ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আইএলওর জরিপ প্রতিবেদন

কর্মভিত্তিক প্রশিক্ষণ পায় না ৯৩ শতাংশ মানুষ

কর্মভিত্তিক প্রশিক্ষণ পায় না ৯৩ শতাংশ মানুষ
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৭:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের মানুষের একটি বড় অংশ কর্মভিত্তিক প্রশিক্ষণের বাইরে থাকে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক জরিপের ফল বলছে, তিন বছরের মধ্যে ৯৩ দশমিক ৪ শতাংশ বাংলাদেশি এক দিনের জন্যও কোনো রকম প্রশিক্ষণ পাননি। অথচ ৫০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তাদের কর্মভিত্তিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন ও চাহিদা রয়েছে। এ কারণে তারা কাজের পর্যাপ্ত সুযোগ পান না। আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক–সব ধরনের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা রয়েছে। 

‘আগামীর জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষা ও দক্ষতা’ শিরোনামের জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার জেনেভায় আইএলওর সদরদপ্তর থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আজীবন শিখনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যখন কর্মীরা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পান না, তখন এটি কেবল তাদের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের ক্ষতি করে না, বরং দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। 

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক জীবনব্যাপী শিক্ষা ব্যবস্থায় জোর না দিলে ডিজিটাল, সবুজ ও জনমিতিক রূপান্তর বৈষম্য আরও প্রকট আকার নেবে। জীবনব্যাপী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে সরকারের নীতিগত কৌশলের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরমার্শ দেওয়া হয়েছে আইএলওর পক্ষ থেকে। 
কর্মী জরিপ, অনলাইন চাকরির চাহিদা বিশ্লেষণ, প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য এবং প্রশিক্ষণ কার্যকারিতা নিয়ে ১৭৪টি গবেষণার পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। বাংলাদেশে আইএলওর জরিপটি পরিচালনা করা হয় ২০২৩ সালের নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের মধ্যে। সারাদেশের ৬ হাজার ১৬৪ পরিবার থেকে একজন প্রতিনিধির সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। 
প্রতিবেদনে বলা হয়, জরিপে বাংলাদেশের ৯৩ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে গত তিন বছরের মধ্যে কর্মভিত্তিক কোনো রকম প্রশিক্ষণ পাননি। তাদের মধ্যে ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের কাজ আরও ভালোভাবে করার জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন ছিল। আনুষ্ঠানিক খাতের ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মী অনানুষ্ঠানিক শিখনের সুযোগ পান; যেখানে অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২৪ শতাংশ। 

এতে বলা হয়, ৫৭ শতাংশ ব্যবস্থাপক ও পেশাজীবী তাদের সুপারভাইজার বা সহকর্মীদের কাছ থেকে শেখার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে সাধারণ বা প্রাথমিক পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র ৩৯ শতাংশ। নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন ব্যক্তিদের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি কর্মক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক শিখন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন, যেখানে নিম্ন মাধ্যমিক সম্পন্ন না করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৩ শতাংশ।
বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন, নিয়োগদাতারা এখন প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি ‘সফট স্কিল’সম্পন্ন কর্মী খোঁজেন। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা জরুরি, যাতে পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। 

আরও পড়ুন

×