থাইল্যান্ডে সবাই আমাকে ‘বাংলাদেশ’ নামে ডাকছে: মিথিলা
তানজিয়া জামান মিথিলা। ছবি: ফেসবুক থেকে নেয়া।
অনিন্দ্য মামুন
প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | ১৩:২৫ | আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | ১৩:৫৮
থাইল্যান্ডের ফুকেটে চলছে সৌন্দর্যের উৎসব। সেখানে সাগরের নীল জলে সূর্যের আলোর ঝলমলে আবহে চলছে ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’-এর প্রতিযোগিতা। তাদের ভিড়ের মাঝে আত্মবিশ্বাসী হাসি নিয়ে হাঁটছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি তানজিয়া জামান মিথিলা। সেখান থেকেই হোয়াটসঅ্যাপে সমকালের সঙ্গে কথা হয় তাঁর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন—অনিন্দ্য মামুন
থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। কেমন লাগছে?
অসম্ভব ভালো লাগাটাই তো স্বাভাবিক। আমার কাছে স্বপ্নের মতো লাগছে। গর্বিত লাগছে খুবই। বিদেশে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করার এমন সুযোগ কার না ভালো লাগবে বলুন। এখানে এসে আমি দেশের মানুষের ভালোবাসায় আরও বিস্মিত হয়েছি। এত এত মানুষ আমাকে শুভ কামনা জানাচ্ছে। ভোট করছে; যা আমাকে নতুনভাবে দেশকে নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। নতুন করে দেশের মানুষের জন্য কিছু করার প্রেরণা দিচ্ছে।

প্রতিযোগিতায় ৭৩ হাজার ভোটে এখন বাংলাদেশ বিশ্বে ৫ নম্বরে। কেমন লাগছে এই ভালোবাসা?
আমি জাস্ট কেঁদে ফেলেছিলাম! এত মানুষ যে আমাকে, আমাদের দেশকে ভালোবাসে– এটা কতটা যে আমাকে আবেগি করেছে তা ভাষায় বোঝাতে পারব না। আমি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ, ভাই-বোন, সাংবাদিক, ইনফ্লুয়েন্সার, সহকর্মী– সবাইকে হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই। এই ভালোবাসার দাম যেন রাখতে পারি।
‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ হওয়ার পর বলেছিলেন এই মুকুটটি মায়ের জন্য। মিস ইউনিভার্সের মুকুট জয়ী হলে সেটা কাকে দেওয়ার ইচ্ছে?
দেশে আমি যখন ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ হলাম তখন আমি কাঁদছিলাম। সত্যি বলছি, আমার হাতে যখন মুকুটটা ধরা হলো, তখন শুধু মাকে মনে পড়ছিল। আমি যা কিছু হয়েছি, সব তাঁর জন্যই সম্ভব হয়েছে। তিনি আমার শক্তি, সাহস আর অনুপ্রেরণা। তাই সেই জয় আমি তাঁকেই উৎসর্গ করেছি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এবার তো আমি পুরো বাংলাদেশকেই প্রেসেন্ট করছি। এখানে কিন্তু কেউ আমাকে মিথিলা নাম ধরে ডাকে না; সবাই আমাকে বাংলাদেশ বলেই ডাকে। বলে, ‘হ্যালো বাংলাদেশ’। এখানে তো আমিই বাংলাদেশ। আর আমার মা হচ্ছে দেশ। তাই মিস ইউনিভার্সের মুকুটজয়ী হলে আমি বাংলাদেশকেই উৎসর্গ করব, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষকে উৎসর্গ করব।

মুকুট জয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী আপনি?
আমি শতভাগ আশা নিয়ে এখানে এসেছি। মুকুট জয়ের সব যোগ্যতা বাংলাদেশের রয়েছে। আমি ভয় পাই না। আমার লক্ষ্য একটাই–বাংলাদেশের নামটা বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করা। আমি বিশ্বাস করি, এবার মুকুটটা আমরা ঘরে নিয়ে আসতে পারব।
জয়ের জন্য কতটা প্রস্তুতি নিয়ে গেছেন?
২০২০ সালে আমি ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ হয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেতে পারিনি, কভিডের কারণে। সেটা ছিল এক অপূর্ণতা। এবার সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেয়েছি। আমি চাই, পৃথিবী জানুক– বাংলাদেশ থেমে নেই। আমরা এগোচ্ছি, সাহস নিয়ে, মর্যাদা নিয়ে। বিশ্বের সুন্দরীদের মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা পত পত করে উড়ুক। তাই আমার দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি আছে। আছে জয়ের আত্মবিশ্বাসও। পাশাপাশি দেশবাসীর দোয়া ও আশীর্বাদ তো আছেই।

মিস ইউনিভার্স হওয়ার পর বাংলাদেশ নিয়ে কী পরিকল্পনা?
আমি সব সময় বিশ্বাস করি, গ্ল্যামার মানে শুধু আলো আর ক্যামেরা নয়, দায়িত্বও আছে। আমি বাল্যবিবাহবিরোধী প্রচারণায় কাজ করি, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াই। আমার পরিচয় শুধু একজন মডেল নয়, একজন মানুষ হিসেবে। মিস ইউনিভার্স হওয়ার পর আমি দেশের অবহেলিত মানুষদের নিয়ে আরও শক্তভাবে কাজ করব।
এই আয়োজনের মাধ্যমে তরুণীদের জন্য আপনি কী বার্তা দিতে চান?
আমি চাই, বাংলাদেশের মেয়েরা নিজেদের ভেতরের শক্তি চিনুক। আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য। তুমি যদি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো, পৃথিবী তোমাকে থামাতে পারবে না।
নিজের জন্য ভোট চাইবেন না?
অবশ্যই। আমি সবাইকে বলছি– আমার জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্য ভোট দিন। এই ভোট শুধু একটি প্রতিযোগিতার নয়, এটি আমাদের দেশের মর্যাদার প্রতীক। যত বেশি মানুষ ভোট দেবেন, তত জোরে বিশ্ব শুনবে–বাংলাদেশ আনস্টপেবল! আপনারা পাশে থাকুন, দোয়া করুন, আমি দেশের জন্য লড়ব।
