ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শেষ হলো রিহ্যাব মেলা

বিক্রি-বুকিং হয়েছে ৩০১ কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও প্লট

আরও কয়েক দিন মেলার অফার অব্যাহত রাখবে বিভিন্ন কোম্পানি

বিক্রি-বুকিং হয়েছে ৩০১ কোটি  টাকার ফ্ল্যাট ও প্লট
×

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে চার দিনব্যাপী রিহ্যাবের আবাসন মেলা। শেষ দিনে মেলায় আসা ক্রেতা-দর্শনার্থীর একাংশ ফটাে রিলিজ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

শেষ হলো রিহ্যাব আয়োজিত চার দিনের আবাসন মেলা। এবারের মেলায় মোট ৩০১ কোটি টাকার ফ্ল্যাট, প্লট এবং বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি ও বুকিং হয়েছে। এর মধ্যে ১৭২ কোটি টাকার ফ্ল্যাট, ৭৪ কোটি টাকার প্লট এবং ৫৮ কোটি টাকার বাণিজ্যিক স্পেস। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৭৭৮ কোটি টাকা ঋণের প্রতিশ্রুতি (ব্যাংক কমিটমেন্ট) দেওয়া হয়েছে। মেলার আয়োজক সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

রিহ্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের মেলায় মোট ৪০৩ কোটি টাকার ফ্ল্যাট, প্লট এবং বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি ও বুকিং হয়েছিল। এছাড়া প্রায় এক হাজার ৯০ কোটি টাকার ব্যাংক কমিটমেন্ট এসেছিল। সেই হিসেবে এবার বিক্রি ও বুকিং তুলনামূলক কম হয়েছে। মেলায় অংশ নেওয়া একটি আবাসন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, বুকিং কম থাকার পেছনে মোটা দাগে দুটি কারণ থাকতে পারে। গত দুই দিন আগারগাঁও এলাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নানা কর্মসূচি থাকায় এলাকাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ছিল। এ কারণে দিনের একটি অংশে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম ছিল। এছাড়া গত বছর মেলা হয়েছিল পাঁচ দিনের জন্য। এবার এক দিন কমিয়ে চার দিনের আয়োজন করা হয়। এসব কারণে বিক্রি ও বুকিং কমতে পারে। 
দেশের আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় আয়োজন রিহ্যাব ফেয়ার। রাজধানীর বাংলাদেশ- চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল শনিবার রাত ৯টায় পর্দা নেমেছে মেলার। শেষ দিনও সব মিলিয়ে মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীর ভিড় ছিল। ছুটির দিন থাকায় মেলায় আগতদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিলেন চাকরিজীবী। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসেন। মেলা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে তুলনামূলক বেশি দর্শনার্থী ছিল। 

এবারের মেলায় রাজধানী ও আশপাশের এলাকার পাশাপাশি বিভাগীয় শহর ও নতুন উন্নয়ন এলাকাভিত্তিক প্রকল্পের প্রতি ক্রেতার আগ্রহ ছিল বেশি। বিক্রেতাদের অফার করা তুলনামূলক সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট, দীর্ঘ কিস্তি সুবিধা ও বুকিং মানির জন্য ছাড় বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের। একই সঙ্গে প্লট প্রকল্প, রেডি ফ্ল্যাট ও নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট—সব ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতের জন্য তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে ব্যাপকভাবে। 

মেলায় অংশ নেওয়া একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক ক্রেতা পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে একাধিক প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা, দাম, হস্তান্তর সময় ও ব্যাংক ঋণ সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ে তাদের আগ্রহ ছিল বেশি। সাধারণত শেষ দিনে এসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। কারণ মেলার বিশেষ ছাড়কে কাজে লাগাতে
চান অনেকে। তারা জানান, এ বছর ক্রেতার কাছ থেকে প্রশ্ন ছিল আগের চেয়ে বেশি বাস্তবভিত্তিক। ফ্ল্যাটের মান, হ্যান্ডওভার সময়, ড্যাপ-সংক্রান্ত বিষয়, পার্কিং, কমিউনিটি সুবিধা ও ভবিষ্যৎ রিসেল ভ্যালু–এসব নিয়ে আগ্রহী ছিলেন তারা। এতে বোঝা যায়, বাজারে সচেতন ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে।

রিহ্যাবের সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, আবাসন খাতে সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এবারের মেলা ক্রেতা ও নির্মাতাদের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধ তৈরি করেছে। এক ছাদের নিচে একাধিক প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই করার সুযোগ থাকায় সময় ও খরচ সাশ্রয় হয়েছে। অনেকেই মেলায় এসে সরাসরি বুকিং না দিলেও প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে সিদ্ধান্তের কাছাকাছি পৌঁছেছেন। 
রিহ্যাব জানিয়েছে, মেলা শেষ হলেও ক্রেতার জন্য সুযোগ এখানেই শেষ নয়। মেলায় অংশ নেওয়া বেশ কিছু কোম্পানি আগামী কয়েক দিন নিজ নিজ অফিসে মেলার অফার ও ছাড় অব্যাহত রাখবে। ফলে যারা মেলায় সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, তারা সরাসরি ডেভেলপার অফিসে গিয়ে আলোচনার সুযোগ পাবেন। 

আরও পড়ুন

×