বিএসইসির নতুন বিধিমালা জারি
শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে বেসরকারি কোম্পানি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশের শেয়ারবাজারে বেসরকারি খাতের কোম্পানির জন্য আবারও ‘ডিরেক্ট লিস্টিং’ বা সরাসরি তালিকাভুক্তির পথ উন্মুক্ত হলো। বিদেশি এবং দেশের বড় কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারমুখী করতে এ বিধিমালা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। গত রোববার এর গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
২০১০ সালে খুলনা পাওয়ার এবং ওশান কনটেইনারের তালিকাভুক্তির তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে বিতর্কের মুখে শুধু সরকারি কোম্পানির জন্য সংরক্ষিত রেখে বেসরকারি কোম্পানির জন্য ‘ডিরেক্ট লিস্টিং’ সুবিধা বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে এরপর কোনো সরকারি কোম্পানিও এ পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হয়নি। ২০১৪ সালে বেসরকারি খাতের আমান সিমেন্ট এবং ২০২২ সালে বেস্ট হোল্ডিংস ‘ডিরেক্ট লিস্টিং’ প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত হয়ে শেয়ার বিক্রির চেষ্টা চালিয়েছিল। দুবারই বিএসইসি তা আটকে দেয়।
এর মধ্যে আমান গ্রুপের আমান সিমেন্ট ইউনিট-২ নামে সিমেন্ট কারখানা প্রতিষ্ঠার সময় ‘আমান সিমেন্ট’ নামের পুরোনো ও স্বল্প উৎপাদন ক্ষমতার কোম্পানির শেয়ার বিক্রির চেষ্টা করেছিল এর উদ্যোক্তারা। আর বিতর্কিত ব্যবসায়ী নাফিজ সরাফত সাবেক অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামালের প্রভাব খাটিয়ে বেস্ট হোল্ডিংসের শেয়ার উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে ‘ডিরেক্ট লিস্টিং’ প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা চালান।
এখন পর্যন্ত ‘ডিরেক্ট লিস্টিং’ প্রক্রিয়ায় মোট পাঁচটি বেসরকারি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৯ সালে নাভানা সিএনজি এবং ২০১০ সালে তালিকাভুক্ত খুলনা পাওয়ার বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানি হিসেবে চিহ্নিত। ২০০৮ সালে তালিকাভুক্ত শাইনপুকুর সিরামিক এখন ‘বি’ ক্যাটেগরির শেয়ার। ২০১০ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া ওশান কনটেইনার পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক পুনর্গঠনের মাধ্যমে একই ব্যবসায়িক গ্রুপের সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়। সরাসরি তালিকাভুক্ত হওয়া কেবল এসিআই ফর্মুলেশন এখন পর্যন্ত ভালো ও সন্তোষজনক অবস্থায় আছে।
টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে আইপিওশূন্য বাজারকে সক্রিয় করতে বর্তমান বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে বেসরকারি কোম্পানির জন্য ‘ডিরেক্ট লিস্টিং’ পুনরায় চালু অন্যতম। বিএসইসি আশা করছে, শেয়ারের কাঙ্ক্ষিত বা সঠিক মূল্য না পাওয়া, ব্যবসার জন্য নতুন করে অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজন না থাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিল আইপিও প্রক্রিয়ার কারণে অনেক ভালো কোম্পানি বাজারে আসতে চায়নি। এই প্রক্রিয়া তাদের চাহিদা পূরণ করবে। তবে অতীতের অনিয়ম ও অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার যাতে কোনোভাবে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য বিএসইসি এবার বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং রেগুলেশনের বদলে পৃথক বিধিমালা (রুলস) প্রণয়ন করেছে।
কোন ধরনের কোম্পানি সুযোগ পাবে
সরাসরি তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ায় কোম্পানির মালিকরা সরাসরি সেকেন্ডারি শেয়ারবাজারে নিজেদের শেয়ার বিক্রি করবেন। তবে সব কোম্পানি এ সুযোগ পাবে না। কেবল সরকারের অন্তত ১০ শতাংশ মালিকানা আছে, বা অন্তত ৫১ শতাংশ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি হতে হবে। এর বাইরে অন্তত ৫০০ কোটি টাকার নিট সম্পদ থাকা তপশিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানি, বার্ষিক অন্তত এক হাজার কোটি টাকা টার্নওভার থাকা কোম্পানি এবং স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে আরও কিছু শর্ত যুক্ত করেছে বিএসইসি। আগ্রহী কোম্পানিকে অন্তত টানা পাঁচ বছর বাণিজ্যিক উৎপাদনে থাকতে হবে। শেষ দুই আর্থিক বছরে মূল কার্যক্রম থেকে মুনাফায় থাকতে হবে। ব্যবসা কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থের প্রবাহ অনুকূলে থাকতে হবে। কোনো পুঞ্জীভূত লোকসান থাকা চলবে না। পাশাপাশি উদ্যোক্তা বা যারা শেয়ার বিক্রি করবেন, তাদের ঋণখেলাপি থাকা যাবে না। তালিকাভুক্তির পর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের যৌথভাবে অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
কারা শেয়ার বিক্রি করবে, দর কী হবে
কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক এবং প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডাররা তাদের শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়ায় তাদের মূল পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে হবে। মার্চেন্ট ব্যাংকারের পরামর্শ নিয়ে সম্পদ, দায় ও আয় বিবেচনায় শেয়ারের যৌক্তিক মূল্য বা ‘রেফারেন্স মূল্য’ ঠিক করবে। তবে শেয়ার বিক্রির সময় এর তুলনায় অন্তত ২৫ শতাংশ কমিয়ে সর্বনিম্ন বিক্রি মূল্য প্রকাশ করতে হবে। বিনিয়োগকারী প্রথম দুই দিনে এর কমে শেয়ার কেনার আদেশ দিতে পারবেন না।
- বিষয় :
- শেয়ারবাজার