ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

এই সিটি নির্বাচন গণতান্ত্রিক রাজনীতির 'টার্নিং পয়েন্ট'?

এই সিটি নির্বাচন গণতান্ত্রিক রাজনীতির 'টার্নিং পয়েন্ট'?
×

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:৩৭

ইউরোপ ও এশিয়ার অধিকাংশ দেশের নির্বাচনের মধ্যে পার্থক্য কী? প্রথম ব্রিটেনের মাটিতে পা রেখেই সেটা বুঝতে পেরেছি। দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন যে হচ্ছে, তা বোঝা যায় না। ভোট দেওয়ার জন্য ছুটি দেওয়া হয় না। অফিস-আদালত বন্ধ থাকে না। কোনো হৈচৈ-মিছিল-মিটিং নেই। একটি সাধারণ কর্মদিবসের মতো দিনটি কাটে। প্রতি পাড়ায় এক বা একাধিক ভোটদান কেন্দ্র থাকে। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট দেওয়া চলে। ভোটদাতারা অফিসে যাওয়ার মুখে অথবা বাড়ি ফেরার মুখে ভোট দেওয়ার নাগরিক দায়িত্ব পালন করেন।

ইউরোপীয় দেশগুলোতে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার চলে একেবারেই শান্তভাবে। নির্বাচন-প্রার্থীরা অথবা তাদের সমর্থকরা নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যান। প্রচারপত্র বিলি করেন। কোনো প্রার্থী হয়তো ভোটদাতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ কাজগুলো তারা এমন নীরবে করেন যে, তারা এক বাসায় গেলে পাশের বাসা তা টের পায় না। জয়ী প্রার্থীরা বিজয় মিছিল বের করেন না। বাজি পোড়ানো, ঢোল বাজানো হয় না।

এশিয়ার অধিকাংশ দেশে, বিশেষ করে উপমহাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ধরনই আলাদা। হৈচৈ-মিছিল-মিটিং ছাড়া আমাদের দেশে কোনো নির্বাচনই হয় না। তার অনুষঙ্গ থাকে কখনও কখনও দাঙ্গা-হাঙ্গামা, খুন-খারাবি। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে পরাজিত প্রার্থীর বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল। সাধারণ নির্বাচনে কেন, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেও হৈচৈ-মিটিং-মিছিল অবশ্যই নিত্যকর্ম। এ ক'দিন সাধারণ মানুষ ঘুমাতে পারে না।

আমরা বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতি শিখেছি ইউরোপের কাছ থেকে। কিন্তু ইউরোপের মতো শান্ত পরিস্থিতি ও পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারি না। আমরা ভোটদানের দিন ছুটি চাই। অফিস-আদালত বন্ধ রাখতে চাই। স্বদলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে সারা এলাকাজুড়ে হৈচৈ করতে চাই। স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখতে চাই ইত্যাদি।

১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল দু'দিন আগে। সেদিন সরস্বতী পূজা ছিল। সুতরাং নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবি ওঠে, আন্দোলন করারও হুমকি দেওয়া হয়। সরকার পূজার দিনে এই নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে এবং তারিখ সরিয়ে ভালোই করেছিল। বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দাবি ও সেন্টিমেন্টের প্রতি সরকার সম্মান দেখিয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে ইংল্যান্ডে কী হয়? ঈদ বা কোনো পূজার দিনে নির্বাচনের তারিখ পড়লে হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের ভোটদাতারা উৎসবের ফাঁকে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে ভোট দিয়ে আসেন। ভোট দেওয়াটা কয়েক মিনিটের ব্যাপার। তাতে দৈনন্দিন কাজকর্মের কোনো ব্যাঘাত হয় না। আমাদের দেশে ভোট দেওয়াটা দিনজুড়েই প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কাছে স্পেনের বুলফাইটের মতো উৎসব। কিছু লোক রক্তে রঞ্জিত না হলে এ উৎসব শেষ হয় না।

পবিত্র ভাষার মাসের প্রথম দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের মেয়র পদে নির্বাচন। প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বিএনপি নির্বাচনে যোগ দেওয়ায় দেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ ফিরে পাবে। আমি ইউরোপে থাকি। দূরে বসে এই নির্বাচনে কতটা হৈহল্লা হচ্ছে, জানি না। আশা হচ্ছে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল এবারের নির্বাচনে কোনো হৈচৈ করছে না। নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানানোর নামে যুবলীগ অথবা ছাত্রলীগ কোনো ধরনের অতি উৎসাহ দেখাচ্ছে না। দুই দলের প্রচার-প্রপাগান্ডাই গণতান্ত্রিক সংযমের সীমারেখা মেনে চলছে।

এটা যদি হয় এবং জয়ী ও পরাজিত উভয় দলই নির্বাচনের রায় সন্তুষ্ট মনে মেনে নেয়, তাহলে এই নির্বাচন হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটি টার্নিং পয়েন্ট। এটা হলে ভবিষ্যতের সাধারণ নির্বাচনও সব দলের অংশগ্রহণে সংঘাত ও পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপবিহীন নির্বাচন হবে- এই আশা পোষণ করা যায়।

এবারের ঢাকা সিটি উত্তর ও দক্ষিণের দুই মেয়র নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। দুই দলই যোগ্য ও তরুণ প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। আওয়ামী লীগ দক্ষিণে মনোনয়ন দিয়েছে শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির পুত্র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে এবং বিএনপি দিয়েছে সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার পুত্র ইশরাক হোসেনকে। উত্তরের কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সিটিং মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে শিল্পপতি আবদুল আউয়াল মিন্টুর পুত্র তাবিথ আউয়ালকে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট দল ও জাতীয় পার্টিসহ আরও কয়েকটি দলের প্রার্থী উত্তর ও দক্ষিণ দুই কেন্দ্রেই মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে অনুমান করা চলে, আসল যুদ্ধটা হবে প্রধান দুই দলের মধ্যে।


আমি আশা প্রকাশ করছি, নির্বাচনটি শান্তিপূর্ণভাবে হবে। কিন্তু বিএনপি ইতোমধ্যেই ইসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে এবং তাদের এক প্রার্থীর প্রচার মিছিলে হামলা হওয়ার কথা বলেছে। বিএনপির এই প্রার্থী যদি নির্বাচিত হন তাহলে দেখা যাবে, এসব অভিযোগ শূন্যে উবে যাবে। আর পরাজিত হলে এই নির্বাচন যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি, তা প্রমাণ করার জন্য এই অভিযোগগুলো ব্যবহার করবে।

আমি সাংবাদিক, গণক নই। তাই সিটি করপোরেশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের মেয়র নির্বাচনে কোন দল জয়ী হবে, তা হলফ করে বলতে পারব না। কিন্তু আজকের দিনটির দিকনির্দেশনা দেখে মনে হয়, দক্ষিণের কেন্দ্রে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস সহজ বিজয়ের অধিকারী হবেন। শুধু শেখ মনির পুত্র হিসেবে নয়, তার নিজের গুণেই তিনি নির্বাচকমণ্ডলীর কাছে জনপ্রিয়। সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িয়েও তিনি এই জনপ্রিয়তার জোরে জিতেছেন। সংসদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবেও তিনি যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন।

ব্যারিস্টার তাপসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার পুত্র ইশরাক হোসেন। একমাত্র সাদেক হোসেন খোকার পুত্রের পরিচয় দেওয়া ছাড়া তার আর কোনো যোগ্যতার পরিচয় আছে কিনা জানি না। মৃত্যুর পর সাদেক হোসেন খোকাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বলাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ঢাকার গোপীবাগ ও টিকাটুলী এলাকায় কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তা আমার জানা। একজন মৃতের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শিত হবে বিধায় তা নিয়ে আলোচনা করব না।

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে সাদেক হোসেন খোকা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে ঢাকার রাস্তার নামকরণের ব্যবস্থা করেন। দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের আসল নেতাদের পাশ কাটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিতর্কিত নেতা পরবর্তীকালে বিএনপির নেতা এবং তার ব্যক্তিগত কোনো বন্ধুর নামে ঢাকার প্রধান রাস্তাগুলোকে চিহ্নিত করেছেন।

সাদেক হোসেন খোকা ঢাকার মেয়র থাকাকালে গ্রেটার লন্ডনের সিটি করপোরেশনের অত্যন্ত জনপ্রিয় মেয়র ছিলেন কেন লিভিং স্টোন। এই সময় প্রস্তাব ওঠে ঢাকা ও লন্ডনকে টুইন সিটি হিসেবে ঘোষণা করার। লন্ডনে এই টুইন সিটির উদ্বোধনের তারিখ ধার্য করা হয় ১৫ আগস্ট। বাংলাদেশের জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের দিনটি। আমাদের জাতীয় শোক দিবস।

আমি অনেকের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়েছিলাম। প্রতিবাদ জানানোর জন্য আমি এই অনুষ্ঠানে যাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রয়াত অধ্যাপক ড. সারওয়ার মুর্শেদের ছেলে কুমার মুর্শেদ তখন পূর্ব লন্ডনের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং কেন লিভিং স্টোনের একজন অ্যাডভাইজার। অনুষ্ঠানেই আমি তার কাছে কেন লিভিং স্টোনের সঙ্গে কথা বলতে চাই বলে ইচ্ছা প্রকাশ করি। তিনি আমাকে ব্যবস্থা করে দেন।

আমি কেনকে জানাই, ১৫ আগস্ট আমাদের জাতির পিতার মৃত্যুদিবস। বাঙালি জাতির শোক দিবস। এই দিনটি কেন 'ঢাকা-লন্ডন টুইন সিটি' ঘোষণার দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে! কেন এত বড় ব্রিটিশ নেতা হওয়া সত্ত্বেও জোড় হাতে আমার কাছে মাফ চাইলেন! বললেন, সরি সরি, ১৫ আগস্ট যে ওই মহামানবের মৃত্যুদিবস, তা আমার জানা ছিল না। তারিখটা ঢাকার মেয়র নির্ধারণ করেছেন। এমন ভুল আর হবে না।

সাদেক হোসেন খোকা একটু দূরেই দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন, কেন লিভিং স্টোনের সঙ্গে আমার কী কথা হচ্ছে। তিনি ছুটে আমার কাছে এলেন। আমতা আমতা করে বললেন, গাফ্‌ফার ভাই, এটা আমাদের একটা বড় ভুল হয়ে গেছে। এটা যে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদিবস তা আমার মনে ছিল না। আমি তিক্ত স্বরে তাকে বলেছি, আপনাদের এই দিনটি মনে থাকবে কেন? আপনাদের নেতা জিয়াউর রহমানই তো এই হত্যাকাণ্ডের একজন প্রধান হোতা। সাদেক হোসেন খোকা অধোমুখে রয়েছেন, আমার কথার কোনো জবাব দেননি। দেশ স্বাধীন হওয়ার অব্যবহিত পর গোপীবাগ এলাকায় আমি থাকতাম। তার কাণ্ডকীর্তি আমার অজানা ছিল না। তিনি আমাকে ভয় করে চলতেন। এই সাদেক হোসেন খোকার পুত্র ইশরাক হোসেন। তার আমি মঙ্গল কামনা করি। ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের মেয়র পদে তাকে দেখার ব্যাপারে আমার আগ্রহ নেই।

ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তরের মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন সিটিং মেয়র আতিকুল ইসলাম। আগেও আমি বলেছি, তিনি একজন যোগ্য মেয়র। নগর উন্নয়নে তার ত্রুটি নেই। কেবল ডেঙ্গুজ্বরের মশা যথাসময়ে নিধনের ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা ছাড়া। তার প্রতিদ্বন্দ্বী তাবিথ আউয়ালের সম্পর্কে আমার তেমন কিছু জানাশোনা নেই। তবে তার পিতাকে আমি ভালো করে চিনি। সুবিধাবাদী রাজনীতিতে তার মতো পারদর্শী খুব কম আছেন। আজ ফুলের মালা হাতে শেখ হাসিনার কাছে উপস্থিত হয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তো কালই সেই ফুলের মালা বাসি না হতেই তা নিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে হাজির হন এবং বিএনপিতে যোগ দেন।

সংসদীয় নির্বাচনে তিনি জুত করতে না পেরে এই ছেলেকে নিজের ডামি হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়েও ব্যর্থ হন। এখন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আবার তার ডামি হিসেবে বিএনপির টিকিটে পুত্রকে দাঁড় করিয়েছেন। ভোটদাতারা এই প্রার্থী কার ডামি, তা বুঝতে ভুল করবেন কি? সত্য কথা বলতে কি, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কমিউনিস্ট পার্টি এখন কোনো মেজর পার্টি না হলেও এবং মেয়র নির্বাচনে তাদের জয়ের আশা না থাকা সত্ত্বেও বর্তমান মেয়র নির্বাচনে তাদের এক প্রার্থীর নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো আমার ভালো লেগেছে।

সিটি করপোরেশনের বর্তমান অবস্থায় এসব প্রতিশ্রুতিদান প্রার্থীদের এখতিয়ার-বহির্ভূত। সুতরাং প্রতিশ্রুতিগুলো কমিউনিস্ট পার্টি অযথাই দিয়েছে। কিন্তু তার নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত প্রতিশ্রুতিগুলো সিটি করপোরেশনের ক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য একজন নির্বাচন প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি না হয়ে শহরের নাগরিকদের দাবি হলে এবং সেই দাবি সরকার পূরণ করলে, দেশে সত্যিই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হতো; স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর জনকল্যাণের প্রকৃত ক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ত।

সিটি করপোরেশনগুলোকে নগর সরকারে পরিণত করা এবং এই সরকারের হাতে শহরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নয়নের দায়িত্ব প্রদান, নগর সরকারের অধীনে নগর পুলিশ গঠন ইত্যাদি দাবি আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ হানিফও মেয়র থাকাকালে তুলেছিলেন। আওয়ামী লীগ তখন ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা সংক্রান্ত মন্ত্রী তার হাত থেকে অনেক ক্ষমতা চলে যাওয়ার ভয়ে এই দাবি পূরণে রাজি হননি।

আমার ধারণা, সিটি করপোরেশনগুলোকে নির্বাচিত সিটি গভর্নমেন্টে রূপান্তরিত করে প্রয়োজনীয় অর্থ ও ক্ষমতা দেওয়া না হলে যত ভালো মেয়রই নির্বাচিত হোন, তিনি খুব বেশি সাফল্য দেখাতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে আমার আশা, শেখ ফজলে নূর তাপস যদি আজকের নির্বাচনে জয়ী হন (জয়ী হবেন বলেই আমার দৃঢ়বিশ্বাস), তাহলে তিনি নগর সরকার গঠনের ব্যাপারটি বিবেচনা করে দেখবেন। তিনি শুধু উচ্চশিক্ষিত নন, ইউরোপীয় দেশগুলোতে দীর্ঘকাল বাস করেও সেখানকার ইউনিটারি (এককেন্দ্রিক) গভর্নমেন্টগুলোরও (যেমন ব্রিটেন) ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের নীতি এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর গঠন প্রকৃতির কথা জানেন।

ব্যারিস্টার তাপস যদি ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর অনুসরণে নগর সরকার গঠনের দিকে নজর দেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও সমর্থন ও সহযোগিতা পাবেন। তিনি এ কাজে সফল হলে তাকে অনুসরণ করে দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভাগুলো অধিকতর ক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির সঙ্গে জনকল্যাণেও বড় ধরনের সাফল্য দেখাতে পারবে। আমি আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীরই সাফল্য কামনা করি।

লন্ডন, ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, ২০২০

আরও পড়ুন

×