ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দুপুরের পর জমে ওঠে আবাসন মেলা

দুপুরের পর জমে ওঠে আবাসন মেলা
×

শেলটেকের স্টলে কােম্পানির বিভিন্ন অফার সম্পর্কে জানতে পারছেন আগ্রহীরা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

আবাসন উদ্যোক্তাদের সংগঠন রিহ্যাবের এবারের চার দিনের মেলার তিন দিনই সরকারি ছুটির মধ্যে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবে বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি থাকে না। গতকাল রিহ্যাব মেলার দ্বিতীয় দিন বড়দিন উপলক্ষে বন্ধ ছিল। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও বড়দিনে ছুটি থাকে। 

ছুটির দিন থাকায় দ্বিতীয় দিনে জমে ওঠে আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় আয়োজন রিহ্যাব মেলা। সকালের দিকে শীত বেশি থাকায় ক্রেতা-দর্শনার্থীরা দুপুরের পর আসতে থাকেন। শেষ বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের আবাসন মেলায় বেশ ভিড় দেখা যায়। আজ শুক্রবার মেলা আরও জমে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। মেলা শেষ হবে আগামীকাল শনিবার। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত। মেলায় রয়েছে ২২০টি স্টল। 
বৃহস্পতিবার মেলা ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন। তারা বিভিন্ন কোম্পানির প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন। স্টলে থাকা কোম্পানির প্রকল্প পরিচিতির লিফলেট সংগ্রহ করছেন। বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরবর্তী যোগাযোগের জন্য পরামর্শ নিচ্ছেন। 

মেলায় অনেক প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে বিশেষ ছাড়, সহজ কিস্তি সুবিধা ও ঋণের জন্য সহায়তা। প্রথমবার ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ ও গাইডলাইন দিচ্ছে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। এক ছাদের নিচে অনেক আবাসন কোম্পানির প্রকল্প সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকায় ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে মেলায় আসছেন। 
মেলায় আসা ক্রেতা অনেকে জানান, এক জায়গায় এসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফ্ল্যাট ও প্লট প্রকল্প সম্পর্কে জানতে পারা একটি বড় সুবিধা। এর ফলে তুলনা, মূল্য যাচাই, লোকেশন, কাগজপত্র ও নির্মাণ মান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান মেলা উপলক্ষে বিশেষ ছাড়, সহজ কিস্তি সুবিধা, বুকিং ডিসকাউন্ট এবং ব্যাংক হাউজিং লোন-সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছে; যা ক্রেতার সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক।

আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করে, মেলা কেবল বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এটি ব্র্যান্ডিং ও ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ। প্রকল্প সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা, ক্রেতার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং বাজারের চাহিদা বোঝার ক্ষেত্রে মেলার আয়োজন অত্যন্ত কার্যকর। একইসঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিতে গৃহঋণ সুবিধা উপস্থাপন করাও ডেভেলপারদের জন্য বড় সুযোগ।
মেলায় ইস্টার্ন হাউজিং, শেলটেক, এশিয়ান টাউন ডেভেলপমেন্ট, আশিয়ান, ক্রিডেন্স, ট্রপিক্যাল হোমসসহ শীর্ষ পর্যায়ের অনেক আবাসন প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। তারা ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আধুনিক, পরিকল্পিত ও মানসম্মত ফ্ল্যাট এবং ল্যান্ড প্রকল্প উপস্থাপন করছে। 
শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠান শেলটেক মেলায় ৭৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করছে। এগুলো ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক স্পেস। ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, মোহাম্মদপুর, মগবাজার, ইস্কাটন ও চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে রয়েছে তাদের প্রকল্প। 

রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিপরীতে হজ ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় দক্ষিণখানের কাওলায় আশিয়ান গ্রুপ এক হাজার একর জমিতে আধুনিক আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করছে। মেলায় এই প্রকল্পের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, সেখানে তিন, পাঁচ ও দশ কাঠার প্লট পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ হবে। আশিয়ান গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, মেলায় আশিয়ান গ্রুপ গ্রাহকদের জন্য বুকিং দিলেই গোল্ড কয়েন, ডাউন পেমেন্ট পরিশোধ সাপেক্ষে আইফোন, ল্যাপটপ ও স্মার্ট টিভি উপহার দিচ্ছে।
ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তৈরি এবং নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্প নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছে ক্রিডেন্স হাউজিং লিমিটেড। মেলা উপলক্ষে তারা ক্রেতার জন্য বিশেষ মূল্যছাড়, সহজ কিস্তি সুবিধা ও বুকিং অফার ঘোষণা করেছে। 

আরও পড়ুন

×