকারের পক্ষ থেকে অধ্যাদেশটিকে আন্তর্জাতিক মানের বলে দাবি করা হয়।
নূন্যতম ২০ জনের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়নের জন্য আবেদনের কথা বলা হলেও গেজেটে শ্রমিকের সংখ্যা অনুপাতে একটি হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সংখ্যা ২০ থেকে ৩০০ জন পর্যন্ত হলে ন্যূনতম ২০ জনের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের আবেদন করা যাবে। এভাবে ৩০১ থেকে ৫০০ শ্রমিক রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৪০ জন, ৫০১ থেকে ১ হাজার ৫০০ শ্রমিকের প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন, ১ হাজার ৫০১ থেকে ৩ হাজার শ্রমিকের কারখানায় ৩০০ জন এবং ৩ হাজার ১ থেকে তার বেশি শ্রমিক থাকলে ৪০০ জনের সম্মতি লাগবে। একটি প্রতিষ্ঠানে ৫টির বেশি ট্রেড ইউনিয়ন করা যাবে না। এতোদিন সর্বোচ্চ তিনটি করা যেত।
ট্রেড ইউনিয়ন ছাড়াও সংশোধিত শ্রম আইনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার সুযোগ বাদ দেওয়া। এতোদিন চাকরি বিধি লঙ্ঘন করলে শ্রমিককে তালিকাভুক্ত করতে পারতেন। স্বংক্রিয় সিস্টেমে তথ্য ভান্ডারে এ তালিকা সব কারখানা কর্তৃপক্ষ দেখতে পেতেন। এতে চাকরিচ্যুত এবং কালোতালিকাভুক্ত শ্রমিকরা অন্য কারখানায় কাজের সুযোগ পেতেন না।
এতো দিন শ্রম আইনে শ্রমিকদের সুবিধার ভবিষ্য তহবিল গঠনের কথা বলা থাকলেও তা বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে এবার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ১০০ স্থায়ী শ্রমিক থাকলেই মালিকপক্ষকে শ্রমিকের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করতে হবে। তবে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রগতিতে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে ভবিষ্য তহবিল করা থেকে অব্যাহতি পাবে মালিকপক্ষ। এই স্কিমে মালিক ৫০ শতাংশ ও শ্রমিক ৫০ শতাংশ চাঁদা দেবেন। তবে কোনো সদস্য স্কিমে থাকতে না চাইলে লিখিতভাবে মালিকপক্ষকে জানাতে হবে।
মালিক, শ্রমিক ও সরকার- এই তিনপক্ষের ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) আলোচনা এবং সমঝোতার ভিত্তিতে সংশোধিত শ্রম আইনে আরও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। সংস্কার কমিশনের সুপারিশও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমলে নেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- শ্রম আইন
