সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে দেশি-বিদেশি বেসরকারি কোম্পানি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০০
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক ও বড় ব্যবসা রয়েছে বেসরকারি খাতের এমন দেশীয় কোম্পানির জন্য শেয়ারবাজারে ডিরেক্ট লিস্টিং বা সরাসরি তালিকাভুক্তির পথ উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এ লক্ষ্যে নিজেই আইনি বিধান প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার খসড়া বিধিমালা গতকাল মঙ্গলবার কমিশন সভায় অনুমোদন হয়েছে। শিগগিরই তা জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিএসইসি মনে করছে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দেশের শেয়ারবাজার আরও গতিশীল, আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে। গত দুই বছরের বেশি সময় দরে আইপিও খরাতে ভুগতে থাকা শেয়ারবাজারে দ্রুততম সময়ে ভালো কোম্পানির শেয়ার সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
এখনও শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ আছে। স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং রেগুলেশনের আওতায় তা কেবল রাষ্ট্র মালিকানাধীন কোম্পানির জন্য সংরক্ষিত। অবশ্য ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বেসরকারি খাতের মোট পাঁচ কোম্পানি এ প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত হয়েছিল। কোম্পানিগুলো হলো–খুলনা পাওয়ার, ওশান কনটেইনারস,
নাভানা সিএনজি, এসিআই ফর্মুলেশনস এবং শাইনপুকুর সিরামিকস।
এর মধ্যে ২০১০ সালে খুলনা পাওয়ার ও ওশান কনটেইনারস (পরে তালিকাভুক্ত সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের সঙ্গে একীভূত) কোম্পানির মালিকপক্ষ নিজের শেয়ার বিক্রির জন্য তালিকাভুক্তির প্রথম কয়েকদিনে নানা কৌশলে অস্বাভাবিক দর বাড়িয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। ওই বছরের শেয়ারবাজার ধসের পর সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও এ প্রক্রিয়া সংশোধনের সুপারিশ ছিল। এরপর বেসরকারি খাতের কোম্পানির জন্য এ সুযোগ বন্ধ করা হয়।
কমিশন জানিয়েছে, সরাসরি তালিকাভুক্তি সিদ্ধান্ত এক্সচেঞ্জের লিস্টিং রেগুলেশনস নয়, নতুন বিধিমালার অধীনে হবে। বিধিমালাটি চূড়ান্ত হলে বিদেশি এবং দেশীয় বড় কোম্পানির মালিকরা নিজেদের অংশ থেকে কোম্পানির মোট শেয়ারের ১০ থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবেন। চাইলে কিছুটা আইপিও এবং কিছুটা ডিরেক্ট লিস্টিং প্রক্রিয়ায়ও বিক্রি করার সুযোগ থাকবে। তবে যে কোনো কোম্পানি এ সুযোগ পাবে না। খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি ছাড়াও বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোও সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিটিআরসি অনুমোদিত এবং কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনসম্পন্ন টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো বা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে এই সরাসরি তালিকাভুক্ত প্রক্রিয়ায় শেয়ার বিক্রির সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি দেশের বড় আকারের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যেগুলোর বার্ষিক টার্নওভার কিংবা মোট সম্পদের পরিমাণ কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা, সেগুলো অন্যান্য শর্ত পূরণসাপেক্ষে সরাসরি পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ পাবে।
গতকালের কমিশন সভায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ বণ্টন সহজীকরণ এবং নতুন ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর সময়সীমা নির্ধারণসহ একাধিক সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ২০ মে জারি করা জেড-ক্যাটেগরির শেয়ার লেনদেনসংক্রান্ত নির্দেশনাটি সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে জেড-ক্যাটেগরির কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের শেয়ার লেনদেন ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- শেয়ারবাজার