ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

৭ নভেম্বরের সেনা অভ্যুত্থান কতটা 'বৈপ্লবিক'

৭ নভেম্বরের সেনা অভ্যুত্থান কতটা 'বৈপ্লবিক'
×

ড. নাদির জুনাইদ

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০১৯ | ১৩:১০

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশে পাল্টা সেনা অভ্যুত্থানের কারণে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কি কোনো বৈপ্লবিক তাৎপর্য আছে? বলা হয়, সেদিন সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈন্যদের একটি বিপ্লব হয়েছিল। সেদিন তোলা কিছু ছবিতে দেখা যায়, শহরের পথে ট্যাঙ্ক আর ট্রাকে আনন্দিত ভাব নিয়ে বসে আছে কিছু সৈন্য। আর তাদের পাশে উল্লাস করছে কিছু পথচারী। প্রশ্ন করতে হয়, ট্যাঙ্কে বসা এই সৈনিকদের আনুগত্য ছিল কাদের প্রতি? এই ট্যাঙ্কগুলো ছিল সেই সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একমাত্র সাঁজোয়া বা আর্মার্ড রেজিমেন্ট বেঙ্গল ল্যান্সার্সে। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার সঙ্গে যুক্ত সেনাসদস্যদের সহায়তা করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল এই ট্যাঙ্কগুলো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী সেনাবাহিনীর তৎকালীন মেজর সৈয়দ ফারুক রহমান তখন ছিলেন বেঙ্গল ল্যান্সার্সের উপঅধিনায়ক।


বেঙ্গল ল্যান্সার্স আর টু ফিল্ড আর্টিলারি- সেনাবাহিনীর এই দুটি সাঁজোয়া ও গোলন্দাজ ইউনিট বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে যুক্ত সামরিক অফিসারদের অনুগত ছিল। টু ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টের অধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার আরেকজন প্রধান পরিকল্পনাকারী তৎকালীন মেজর খন্দকার আবদুর রশিদ। বেঙ্গল ল্যান্সার্সের ৩০টি ট্যাঙ্ক আর টু ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টের ১৮টি কামান নিয়ন্ত্রণে রেখেই বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে যুক্ত সেনা অফিসাররা ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে। বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে তারা অবস্থান নেয়। বঙ্গভবনের পাশে তাদের নিরাপত্তার জন্য রাখা হয় কিছু ট্যাঙ্ক।

বঙ্গবন্ধু হত্যায় যুক্ত সেনা অফিসারদের বিরুদ্ধে ১৫ আগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যান্য ইউনিট এবং রক্ষীবাহিনী কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি। এই অফিসারদের নিষ্ফ্ক্রিয় করার জন্য প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হয় ১৯৭৫ সালের ২ নভেম্বর। খালেদ মোশাররফ আর শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর কয়েকটি পদাতিক ইউনিট এবং বিমানবাহিনীর কিছু যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বঙ্গভবনে অবস্থানরত ফারুক-রশিদ-ডালিম-নূর চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করা হয়। কোনো সংঘর্ষ ছাড়াই এই অফিসারদের নিষ্ফ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছিল। পদাতিক বাহিনী আক্রমণ করবে শুনে বেঙ্গল ল্যান্সার্সের সৈন্যরা তাদের পোশাক খুলে পালিয়ে যায়। তাদের পোশাক পড়ে থাকে বঙ্গভবনের মাঠে। ফারুক-রশিদ-ডালিম-নূর চক্রকে ক্ষমতাহীন করতে পারলেও সেই সময় খালেদ মোশাররফ-শাফায়াত জামিল কারাগারে বন্দি চারজন জাতীয় নেতাকে মুক্ত করা বা কারাগারে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি কেন- এ প্রশ্নটি করতে হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে যুক্ত সেনা অফিসাররা দেশত্যাগ করার আগেই একটি ঘাতক দল কারাগারে ঢুকে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে।

খালেদ মোশাররফ-শাফায়াত জামিলের অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পর ট্যাঙ্কগুলো সেনানিবাসে ফিরিয়ে আনা হলেও বেঙ্গল ল্যান্সার্স আর টু ফিল্ড আর্টিলারি- ফারুক-রশিদ-মোশতাক চক্রকে সমর্থনকারী এই দুটি সেনা ইউনিটের সদস্যদের তখন নিরস্ত্র করা হয়নি। ফলে এই দুটি ইউনিট খালেদ মোশাররফের বিরুদ্ধে পাল্টা অভ্যুত্থানে খুব সহজেই যুক্ত হতে পেরেছিল। ৭ নভেম্বর বেঙ্গল ল্যান্সার্সের ট্যাঙ্কগুলো আবার দেখা যায় ঢাকার রাজপথে। আর বন্দিদশা থেকে জেনারেল জিয়াকে মুক্ত করে নিয়ে যাওয়া হয় টু ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টে। সেদিন জিয়াকে মুক্ত করার ব্যাপারে সামরিক বাহিনীতে থাকা জাসদের গণবাহিনীর গোপন সংগঠন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্যরাও সক্রিয় ছিল। জাসদ সমর্থনকারী এই বামপন্থি সেনাসদস্যরা এবং মোশতাক-ফারুক-রশিদের অনুগত ডানপন্থি সেনাসদস্যরা- এই দুটি গোষ্ঠীই ৭ নভেম্বর হয়ে উঠেছিল খালেদ মোশাররফের প্রতিপক্ষ। বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা ১২ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে ৭ নভেম্বর সেনা অভ্যুত্থান করেছিল। তাদের কর্মসূচিতে তারা উল্লেখ করেছিল, তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে গরিব শ্রেণির স্বার্থ রক্ষার একটি গণবাহিনীতে পরিণত করতে চায়। তাদের প্রধান দাবি ছিল সেনাবাহিনীতে অফিসার ও জওয়ানদের ভেদাভেদ দূর করতে হবে এবং অফিসার ও জওয়ানদের একই রেশন ও একই রকম থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।

জাসদের গণবাহিনীর প্রধান কর্নেল আবু তাহের প্রচলিত কাঠামোর সেনাবাহিনীর পরিবর্তে জাতীয় উন্নয়নের জন্য কৃষক-শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করবে এমন একটি উৎপাদনমুখী সেনাবাহিনী গঠন করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের প্রচলিত কাঠামো ভেঙে দেওয়ার বিপ্লব সফল করার জন্য বেশিরভাগ অফিসার ও সৈনিক যে তখন মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না, তা ৭ নভেম্বর-পরবর্তী ঘটনাগুলোর মাধ্যমেই বোঝা যায়। জিয়া মুক্ত হওয়ার পর বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার দাবি অনুযায়ী কাজ করেননি। বরং কিছুদিন পরই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কর্নেল তাহেরকে। সেনাবাহিনীর গতানুগতিক ধাঁচ পরিবর্তনের জন্য উৎসাহী হয়ে ৭ নভেম্বর অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সৈনিকদের তৎপরতাও দ্রুতই থেমে যায়। কারণ সেনাবাহিনীর বহু সদস্যই এমন পরিবর্তনের প্রতি আগ্রহ দেখাননি। সেনাবাহিনীতে তখন ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠেন জিয়া এবং তার ঘনিষ্ঠ অফিসাররা। সেনাবাহিনীর প্রচলিত কাঠামো পরিবর্তন করার কোনো আগ্রহ তাদের ছিল না।

সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন টিকে থাকা কাঠামো পাল্টে দেওয়া কোনো সহজ কাজ নয়। বহু সেনাসদস্যের প্রথাগত মানসিকতা পরিবর্তন না করে এমন পরিকল্পনা সফল করা সম্ভব না। কিন্তু ১৯৭১ সালে একটি গণযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অধিকাংশ সদস্যের সেনাবাহিনীর ঔপনিবেশিক কাঠামো পরিবর্তন করার মতো বিপ্লবী মানসিকতা ছিল না। এ কারণেই কর্নেল তাহেরের উৎপাদনমুখী সেনাবাহিনী তৈরি করার পরিকল্পনা ব্যাপক সমর্থন পায়নি। আর সেই সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পাকিস্তান-প্রত্যাগত অনেক সেনাসদস্য ছিলেন, যাদের মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি গণযুদ্ধে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ছিল না। তারা সেনাবাহিনীর চিরাচরিত চিন্তাধারা অনুযায়ী ভাবতেই অভ্যস্ত ছিলেন। ৭ নভেম্বর বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা এবং মোশতাক-ফারুক-রশিদ চক্রকে সমর্থন দেওয়া সেনা ইউনিটগুলো; উভয়েরই লক্ষ্য ছিল জিয়াকে মুক্ত করা। মোশতাকপন্থি সেনাসদস্যরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমর্থক নয়, বরং তারা প্রতিক্রিয়াশীল। উৎপাদনমুখী সেনাবাহিনী গঠনের প্রতি তাদের আগ্রহ থাকবে- তাও ভাবা যায় না। খালেদ মোশাররফ-শাফায়াত জামিল মোশতাকপন্থিদের ক্ষমতাহীন করেছিলেন। তাই ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানে মোশতাক-ফারুক-রশিদের পক্ষে থাকা সেনাসদস্যরা খালেদ মোশাররফের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

জিয়া মুক্ত হওয়ার পর কর্নেল তাহেরের অনুসারী সেনাসদস্যদের গুরুত্ব দেননি। এমনকি কর্নেল তাহেরকে গ্রেপ্তার করার পর এই সেনাসদস্যরা কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। বোঝা যায়, সেনাবাহিনীতে জাসদের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার যথেষ্ট প্রভাব ছিল না। যদি ৭ নভেম্বর জেনারেল জিয়ার কাছে সামরিক বাহিনীর অধিকাংশ সৈনিক সেনাবাহিনীর কাঠামো পরিবর্তনের দাবি জানাত, তাহলে জিয়া সে দাবি উপেক্ষা করতে পারতেন না। কিন্তু সেদিন জিয়া মুক্ত হওয়ার পর কর্নেল তাহেরের দাবি অনুযায়ী সেনাবাহিনীর কাঠামোতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা না দিলেও সেনাবাহিনীর বহু সদস্য সে কারণে জিয়ার প্রতি বিরূপ হননি। বরং সেনাবাহিনীতে জিয়ার ক্ষমতা বাড়তে থাকে। বঙ্গবন্ধু হত্যায় যুক্ত অফিসারদের বিরুদ্ধে খালেদ মোশাররফ-শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে ঘটা অভ্যুত্থানে জিয়ার ঘনিষ্ঠ সামরিক অফিসাররা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেননি। ৭ নভেম্বর জিয়া মুক্ত হওয়ার পর সেনাবাহিনীতে জিয়ার ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন অফিসার যেমন মীর শওকত আলী, আবুল মঞ্জুর, আমিনুল হক, মইনুল হোসেন চৌধুরী, নুরুল ইসলাম শিশু প্রমুখ অফিসার প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। ফলে ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীর প্রচলিত কাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য সেনাবাহিনীর অধিকাংশ সৈনিক বিপ্লবী হয়ে উঠেছিল- তা বলা যায় না। সেনাবাহিনীর কাঠামো বদলে ফেলা নয়, ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান সীমিত থাকে জিয়াকে মুক্ত করা আর খালেদ মোশাররফকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার মধ্যেই। ক্ষমতার সেই পরিবর্তন সেনাবাহিনীতে কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেনি। ফলে ৭ নভেম্বরের সেনা অভ্যুত্থানের কোনো বৈপ্লবিক তাৎপর্য নেই।

১৯৭৫ সালে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে। ঘাতকরা এর পর হত্যা করে চার জাতীয় নেতাকে। আর ৭ নভেম্বরের সেনা অভ্যুত্থানের পর হত্যা করা হয় জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীরউত্তম, কর্নেল নাজমুল হুদা বীরবিক্রম আর লেফটেন্যান্ট কর্নেল এটিএম হায়দার বীরউত্তম- এই তিনজন বিখ্যাত মুক্তিযোদ্ধাকে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এই তিন অফিসার অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। কে ফোর্স এবং ২ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী খালেদ মোশাররফ মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন। ৮ নম্বর সেক্টরের একজন সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে নাজমুল হুদা যুদ্ধ করেছিলেন বীরত্বের সঙ্গে। আর এটিএম হায়দার ২ নম্বর সেক্টরে তরুণদের গেরিলা যোদ্ধা করে তোলার প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে রেখেছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। খালেদ মোশাররফ আহত হওয়ার পর এটিএম হায়দার ২ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক নিযুক্ত হন। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় হায়দার ঢাকায় রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত ছিলেন। একটি ছবিতে দেখা যায়, জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং অন্য উচ্চপদস্থ ভারতীয় সামরিক অফিসারদের সঙ্গে এটিএম হায়দার পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজিকে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। খালেদ মোশাররফ পরিচালিত অভ্যুত্থানের সময় কোনো রক্তপাত ঘটানো হয়নি। কিন্তু খালেদ মোশাররফের বিরুদ্ধে পাল্টা সেনা অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পর ৭ নভেম্বর সকালেই খালেদ-হুদা-হায়দারকে হত্যা করা হয়। তখন সেনানিবাসে জিয়া মুক্ত। তার ঘনিষ্ঠ অফিসাররা তাকে ঘিরে আছেন। মোশতাক-ফারুক-রশিদের অনুগত সেনাসদস্যরা এবং জাসদের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্যরা সেই সকালে সক্রিয়। এই তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করার নির্দেশ সেদিন কে দিয়েছিল- এ ব্যাপারে অনুসন্ধান প্রয়োজন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে দ্রুত একের পর এক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যা করা হয়েছিল। ৭ নভেম্বরের সেনা অভ্যুত্থানের কারণেও মূলত দুর্বল এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি।

অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

×