বিজিএমইএর উদ্যােগ
পোশাক খাতে ইএসজি ড্যাশবোর্ড চালু
গতকাল সােমবার পোশাক খাতের পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন (ইএসজি) ড্যাশবাের্ড উদ্বােধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানসহ অন্যরা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্ব চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে তৈরি পোশাক খাতে পরিবেশগত নিরাপত্তা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে রপ্তানি বাণিজ্যে টিকে থাকতে কারখানাগুলোকে তথ্যসমৃদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য হতে হবে। এই বাস্তবতায় পোশাক খাতে ‘ইএসজি ড্যাশবোর্ড’ চালু করেছে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ।
গতকাল সোমবার পোশাক খাতে পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন (ইএসজি) সম্পর্কিত প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পণ্যের গন্তব্য দেশের নীতিমালা মেনে পরিবেশবান্ধব কারখানা, নবায়নযোগ্য শক্তি ও কার্বন কমানোর ক্ষেত্রে পরিবেশগত মানদণ্ড, ন্যায়সঙ্গত মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত তথ্যউপাত্ত প্রাপ্তি, বিশ্লেষণ ও প্রবণতা বোঝার ড্যাশবোর্ড এটি।
রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এতে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিআইজিডির রিসার্চ পরিচালক অধ্যাপক মুন্সি সোলায়মান ও ম্যাপড ইন বাংলাদেশের (এমইবি) টেকনিক্যাল লিড অধ্যাপক মতিন আব্দুল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিএমইএর পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত সরকারের দুর্বল নীতির কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে। আগামীতে দেশের রূপকল্প বাস্তবায়নে পোশাক শিল্পের গতিশীল নেতৃত্ব বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে কারখানাগুলোকে তথ্যসমৃদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য হতে হবে। ইতোমধ্যে ৩২৬টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলেও শিগগিরই পোশাক খাতের যৌথ সুরক্ষায় এটি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে।
বিজিএমইএ পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মাদ মোস্তাফিজ বলেন, কমপ্লায়েন্সকে কেবল নিয়ম রক্ষার মধ্যে না রেখে ব্যবসায়িক সক্ষমতায় রূপান্তর করাই এই প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্য।
ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার সরকারের সংস্কার এজেন্ডায় পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, কেবল গতানুগতিক নিয়ম পালন নয়, টেকসই শিল্প পরিচালনাই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের প্রধান শর্ত।
বিআইজিডির গবেষণা পরিচালক প্রফেসর মুন্সি সোলায়মান দেশের সব পোশাক কারখানাকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া ম্যাপড ইন বাংলাদেশের কারিগরি প্রধান অধ্যাপক মতিন আব্দুল্লাহ প্ল্যাটফর্মটির কারিগরি দিকের ওপর আলোকপাত করেন। ডেনমার্ক দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় এবং বিআইজিডি ও এমআইবির কারিগরি যৌথতায় বিজিএমইএ এ সম্পর্কিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
- বিষয় :
- বিজিএমইএ