খামেনির কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পকে হত্যার ডাক
প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা বহন করেন ইরানিরা। রোববার তেহরানে। ছবি: এএফপি
দ্য গার্ডিয়ান, আলজাজিরা ও এএফপি
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ২১:০৫
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানানো হয়েছে। রোববার প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা ও তাঁর পরিবারের অন্য চার সদস্যের জানাজায় এক রাজনৈতিক পটভূমি তৈরি হয়। যেখানে গভীর শোকের সঙ্গে প্রতিশোধের ডাক মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল।
হাতে জাতীয় পতাকা, শহীদ নেতার ছবি এবং প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা উঁচিয়ে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জড়ো হন লাখো মানুষ। জানাজার নামাজ শুরুর আগে ইরানের কবি মোহাম্মদ রাসুলি বলেন, ‘এখন থেকে কাফনের কাপড়ই আমাদের পোশাক। আপনার রক্তের কসম; ট্রাম্পের হত্যাকাণ্ড আমাদেরই দায়িত্ব।’
মোহাম্মদ রাসুলি প্রশ্ন করেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম মানুষটি এখনও কেন বেঁচে আছে? ট্রাম্পের জন্য পৃথিবী আর নিরাপদ জায়গা নয়। আমাদের ইমামকে যে হত্যা করেছে, তাঁকে আমরা কেন হত্যা করব না? আমরা যদি তা না করি, তবে সেটি হবে চরম অপমানের।’
রাসুলির এই বক্তব্য শুনে উপস্থিত জনতা করতালি দেন। এরপর তিনি সবাইকে নিয়ে স্লোগান দেন, ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক... ইসরায়েল ধ্বংস হোক’।
গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, জানাজায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে তীব্র আবেগ ও ক্ষোভ দেখা গেছে। চারপাশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে। উপস্থিত অনেকে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া উচিত।
জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। সেগুলোতে দেখা গেছে, কেউ কেউ হাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর প্রতীক সংবলিত ছবি বহন করছেন।
একটি ছবিতে দেখা যায়, জনসমুদ্রে ব্যানার বহন করা হচ্ছে। যেখানে লেখা-‘ওয়ান্টেড। পুরস্কার ১০ কোটি ডলার। ট্রাম্প! ইরানের জনগণ শিগগিরই আপনাকে হত্যা করবে।’ তেহরানে সড়কের পাশে একই রকম একটি দীর্ঘ ব্যানার টানানো হয়েছে। যেখানে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখের ছবির অংশে লাথি এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করেছেন পথচারীরা।
তৌহিদ আসাদি লিখেছেন, সাধারণ ইরানিরা এমন সময়ে প্রতিশোধের দাবি তুলছেন, যখন দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে। জানাজায় যাওয়া ৪২ বছর বয়সী জিবা নাদেরি বলেন, ‘আমি প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি শুনেছি। তবে আমাদের নেতা (মোজতবা খামেনি) যা করতে বলবেন, আমাদের ঠিক তাই করতে হবে। তাঁর নির্দেশ শুনতে হবে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন আলী খামেনি। একই হামলায় বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির স্ত্রী, বোন, ভগ্নিপতি ও ১৪ বছর বয়সী ভাগনি প্রাণ হারান। আহত হন মোজতবা ও তাঁর ছোট ছেলে।
এদিকে আলী খামেনির জানাজার আগে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে সাক্ষাৎকার দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে কিছু ইরানিকে কাঁদতে দেখে তিনি বেশ অবাক হয়েছেন। কারণ তাঁর ধারণা ছিল দেশটির মানুষ আলী খামেনিকে ঘৃণা করে। হতে পারে এগুলো নকল কান্না।
আর ইরানের শীর্ষ নেতাদের ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা সবাই সেখানে (এক জায়গায়) উপস্থিত আছে। মাত্র এক আঘাতে আমরা তাদের শেষ করে দিতে পারি। কিন্তু তা করব না। কারণ, এটা করা হলে আলোচনা করার মতো আর কেউ থাকবে না।’
