বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা: মাহ্দী আমিন
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
চীনের চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে’ সমঝোতা স্মারক সই হয়। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৫০
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এর আওতায় দুই দেশে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা এবং শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে চীনের চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে’ এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। সম্মেলনের আয়োজন করে চিয়াংশি প্রাদেশিক সরকার।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দুই দেশের এ সহযোগিতা কেবল আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষাকে দক্ষতায়, দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে এবং কর্মসংস্থানকে সুযোগে পরিণত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও নতুন সুযোগ তৈরিতে এ সহযোগিতা ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং চীনের পক্ষে চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ঝেং পেংউ সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
সমঝোতা অনুযায়ী, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, দ্বিভাষিক শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষা সম্পদ ও গবেষণা কেন্দ্র নিয়ে দুই দেশ কাজ করবে। এ ছাড়া শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে সংযোগ বাড়ানো, বাংলাদেশে শিল্প প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, চীন সফর এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণের বিষয়েও সহযোগিতা করা হবে।
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টিও সমঝোতার আওতায় বিবেচনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে তিনটি প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়।
‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার’ উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও চিয়াংশি প্রাদেশিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক ফ্যান হংহুই।
চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটিতে ‘বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার’ উদ্বোধন করেন মাহ্দী আমিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি সেক্রেটারি প্রফেসর পেই হংওয়েই। ‘বাংলাদেশ চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ + স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন সেন্টার’ উদ্বোধন করেন মো. দাউদ মিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ঝেং পেংউ।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে শিল্পের এবং শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের যোগসূত্র তৈরি করা জরুরি। ডিজিটাল প্রযুক্তি, রোবোটিক্স ও স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারক শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ থাকলে এর অর্থ নেই। প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়ন ও বাস্তবায়নকে ফলাফলে রূপ দিতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও শিল্প উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহী বাংলাদেশ। আধুনিক ও শিল্প-সংযুক্ত বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানো যেতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বড় তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অন্যতম শক্তি। মানসম্পন্ন কারিগরি শিক্ষা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক দক্ষতার সুযোগ পেলে এই তরুণদের দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক জনশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে শিল্প ও শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর দেন শিক্ষামন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক শিক্ষায় বাংলাদেশ ও চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে চীনের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশ নেন। চিয়াংশি প্রাদেশিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, শিক্ষক-গবেষক, শিক্ষার্থী ও শিল্পোদ্যোক্তারাও এতে অংশ নেন।
চীন সরকারের আমন্ত্রণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ে বিভিন্ন আয়োজন ও আলোচনায় অংশ নিতে তিন দিনের সরকারি সফরে চীনে রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।