শর্ত সাপেক্ষে কিছু বিও হিসাবের স্থগিতাদেশ তুলে নিল বিএসইসি
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ২১:৪২
গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রভাবশালী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছয় শতাধিক বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট স্থগিত (ফ্রিজ) করেছিল শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। দুই বছর পর আজ মঙ্গলবার এর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিও অ্যাকাউন্ট থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম। তকে কত অ্যাকাউন্ট থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।
জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র আবুল বলেন, কয়েকজন ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে কিছু বিও অ্যাকাউন্টে শুধু শেয়ার কেনা বা বেচার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এমন অ্যাকাউন্ট থেকে কোনোভাবেই টাকা উত্তোলন করা যাবে না। ‘লিংক অ্যাকাউন্ট’ করে অন্য কোনো বিও অ্যাকাউন্টে শেয়ার স্থানান্তরও করা যাবে না। তবে মার্জিন ঋণ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ঋণ সমন্বয়ের স্বার্থে শেয়ার বিক্রি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে নিতে পারবে।
বিএসইসি সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন ব্যক্তির দুর্নীতির তদন্ত বা অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাদের নিজ নামেরসহ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ছয় শতাধিক বিও অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাশাপাশি আদালতের আদেশে। এর বাইরে নিজস্ব অনুসন্ধান ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি নিজস্ব ক্ষমতাবলেও বহু বিও অ্যাকাউন্টে লেনদেন স্থগিত করেছিল।
দীর্ঘদিন বিচারপ্রক্রিয়া ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য বিও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ রাখার বৈধতা নিয়ে সম্প্রতি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন কয়েকজন অ্যাকাউন্টধারী। রিট করার আগে এদের কেউ কেউ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য বিএসইসির কাছে লিখিত আবেদনও করেছিলেন।
এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার কমিশন এসব অ্যাকাউন্টের মধ্য থেকে কতিপয় অ্যাকাউন্টের ওপর জারি করা স্থগিতাদেশ শর্ত সাপেক্ষে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালত, বিএফআইইউ কিংবা সিআইডির আদেশে স্থগিত হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। কেবল বিএসইসি তদন্তের খাতিরে নিজ উদ্যোগে যেসব বিও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল, সেগুলোর মধ্য থেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে কিছু সাধারণ অ্যাকাউন্টে লেনদেনের এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত ২০২৪ সালের মে থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবার, চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, সাবেক পাঁচ মন্ত্রী এবং বেক্সিমকো সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বিএমবিএর সাবেক সভাপতি ছায়েদুর রহমানসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ বিও অ্যাকাউন্ট স্থগিত ও তথ্য তলব করা হয়েছিল।
নেগেটিভ ইক্যুইটি অ্যাকাউন্টে লেনদেনে তদন্ত
মার্কেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজে নেগেটিভ ইক্যুইটি অ্যাকাউন্টগুলোতে শেয়ার কেনাবেচা ও ফান্ড ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে কোনো আইন বা বিধিমালার লঙ্ঘন হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি অনুসন্ধান আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে ব্রোকারেজ হাউসটির নেগেটিভ ইক্যুইটি অ্যাকাউন্টের তালিকা, বকেয়া ঋণের পরিমাণ, শেয়ারের বাজারমূল্য এবং এসব অ্যাকাউন্টে সরাসরি কিংবা সুবিধাভোগী, নমিনি ও পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয়-বিক্রি বা ফান্ড ট্রান্সফার করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট ফি আদায়, মার্জিন হিসাবের শর্তাবলি এবং পরিচালক, সিইও ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে।
এছাড়া এসএমই প্ল্যাটফর্মের কোম্পানি ওয়েব কোটস এবং কৃষিবিদ সিড নামক দুই কোম্পানি কিউআইও প্রক্রিয়ায় উত্তোলিত অর্থ প্রসপেক্টাস ও কমিশনের সম্মতিপত্রের বিবরণ অনুযায়ী সঠিকভাবে ব্যবহার করেছে কিনা তা সরেজমিন যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- বিএসইসি