ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

এই সিনেমাগুলো গৃহবন্দি মানুষের জীবনের গল্প নিয়ে

এই সিনেমাগুলো গৃহবন্দি মানুষের জীবনের গল্প নিয়ে
×

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ০১:০৮ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ০১:২৪

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় সবাইকে গৃহবন্দি অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। সিনেফ্রেমেও এমন গৃহবন্দি মানুষের জীবন কাহিনি নিয়ে নির্মিত হয়েছে বেশ কিছু সিনেমা। এক ঘরে বসবাসকারী মানুষের জীবনে তৈরি হয় নানা ঘটনা। তেমনি বিখ্যাত কিছু সিনেমা নিয়ে এ আয়োজন

রুম

ছবিটি একটি ঘরে কিছু মানুষের জীবন কাহিনি নিয়ে নির্মিত। জয় নিউসাম এবং তার পাঁচ বছরের সন্তান জ্যাক বন্দি একটি রুমের মধ্যে। এই রুমটি বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন। একটিমাত্র খোলা ছোট জানালা দিয়ে ঘরে সামান্য সূর্যের আলো প্রবেশ করে। এই রুমে জয় নিউসামকে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন করে ওল্ড নিক।

পাঁচ বছরের ছোট জ্যাক জানে না এই ঘর ছাড়াও বাইরের একটি জগৎ আছে। তার মা সিদ্ধান্ত নেয় ছেলেকে বিশাল পৃথিবীর জগৎ সম্পর্কে ধারণা দিয়ে এই বন্দি থেকে মুক্ত করবে। ছেলেকে বন্দি রুম থেকে মুক্ত করার এই গল্পে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রি লারসন। ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেন জ্যাকব ট্রেম্বলে। ছবিটি একই নামের উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে 'রুম' মুক্তি পায়। এ ছবির অল্প কয়েকটি দৃশ্য রাস্তায় শুটিং হয়েছিল।

রেয়ার উইন্ডো

নিজের পেশা যখন জীবনে হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন নিশ্চয় জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এমন কিছু ঘটনা নিয়েই নির্মিত হয়েছে থ্রিলার ছবি রেয়ার উইন্ডো। একজন পেশাদার ফটোগ্রাফার হঠাৎ করেই তার প্রতিবেশীদের ওপর ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা শুরু করে। আর সেই সময় সে এমন কিছু দেখতে পায়, যা তার জীবনকে পুরোপুরি বদলে দেয়। সেই ফটোগ্রাফার কী দেখেছিল, তা জানতে হলে দেখতে হবে পুরো সিনেমা। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন প্রখ্যাত নির্মাতা আলফ্রেড হিচকক।

দ্য ম্যান ফ্রম আর্থ

এটিকে সায়েন্সফিকশন সিনেমা বলা হলেও এখানে স্পেসশিপ এলিয়েন যুদ্ধ বা দুর্ধর্ষ টেকনোলজির চমক নেই, স্বল্প বাজেটে নির্মিত ৮৭ মিনিটের এ সিনেমাটি শুধু একটি কাঠের কেবিনের মধ্যে শুট করা, যেখানে কোনো অ্যাকশন নেই, রোম্যান্স নেই, ক্লাইম্যাক্স নেই, আছে স্রেফ কয়েকজন মানুষের জীবন নিয়ে কিছু গভীর কথাবার্তা। প্রথম ১০-১৫ মিনিট ধৈর্য ধরে থাকতে পারলে সিনেমাটি যে কাউকে আকর্ষণ করবে; নিশ্চিতভাবেই চিন্তাভাবনা ও চেনাজানা পরিসরের এই পৃথিবীকে একটা বড় ধরনের ধাক্কা দেবে। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি পরিচালনা করেন রিচার্ড স্কেনম্যান। ছবির গল্প জন ওল্ডম্যান নামে একজন কলেজ অধ্যাপককে নিয়ে। যিনি আকস্মিক অবসর নিয়ে চলে যাচ্ছেন কোনো অজানা স্থানে। তার সহকর্মীরা তাকে শুভকামনা এবং বিদায় জানাতে এসেছেন। জন ওল্ডম্যানের ছোট্ট কাঠের কেবিনে এ কথা সে কথার ফাঁকে বেরিয়ে আসে এক অসম্ভব আইডিয়ার গল্প। ১৪ হাজার বছর বয়সী এক ক্রোম্যাগনন বা গুহামানব, যে নাকি এক অজানা উপায়ে মৃত্যুকে ফাঁকি দিয়ে বেঁচে আছে আজকের দিন পর্যন্ত, আধুনিক মানুষ হিসেবে। তার সামনে মানব ইতিহাসের পুরো চিত্র উন্মোচিত, জীবনের পুরো চিত্রপট খোলা, একেক পৃষ্ঠার মতো উল্টে যাচ্ছে একেক সভ্যতার পাতা। ব্যাবিলন, সুমেরিয়া, বুদ্ধ, চীন, যিশু, কলম্বাস, ভ্যানগগ থেকে শুরু করে আজকের মাইক্রোবায়োলজি আর জেনেটিক টেকনোলজির যুগ পর্যন্ত। ছবিটি একটি ঘরে চিত্রায়িত হলেও দর্শককে পুরোটা সময় ডুবিয়ে রাখবে ভাবনার জগতে।

দ্য হেটফুল এইট

গৃহযুদ্ধ-উত্তর আমে.রিকার গল্প 'দ্য হেটফুল এইট'। ছবিটি ওয়েস্টার্ন ঘরানার, এমনটাই বলেছিলেন পরিচালক। তবে বলতেই হয়, ধ্রুপদী ওয়েস্টার্ন নয়; বরং এক্সপেরিমেন্টাল ওয়েস্টার্ন এটি।

বরফে ঢাকা প্রান্তর দিয়ে এক অপরাধীকে [জেনিফার জেসন লেই] ধরে নিয়ে যাচ্ছে বাউন্টি হান্টার জন 'দ্য হ্যাংম্যান' [কার্ট রাসেল]। পথে তার স্টেজকোচে হাজির হয় মেজর ওয়ারেন [স্যামুয়েল এল জ্যাকসন] ও শেরিফ ম্যানিক্স [ওয়ালটার গগিনস]। প্রচণ্ড বরফের কারণে যাত্রীদের আশ্রয় নিতে হয় এক কেবিনে। সেখানে অপেক্ষায় থাকা ডাকাত দলের সদস্যদের সঙ্গে কোচের যাত্রীদের সংঘাত নিয়েই ছবির গল্প। মোটামুটি এমনটা হলেও এর বাইরেও ছবিতে রয়েছে অসংখ্য স্তর। ধীর লয়ে যা এগোতে থাকে। অনেকটা ক্লাসিক্যাল ওয়েস্টার্নের মতোই। আলট্রা প্যানাভিশন ৭০ মিলিমিটারে এই ছবি বানিয়েছেন কোয়ান্টিন টারান্টিনো। প্রায় অবলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই বিশেষ ক্যামেরায় ছবি তৈরি করার কারণ হিসেবে পরিচালক সিনেমার ডিজিটাইজেশনের বিরুদ্ধে তার জিহাদের কথাই বলেছেন। সে হিসেবে নিঃসন্দেহে তার এই ছবি ইতিহাসের শরিক তো বটেই। ছবিটির পাঁচ ভাগের চার ভাগ ইনডোরে শুট করা। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি ব্যবসাসফল হয়েছিল।

ফ্রি ফায়ার

একটি সাধারণ গল্পকে কীভাবে অসাধারণ করে তুলতে হয়, তা ভালোই জানা ব্রিটিশ নির্মাতা বেন হোয়েলদির। খুব সাধারণ গল্প। বড় একটি গুদামঘরে দু'পক্ষের লেনদেন চলছিল। সবকিছু ঠিকমতো চলছিল। একদল অস্ত্র কিনবে, আরেক দল অস্ত্র বিক্রি করবে। কিন্তু উভয় গ্রুপ কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে। ফলে তারা শুরু করে মারামারি। একপর্যায়ে ইচ্ছামতো পরস্পরকে গুলি করতে শুরু করে তারা। একটি গুদামঘরে নির্মিত হলেও পুরো ছবিটি অ্যাকশনে ভরপুর। এতে অমি হ্যামার, ব্রি লারসন, কিলনা মার্ফির মতো তারকা অভিনয় করেছেন।

আরও পড়ুন

×