ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এত বছরেও মৌলিক গল্পের সিনেমায় প্রস্তাব আসেনি: শবনম

এত বছরেও মৌলিক গল্পের সিনেমায় প্রস্তাব আসেনি: শবনম
×

শবনম: ছবি: আলিফ রিফাত

মীর সামী

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৫ | ১৩:৪৬ | আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৫ | ১৪:২০

শবনম। কিংবদন্তি অভিনেত্রী। যিনি ষাটের দশকে ঝর্ণা বসাক থেকে হয়ে উঠেছিলেন শবনম। তিনি শুধু বাংলাদেশের নন, পাকিস্তানেরও শীর্ষ নায়িকা ছিলেন। ষাট থেকে আশি, দীর্ঘ তিন দশক ধরে ধারাবাহিক অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নায়িকা খ্যাতি ধরে রেখেছেন। তাঁর অভিনীত অসংখ্য চলচ্চিত্র আজও দর্শকের হৃদয়ে অম্লান। আজ তাঁর জন্মদিন। এ উপলক্ষে শৈশব, অভিনয়, সম্পর্ক ও জীবনের নানা প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা হয়।

কেমন আছেন? 
আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।

জন্মদিনে দৈনিক সমকাল-এর পক্ষ থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা। জানতে চাই, জন্মদিনে পরিবার, বন্ধু আর ভক্তদের সঙ্গে আপনার উদযাপনটা কেমন হয়?

ধন্যবাদ। কখনও ঘটা করে, খুব বড় আয়োজন করে জন্মদিন উদযাপন করা হয় না। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, কাছের কয়েকজন বন্ধু আর ভক্তদের শুভেচ্ছা নিয়েই দিনটা কেটে যায়। 

জন্মদিন কি এখনও আগের মতো আনন্দ জাগায়?

দেখতে দেখতে ৭৯ বছর পার করে দিলাম। অথচ এখনও মনে হয় এই তো সেদিনের কথা। বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটছে, স্কুলে যাচ্ছি, ফিল্ম করছি। এখন ভাবলে মনে হয় কত সময় চলে গেছে জীবন থেকে। জীবনের কত রূপ দেখেছি, নানান বয়সে জীবনের সৌন্দর্যকে উপভোগ করেছি। কত কত মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। কত কিছু শিখেছি এই এক জীবনে। আবার হারিয়েছিও অনেক প্রিয়জনকে। এখন জন্মদিন এলে মনে হতে থাকে, আর হয়তো কিছু দিন। তারপরও বয়স বাড়ে, কিন্তু ভালোবাসা কমে না–এই ভালোবাসাইতো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। 

আপনার কাছে জীবন মানে কী?

জীবন অনেক কঠিন। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবন সুখ-দুঃখের খেলা। যে জীবনের কঠিন সময় জয় করতে পারে তার কাছে জীবন অনেক আনন্দের। এখনও সুস্থ আছি, ভালো আছি–এটিই কম কিসের। বয়স তো আর কম হলো না। সবার দোয়া ও ভালোবাসা চাই।

জন্মদিন উপলক্ষে আজ তো চ্যানেল আইয়ের একটি বিশেষ আয়োজনে দেখা যাবে…

হ্যাঁ। ‘শবনম: রূপনগরের রাজকন্যা’ শিরোনামের একটি আয়োজনে অংশ নিয়েছি। আবদুর রহমানের উপস্থাপনা ও পরিচালানয় এই আয়োজনে কথা বলেছি আমার নাচ, অভিনয় আর ব্যক্তিজীবনের নানা বিষয় নিয়ে। 

নৃত্যশিল্পী থেকে অভিনেত্রী হতে কী আপনাকে বেগ পেতে হয়েছিল?

নাচের সঙ্গে অভিনয় অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নাচেও যেমন শরীর এবং মুখের অভিব্যক্তি থাকে, অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তাই। কাজেই নৃত্যশিল্পী থেকে অভিনয়শিল্পীতে রূপান্তর হতে আমাকে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি।

আপনার শুরুর সময়টা মনে আছে? প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

ভয়ও ছিল, কৌতূহলও ছিল। বাল্বগুলোর আলো দেখে মনে হয়েছিল সূর্যের আলোর থেকেও উজ্জ্বল। তখনও জানতাম না এই আলোর আড়ালেই জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটাতে হবে। পরিচালক এহতেশামের হাত ধরেই আমার সিনেমায় আসা। ওনার পরিচালনায় ‘রাজধানীর বুকে’ ছবিতে নাচের শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিলাম। এরপর সেই সিনেমা দেখার পর দর্শক এবং নির্মাতারা আমায় নিয়ে প্রচুর আগ্রহ দেখালেন। তারপর পরিচালক মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ দিয়ে আমার নায়িকা পর্বের উত্থান শুরু হলো। এরপর আর আমাকে পেছনে তাকাতে হয়নি। পরপর ‘কখনো আসেনি’, ‘চান্দা’, ‘তালাশ’, ‘নাচঘর’, ‘কাজওয়ান’, ‘আখেরি স্টেশন’ সিনেমায় অভিনয় করেছি। ‘চান্দা’ সুপারহিট করল। সেই সময় অভিনয়কে মন দিয়ে ভালোবেসেছিলাম বলেই হয়তো দর্শকরা আমায় পছন্দ করেছিলেন। 

জীবনের এত লম্বা পথ পেরিয়ে এসেছেন। পেছন ফিরে তাকালে কেমন লাগে?

অবসর সময়ে যখন সোনালি দিনগুলোর কথা মনে হয়, তখন প্রচণ্ড আবেগতাড়িত হয়ে পড়ি। অনেক অনেক কথা মনে পড়ে। জীবনে আমি অনেক সাফল্য পেয়েছি। কোটি কোটি দর্শকের অকৃত্রিম ভালোবাসা পেয়েছি; যা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

দুই যুগেরও বেশি সময় আপনাকে সিনেমায় দেখা যায় না কেন?

 সত্যি বলতে কী, এত বছরেও আমার কাছে এমন কোনো মৌলিক গল্পের সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব আসেনি; যা শুনে আমি হ্যাঁ করে দেব। ১৯৯৯ সালে সর্বশেষ কাজী হায়াতের ‘আম্মাজান’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলাম। নায়িকা হিসেবে আমার প্রথম সিনেমা ‘হারানো দিন’ সুপারহিট হয়েছিল। আর মা হিসেবে আমার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ‘আম্মাজান’ সুপার-ডুপারহিট হয়। এখনও আমার দর্শকরা সেই সিনেমার কথা মনে রেখেছেন। এখনও যখন মার্কেটে বা বাইরে যাই আমাকে দেখে অনেকেই বলেন আম্মাজান এসেছেন। আর কোনো দিন অভিনয় করব কী না জানি না। তবে ইচ্ছাতো আছে। গল্প মৌলিক হলে ভেবে দেখব। 

অভিনয় জীবনের যাত্রা যখন শুরু করেছিলেন, তখন কী ভেবেছিলেন এতদূর আসবেন?

সত্যি বলতে, আমি কখনও কল্পনাও করতে পারিনি যে আমার জীবনের পথ এমন দিকেই যাবে। যখন প্রথম পর্দায় আমার উপস্থিতি ছিল, তখন আমার শুধু চেষ্টা ছিল নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শককে মুগ্ধ করা। সাফল্য, খ্যাতি, আর মানুষের ভালোবাসা–সবই আসবে, তা ভাবিনি। যা পেয়েছি, তা সত্যিই অনেক বড় পাওয়া। শুধু খ্যাতিই নয়, ভালোবাসা, সম্মান, বন্ধুদের সঙ্গ এবং চলচ্চিত্রের জগতে এক অদ্ভুত যাত্রা–এই সবই আমাকে সমৃদ্ধ করেছে।

ভক্ত না পরিবার কাদের কাছে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা পেয়েছেন?

দু’দিক থেকেই। পরিবার আমাকে টিকিয়ে রেখেছে, আর ভক্তদের ভালোবাসা আমাকে সামনে এগিয়ে দিয়েছে।

ভক্তদের জন্য আপনার বার্তা?

আমি শুধু বলব, আমার মতো একজন শিল্পীকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আপনাদের জন্যই আজও শবনম বেঁচে আছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।


 

আরও পড়ুন

×