মতবিনিময়ে উদোক্তারা
কর দেন ব্যবসায়ীরা, সুবিধা পান রাজস্ব কর্মকর্তারা
ডিসিসিআই-সমকাল-চ্যানেল ২৪ প্রাক-বাজেট আলোচনা
ডিসিসিআই, দৈনিক সমকাল ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের যৌথ আয়োজনে প্রাক-বাজেট আলোচনা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:৩৫ | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:৩৬
নিয়মিত করদাতাদের ওপরই বারবার চাপ বাড়ানো হচ্ছে, অথচ অনেকেই করের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে—যা উদ্বেগজনক। এমনকি কর দিলেও সে অনুপাতে ব্যবসায়ীরা সুবিধা পান না। মূলত কর দেন ব্যবসায়ীরা আর সুবিধা পান রাজস্ব কর্মকর্তারা। এ মন্তব্য করেছেন উদ্যোক্তারা।
আজ সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৬–২৭: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা এমন কথা বলেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), দৈনিক সমকাল ও চ্যানেল ২৪ যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। প্রতি বছর প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হচ্ছে। ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। নিয়মিত করদাতাদের ওপরই বারবার চাপ বাড়ানো হচ্ছে। অথচ অনেকেই করের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে—যা উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় প্রেক্ষাপটে বাজেট প্রণয়ন সরকার ও ব্যবসায়ীদের জন্য সমানভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে, যা বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা রপ্তানিমুখী শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ঋণের উচ্চ সুদহার, বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবাহ হ্রাস এবং জ্বালানি সংকট বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জ্বালানি আমদানিতে বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি বাস্তবসম্মত, সময়সীমাবদ্ধ ও কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, এনবিআরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানিমূলক আচরণের কারণে বেসরকারি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই কর ব্যবস্থার অটোমেশন নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এর অন্যতম কারণ হলো- অটোমেশন হলে দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। এক্ষেত্রে বেশি ক্ষতিতে পড়বে রাজস্ব আহরণকারী কর্মকর্তারা। কারণ রাজস্ব কর্মকর্তারা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন বা বোনাস হিসেবে পেয়ে থাকে, যা ব্যবসায়ীদের দুর্ভাগা করে ফেলে। কর দেন ব্যবসায়ীরা আর সুবিধা পান কর্মকর্তারা। তাই অটোমেশন নিশ্চিতের পাশাপাশি তিনি প্রান্তিক পর্যায়ে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানান।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য মনজুর হোসেন, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) এর সভাপতি মো. কাওসার আলম, আইসিএবি সভাপতি এন কে এ মবিন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চেয়ারম্যান শরীফ জহীর প্রমুখ।
