ছয় অসংগতি সংশোধন করার দাবি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালার ছয়টি অসংগতি তুলে ধরে তা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে সর্বজনীন বদলিপ্রত্যাশী এমপিওভুক্ত শিক্ষক ফোরাম। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধানদেরও বদলি ব্যবস্থার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। শিক্ষকরা জানান, নিজ এলাকা থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনেক শিক্ষককে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থা চালুর দাবিতে তারা দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছেন।
‘সমস্তর’ শর্ত বাতিলের দাবি
ফোরামের নেতারা বলেন, বর্তমান বদলি নীতিমালায় ‘সমস্তর’ প্রতিষ্ঠানে বদলির শর্ত রাখা হয়েছে। এ কারণে অনেক শিক্ষক আবেদনই করতে পারছেন না। তাদের দাবি, চলমান বদলি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে ‘সমস্তর’ প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে সমপদে বদলির সুযোগ দিতে হবে।
তিন প্রতিষ্ঠানের সীমা তুলে দেওয়ার দাবি
বর্তমানে একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করতে পারছেন। এ সীমাবদ্ধতা তুলে দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ফোরাম। একই সঙ্গে পছন্দের প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার ক্ষেত্রে ‘ইয়েস অপশন’ চালুরও দাবি করা হয়।
দূরত্বের ভিত্তিতে বদলি
শিক্ষক নেতারা বলেন, দূরবর্তী কর্মস্থলে চাকরি করাই ছিল বদলি ব্যবস্থা চালুর অন্যতম প্রধান কারণ। তাই বদলির ক্ষেত্রে কর্মস্থল থেকে নিজ এলাকার দূরত্বকে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। দূরত্বের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হলে দীর্ঘদিন ধরে দূরে কর্মরত শিক্ষকরা বেশি উপকৃত হবেন বলে মনে করেন তারা।
স্বামী-স্ত্রীর জন্য বিশেষ সুযোগ
স্বামী-স্ত্রী নিজ জেলা ছাড়া অন্য এলাকায় চাকরি করলে তাদের নিজ জেলায় বদলির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। শিক্ষক নেতাদের মতে, দাম্পত্য ও পারিবারিক বাস্তবতা বিবেচনায় এ ধরনের সুযোগ রাখা প্রয়োজন।
নিজ জেলা-উপজেলায় বদলির সুযোগ
বর্তমান নীতিমালায় নিজ জেলা বা উপজেলার মধ্যেও দূরবর্তী কর্মস্থলে থাকা শিক্ষকদের বদলির সুযোগ রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক নেতারা। চলমান বদলি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর নিজ জেলা ও উপজেলার মধ্যে দূরবর্তী কর্মস্থলে কর্মরত শিক্ষকদেরও বদলির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
মাদ্রাসার বদলি প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি
মাদ্রাসা শিক্ষকদের ম্যানুয়াল বদলি নিয়েও আপত্তি রয়েছে ফোরামের। সংগঠনটির নেতারা বলেন, এ ক্ষেত্রে উভয় প্রতিষ্ঠানের সম্মতির শর্ত থাকায় বদলি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে। এ শর্তের কার্যকর সমাধান প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, ম্যানুয়াল বদলির জন্য যে শূন্য পদের তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেটি অনেক আগের। ফলে বর্তমানে যেসব পদ শূন্য রয়েছে, সেগুলোর তথ্য তালিকায় না থাকায় বদলিপ্রত্যাশীরা কাঙ্ক্ষিত পদ খুঁজে পাচ্ছেন না। এ কারণে হতাশা দেখা দিয়েছে। শূন্য পদের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশের দাবি জানান তারা।
কারিগরি শিক্ষকদের বদলি দ্রুত কার্যকরের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে কারিগরি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষক নেতারা। তারা বলেন, কারিগরি শিক্ষকদের বদলির অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। এ ছাড়া স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধানদের মতো মাদ্রাসার প্রধান ও সহকারী প্রধানদেরও বদলি ব্যবস্থার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
- বিষয় :
- এমপিওভুক্তি