বিদেশি ঋণের সুদ-আসল পরিশোধ বেড়েছে ১১%
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে খুব একটা ভালো সাড়া মেলেনি। নতুন ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি ও বিগত দিনের প্রতিশ্রুত অর্থছাড় উভয়ই কমেছে এ সময়। তবে একই সময়ে সুদ ও আসল মিলে পুরোনো ঋণ পরিশোধ বেড়েছে। সুদাসল পরিশোধের পরিমাণ ছাড়িয়েছে দুই বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) গতকাল বুধবার সংস্থার ওয়েবসাইটে বিদেশি ঋণের হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুতি কমেছে ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। গত ছয় মাসে ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ১ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। এ সময় অর্থছাড় কমেছে ২৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথমার্ধে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ছাড় হয় ৩ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে কমে হয়েছে ২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের গত ছয় মাসে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থারমূল ঋণ এবং সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ২ দশমিক ১৯ বিলিয়ন বা ২১৯ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ১৯৮ কোটি ডলার।
উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়ের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে ইউরোপ। মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৪ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি। গত একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ডলারের কিছু কম। এই অর্থবছর ইউরোপ ১৭২ কোটি ডলার পরিমাণ ঋণছাড় করার কথা।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থছাড় পাওয়া গেছে বিশ্বব্যাংক থেকে। যার পরিমাণ প্রায় ৫৫ কোটি ডলার। অবশ্য গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৮০ কোটি ডলারেরও বেশি। চলতি অর্থবছর বিশ্বব্যাংক ১৯০ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করার কথা। তৃতীয় সর্বোচ্চ অর্থছাড়
পাওয়া গেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে। পরিমাণে যা ৫২ কোটি ডলারের কিছু বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে সংস্থাটির অর্থ ছাড়ের পরিমাণ ছিল দ্বিগুণেরও বেশি, প্রায় ১০৫ কোটি ডলার।
- বিষয় :
- বিদেশি ঋণ
