ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ইআরএফের সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী

এলডিসি থেকে উত্তরণের আগেই ইইউর সঙ্গে এফটিএ করতে চায় সরকার

এলডিসি থেকে উত্তরণের আগেই ইইউর সঙ্গে এফটিএ করতে চায় সরকার
×
×

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে আগামী বছরের মধ্যে আট থেকে ১০টি দেশের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সেপা) বা এফটিএ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখতে এসব চুক্তিকে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী প্রস্তুতির অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে দেখছে সরকার।

গতকাল সোমবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ইআরএফ ও বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ইইউর সঙ্গে এফটিএ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আলোচনার জন্য প্রধান আলোচক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার কারিগরি আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তবে দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের আগেই ইইউর সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, ইইউর বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। তবে সরকার আশা করছে, জিএসপি প্লাসের প্রয়োজন হওয়ার আগেই এফটিএ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া ২০২৬ ও ২০২৭ সালের মধ্যে আট থেকে ১০টি দেশের সঙ্গে সেপা বা এফটিএ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বিভিন্ন দেশের বাজারে বাণিজ্যসুবিধা ধরে রাখতে এ ধরনের চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ।

আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন প্রক্রিয়াগত কাজ চলছে।
এদিকে এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছানোর বিষয়ে চলতি অক্টোবরের মধ্যেই সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ধাপ বাংলাদেশ পার করেছে। এখন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) তিন বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকেও এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।

তিন বছর সময় চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের প্রস্তুতি ছিল না। অর্থনৈতিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের চেয়ে উত্তরণকে রাজনৈতিকভাবে মহিমান্বিত করার চেষ্টা হয়েছে। উত্তরণের সুবিধা কাজে লাগানো এবং সম্ভাব্য অসুবিধা মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরিতে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়নি।
বাড়তি সময় পাওয়া গেলে তা প্রস্তুতির কাজে ব্যবহারের জন্য সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে এবং তা ইইউকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, সহজ ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া ও বিরোধ নিষ্পত্তির স্বচ্ছ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফটিআইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোস্তফা আবিদ খান। তিনি এলডিসি উত্তরণের পর তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ডিএফকিউএফ বাজার সুবিধা হারানো, রপ্তানি ভর্তুকিতে নমনীয়তা কমে যাওয়া এবং ট্রিপস চুক্তি বাস্তবায়নের প্রভাবের কথা তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন

×