ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া বিসিকের প্লট বাতিল হবে

নির্দেশনা দিয়েছেন শিল্প উপদেষ্টা

রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া বিসিকের প্লট বাতিল হবে
×

শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:১২ | আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) বিভিন্ন শিল্পনগরীতে যেসব প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, প্রকৃত উদ্যোক্তাদের বাইরে যাদের প্লট দেওয়া হয়েছিল, তাদের কারণেই বহু প্লট আজও খালি পড়ে আছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংস্থার বার্ষিক সম্মেলন ও কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এমন নির্দেশনা দেন তিনি। শিল্প উপদেষ্টা বলেন, এসব বরাদ্দ বাতিল করতেই হবে।

শিল্প উপদেষ্টা বলেন, দেশের শিল্পায়নের প্রধান ভিত্তি বড় করপোরেট নয়, বরং গ্রামীণ ও উপশহরে ছড়িয়ে থাকা লাখো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। ক্ষুদ্র শিল্প দেশের জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ জোগান দেয় এবং শিল্প খাতে মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে এই খাত থেকে। ফলে বিসিকের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে।

তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকটের কারণে ঢাকার বাইরে শিল্প এলাকাগুলোতে কাঙ্ক্ষিত শিল্পায়ন হয়নি। বিসিকের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ঋণপ্রাপ্তিতে বাধা, পর্যাপ্ত সেবা না পাওয়া– এসব নিয়ে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি সহজ শর্তে ঋণ, জামানতবিহীন ঋণ, ব্যাংকিং প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বিসিককে একটি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের নির্দেশনা দেন।

জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আদিলুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা অনুসরণ করে যুব উদ্যোক্তা তৈরির চেষ্টা বাড়াতে হবে, যাতে তরুণরা চাকরি খোঁজার বদলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।

একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সতর্ক করে বলেন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে শিল্প খাত দ্রুত মানিয়ে নিতে না পারলে রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সৌরশক্তির ব্যবহার ও কার্যকর পানির ব্যবস্থাপনা ছাড়া ‘গ্রিন সার্টিফিকেশন’ পাওয়া সম্ভব নয়– বলেন তিনি।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে বর্তমান ভ্যাট কাঠামো অন্যতম বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন গভর্নর। তিনি বলেন, অনেক ছোট উদ্যোক্তা ৭ থেকে ১০ শতাংশ ভ্যাট দিলেও ট্যাক্স ক্রেডিট পায় না। ফলে উৎপাদনশীলতা ও সংযোগ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়।

ঋণ বিতরণে দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে গভর্নর বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল সঠিকভাবে ব্যবহৃত না হলে তা অপচয় হওয়ার ঝুঁকি আছে। ঋণ পরিশোধ করে ঘূর্ণায়মান তহবিলের ঘাটতি পূরণ না করলে এক পর্যায় পুনঃঅর্থায়ন চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

অনলাইন বাজার, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (যেমন– পেপাল) ব্যবহার এবং প্রত্যেক উদ্যোক্তার জন্য আলাদা প্রোফাইল ও রিয়েল-টাইম ডেটা থাকা জরুরি বলে অভিমত দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমেরিকা থেকে চীনা পণ্য কেনা যায়, কিন্তু কেন বিদেশে বসে বাংলাদেশের জামদানি কেনা যাবে না? তিনি বলেন, সঠিক নীতি-সহায়তা পেলে ক্ষুদ্র শিল্প খাত আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে পারে।

আরও পড়ুন

×