ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘একটি শুদ্ধ গল্প সঠিকভাবে তুলে ধরাই একজন নির্মাতার কর্তব্য’

‘একটি শুদ্ধ গল্প সঠিকভাবে তুলে ধরাই একজন নির্মাতার কর্তব্য’
×

অরণ্য আনেয়ার। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে।

মীর সামী

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫ | ১৩:২৫ | আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০২৫ | ১৩:২৭

অরন্য আনোয়ার। বরেণ্য নাট্যকার ও নির্মাতা। গতকাল গ্লোবাল টিভিতে প্রচার শুরু হয়েছে এই নির্মাতার নতুন ধারাবাহিক ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’। নাটকটি প্রতি শনি, রবি, সোম ও মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রচার হবে। এই নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা  হয়।

শুরুতে জানতে চাই, নাটকের নাম ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ কেন রাখা হলো?

শুরুতে নাটকটির নাম আসলে ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ ছিল না, অন্য একটি নাম ভাবা হয়েছিল। যেহেতু নোয়াখালী অঞ্চলের গল্প নিয়ে ধারাবাহিকটি, তাই টেলিহোমের বশির ভাই একদিন এ নামটি প্রস্তাব করলেন। আমরা ভেবে দেখলাম যে নামটি গল্পের সঙ্গে বেশ মানানসই। আমরা এই নামটি নিয়েছি একটি বিশেষ কারণেই। নাটকের গল্পে আমরা একটি মিথকে উপস্থাপন করেছি–চাঁদে যে বুড়ি চরকা কাটে, তার বাড়ি নোয়াখালীতেই। সেই চাঁদের বুড়ি কীভাবে নোয়াখালী থেকে চাঁদে গেল, সেখানে কীভাবে বসবাস করতে থাকে এবং তার বংশধরদের গল্পই এখানে দেখানো হয়েছে। মোদ্দাকথা, চাঁদের বুড়ির চরকা কাটার এ ঘটনাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অনেক সময় দর্শকের কাছে সত্য বলে মনে হতে পারে। এছাড়াও আমরা দেখিয়েছি যে পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত মানুষের আদি বসতিও ছিল এই নোয়াখালীতেই।

‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ আপনাকে কীভাবে অনুপ্রাণিত করল?

আমি নিজে নোয়াখালীর ছেলে। এর আগেও নোয়াখালীর ভাষায় খণ্ড নাটক করেছি, কিন্তু বড় কোনো সিরিজ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে পরিচিতজন ও দর্শকরা বলে আসছিলেন যে নোয়াখালীর ভাষায় একটি সিরিজ করা হোক। সেই চিন্তা থেকেই এ নাটকটি বানানোর উদ্যোগ নিই। নাম ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ হলেও এখানে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ভাষা ও চরিত্রও রয়েছে।

নাটকটির মূল ভাবনা কী?

আমার নাটকের মূল ভাবনায় সবসময়ই থাকে মানুষ, মানবতা ও প্রেম। এই নাটকেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এখানেও মানবিক প্রেমের গল্পই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

নাটকটি নির্মাণের সময় আপনি কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন?

এই নাটকে কোনো সরাসরি বাস্তব ঘটনা নেই, তবে চরিত্রগুলো বাস্তব জীবন থেকে সংগ্রহ করা। নোয়াখালী অঞ্চলের প্রচলিত মিথ, লোককথা কিংবা অতিকল্পিত বিষয়গুলোকে বাস্তবতার নিরিখে তুলে ধরা হয়েছে।

এখনকার দর্শকরা খুব দ্রুত কনটেন্ট বদলে ফেলেন। এই প্রেক্ষাপটে আপনি কী ভাবছেন?

এটি খুবই সত্য। দর্শকরা এখন দ্রুত কনটেন্ট বদলান। এক চিন্তা থেকে আরেক চিন্তায় চলে যান। আমি এটিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সাফল্য বলেই মনে করি। তারা দর্শকদের জন্য একের পর এক বৈচিত্র্যময় কনটেন্ট উপহার দিচ্ছেন, তাই দর্শকরাও নতুন কিছু দেখতে চান। এখন ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ দর্শকদের কতটা সময় ধরে রাখতে পারে, সেটি নাটকটি প্রচারের পরই বোঝা যাবে। আমার আশা, দর্শকরা নাটকটি দীর্ঘদিন দেখবেন।

আপনি কি মনে করেন যে এখনকার দর্শক আঞ্চলিক গল্পে আগ্রহী হচ্ছেন?

দর্শক আসলে কোন ভাষার নাটক দেখছেন, সেটি বড় বিষয় নয়। তারা দেখেন গল্পটি তাদের হৃদয়কে কতটা স্পর্শ করছে। যে গল্পটি তাদের ভালো লাগে, সেটিই তারা দেখেন। তাই গল্পটি পারিবারিক, আঞ্চলিক, নাকি শহুরে–সেটি মুখ্য নয়। মুখ্য হলো গল্পের বিশুদ্ধতা ও উপস্থাপনা। তাই একজন নির্মাতার কর্তব্য হলো দর্শকের সামনে একটি শুদ্ধ গল্প সঠিকভাবে তুলে ধরা।

যদি ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ সাড়া পায়, এর পরবর্তী সিজন বা স্পিন-অফ করার চিন্তা আছে?

যদি নাটকটি সাড়া পায়, তাহলে আমরা আরও সিজন করব। প্রথম সিজনে আমরা ১১০ পর্বের মতো করব। এরপর আমরা একটু সময় নিয়ে দেখব। দর্শকরা যদি পছন্দ করেন, তাহলে আমি এই গল্পের সঙ্গে আরও অনেকটা সময় থাকতে চাই। এখন দেখা যাক, সময় বলে দেবে বাকিটা। 
 

আরও পড়ুন

×