‘সত্যজিতের ওই উক্তিটিই আমার বড় অর্জন’
এমদাদুল হক মিলটন
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২০ | ০৩:০৫ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২০ | ০৩:১৭
অস্কারজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের ট্রিলজি চলচ্চিত্র 'পথের পাঁচালি', 'অপুর সংসার' ও 'অশনিসংকেত'। এ ধারার শেষ ছবি 'অশনিসংকেত'। কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস থেকে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭৩ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তি পায়। আগামী পরশু ছবিটি মুক্তির ৪৭ বছর পূর্তি হচ্ছে। এই ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র 'অনঙ্গ বউ'। এই চরিত্রে অভিনয় করেন বাংলাদেশের নন্দিত অভিনেত্রী ববিতা। এই ছবির মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রবেশ করেন ববিতা।
সময় ১৯৭২। কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস থেকে 'অশনিসংকেত' নামে একটি যুদ্ধবিরোধী ছবি বানানোর পরিকল্পনা করেন সত্যজিৎ রায়। কিন্তু ছবির জন্য পছন্দের নায়িকা পাচ্ছিলেন না। এমনই একসময় তিনি ববিতার খোঁজ পান। ডাক পাঠালেন লোক মারফত। ববিতা ভাবলেন, কেউ বুঝি তার সঙ্গে মজা করছে। সত্যজিৎ রায়ের মতো আন্তর্জাতিক মানের পরিচালক তাকে ডাকবেন! এ হতেই পারে না। কিছুদিন পর ববিতার ছবি তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতীয় ক্যামেরাম্যান নিমাই ঘোষকে বাংলাদেশে পাঠান। নিমাই ঢাকায় এসে ববিতার অন্তত ২০০ ছবি তুলে নিয়ে গেলেন। এরপর ভারতীয় দূতাবাস থেকে যোগাযোগ করা হলো ববিতার সঙ্গে। এবার টনক নড়ল। কথাটা তাহলে মিথ্যা নয়। সুচন্দাকে নিয়ে পাড়ি জমালেন কলকাতায়। সত্যজিতের সঙ্গে দেখা করতে। সত্যজিতের ছবির নায়িকা হবেন ববিতা! তাই হোটেলে বসেই সাজগোজ করে সত্যজিৎ রায়ের বাড়িতে গেলেন। সত্যজিতের সামনে লজ্জায় ববিতাও মাথাটা বুকের কাছে সারাক্ষণ নামিয়ে রাখলেন। সে এক বিব্রতকর পরিস্থিতি! অবশেষে সত্যজিৎ রায় তিন ধরনের তিনটা সংলাপ হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, 'কাল সকালে ইন্দ্রপুরী স্টুডিওতে দেখা করো। এই সংলাপগুলো মুখস্থ করে আমার সামনে আসবে।'
হোটেলে ফিরে ভয়ে ভয়ে তিন ধরনের সংলাপ মুখস্থ করলেন ববিতা। পরদিন স্টুডিওতে গিয়েও বিড়বিড় করে যাচ্ছেন মুখস্থ করে সংলাপগুলো। এরপর সত্যজিৎ রায় তার স্কিন টেস্ট নিলেন। তার ফল আসবে পরে কিন্তু তখনই উচ্ছ্বসিত সত্যজিৎ রায়ের চিৎকার- 'আই অ্যাম সো হ্যাপি। আমি অনঙ্গ বউ পেয়ে গেছি।' নির্মিত হলো 'অশনিসংকেত'। বাংলাদেশ ছাড়িয়ে ববিতার নাম ছড়িয়ে পড়ল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ববিতা বলেন, "সত্যি বলতে কী, 'অশনিসংকেত' ছবিটি এখনও আমার জন্য গর্বের বিষয়। কারণ, এ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে আমি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাই। 'অশনিসংকেতে' ছবির অনঙ্গ বউ চরিত্রের কথা এলেই নাম আসত বাংলাদেশের অভিনেত্রী ববিতার কথা। আমার নামে আগে আসত আমার দেশের নাম, সে জন্য অশনিসংকেত আমার প্রিয় চলচ্চিত্রের একটি। আর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য আমি সর্বভারতীয় সেরা নায়িকার পুরস্কারও পাই। শুধু তাই নয়, এই ছবির জন্য আরও কয়েকটি পুরস্কার অর্জন করেছি। কিন্তু সবচেয়ে বড় অর্জন, সত্যজিতের একটি উক্তি। ছবিটিতে আমার অভিনয় দেখে তিনি বলেছিলেন, আমি তার মতো এত ভালো অভিনেত্রী এর আগে দেখিনি। এর চেয়ে বড় অর্জন আমার জন্য আর কী হতে পারে!"

ছবির মতো সাজানো
'অশনিসংকেত' ছবির দৃশ্যধারণ হয়েছিল শান্তিনিকেতন ও বীরভূমে। সিনেমার যেখানে চিত্রায়ণ হয়েছে, সেই সেট ছিল ছবির মতো সাজানো-গোছানো। ববিতা বললেন, 'অশনিসংকেত' ছবিতে যখন অভিনয় করি, তখন আমার বয়স কম ছিল। রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন আর বীরভূমে ছবিটির কাজ করছি। শান্তিনিকেতনের গ্রামের যেখানে ছবিটির দৃশ্যধারণ হয়েছে, সেই বাড়িটি দেখে প্রথমে আমি আসল বাড়ি মনে করেছিলাম, কিন্তু পরে জানলাম, সিনেমার জন্যই বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। বাড়িটি ছবির মতো সাজানো ছিল। খড়ের চালে লাউয়ের মাচা, উঠানের পাশে শাকক্ষেত, বাড়ির পাশে অবারিত ধানক্ষেত আর খাঁচার ভেতর টিয়াপাখি, একটি কুকুর ও কয়েকটি বিড়াল শুটিং ইউনিটে স্বাভাবিকভাবে ঘোরাঘুরি করছিল আর নিজের মতো করে ফ্রেমের ভেতরে ঢুকছিল আর বেরুচ্ছিল। সব মিলিয়ে ক্যামেরার সামনের মতো পেছনেও অদ্ভুত দৃশ্য ছিল। সত্যজিৎ রায়। আমি তাকে মানিকদা ডাকতাম। তিনি রোদের মধ্যে বেশি কাজ করতেন না। সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে শুভেন্দু দা থাকলেও বেশিরভাগ শট তিনিই নিতেন। তার চিত্রনাট্যের বাঁদিকে স্টোরি বোর্ড আঁকা থাকত। সেটা ধরে ধরে শট নিতেন; আর ডানে থাকত আমাদের সংলাপ। এই ছবিতে আমার সহশিল্পী পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। একটি দৃশ্যে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে আমাকে কাঁদতে হবে। দৃশ্যটি চিত্রায়ণ করার সময় মানিকদা বললেন, 'আমরা কিন্তু কান্নার জন্য কোনো গিল্গসারিন ব্যবহার করি না। তুমি সৌমিত্রের কাছে আসার পর জড়িয়ে ধরে কাঁদবে।' এই দৃশ্যটি দেখার জন্য ইউনিটের সবাই আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। আর আমার বুকের ধুঁকপুকানি বাড়তে থাকে। মনে মনে ভাবছিলাম, 'যদি কাঁদতে না পারি!' খুব স্বাভাবিকভাবেই সেই দৃশ্যে অভিনয় করি। শট শেষে মানিকদা বলে উঠলেন, খুব ভালো অভিনয় করেছিস।'
ববিতা যখন এই কথাগুলো বলছিলেন, তখন যেন তিনি ফিরে গিয়েছেন সেই সময়ে। গুলশানের বাসার জানালার দিকে তাকিয়ে আছেন। তার চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠছে। শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছে তিনি বললেন, 'এই ছবির চিত্রায়ণের সময় ঈদ চলে এলো। ঈদের দিনও ছবিটির কাজ হচ্ছে। আর আমার মন পড়ে আছে, ঢাকা আর পরিবারের কাছে। কারণ পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দে যোগ দিতে পারলাম না বলে। শান্তিনিকেতনের একটি ঘরে বসে কাঁদছিলাম। মানিকদা বিষয়টি বুঝতে পেরে তার ছেলে সন্দীপ রায়কে সন্ধ্যায় খাবারের বন্দোবস্ত করতে বললেন। আমার মন ভালো করতে সেটের চারপাশে আলোকসজ্জা করা হলো, রান্না হলো বেশ কয়েক পদের পায়েস আর সেমাই। সত্যিই একটা সময় আনন্দিত হলাম।'
ববিতা আরও বলেন, 'অশনিসংকেত' ছবির কাজ শেষ হওয়ার পরও মানিকদা ও বৌদির সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। আমি ঢাকা থেকে কলকাতায় গেলেই মানিকদার জন্য পদ্মার ইলিশ আর চিংড়ি নিয়ে যেতাম। তিনি আমায় খুব পছন্দ করতেন। মারা যাওয়ার বেশ কিছুদিন আগে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তখন খুব একটা কথা বলতে পারেন না। হাসপাতাল থেকে একটু সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছিলেন। বৌদি বললেন, 'তোর মানিকদা তো কথা বলতে পারবে না। ভেতর গিয়ে একটু দেখে যা। ওটাই আমাদের শেষ দেখা। তার কয়েক মাস পর তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন পরপারে।'

ববিতাই গত শতাব্দীর সত্তর ও আশির দশকে বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মস্কো ও তাসখন্দ চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি অংশ নিয়েছেন অসংখ্যবার। এমনকি মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে একবার হয়েছিলেন জুরিবোর্ডের সদস্যও। তিনি জার্মানি, ইতালি, ভারত, চেকোস্লোভাকিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিসরসহ বহু দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়েছেন। উৎসবের স্মৃতিকথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমার জীবনে প্রথম যে উৎসবে গিয়েছিলাম তার নাম 'বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব'। ১৯৭৩ সালের কথা। সত্যজিত রায়ের 'অশনিসংকেত' ছবির নির্মাণ শেষ। ভারতে ছবিটি মুক্তির আগেই ১৯৭৩ সালে জার্মানির বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রথম প্রদর্শনী হবে। মানিকদাসহ ছবির অন্যান্য অভিনয়শিল্পী জার্মানের পথে রওনা হলাম। জার্মানের ফ্রাঙ্কফুট বিমানবন্দর গিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্টের কারণে আমাকে আটকে দেওয়া হলো। কারণ তখনও জার্মানি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। আমি যেতে পারব না শুনে আমার চোখে পানি চলে এলো। মানিকদা দেখে বললেন, 'কাঁদিস না, দেখি কী করতে পারি'। ঘণ্টাখানেক পর উৎসব কমিটির চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন সরকারি লোকজনের সঙ্গে কথা বলে সেখান থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন। উৎসবে গিয়ে জানতে পারি, আমাদের ছবি 'গ্লোন্ডেন বিয়ার' পুরস্কার জিতেছে। এরপর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসব থেকে আমাদের ডাক আসতে থাকল। সবখানেই সত্যজিৎ রায়ের নায়িকা হিসেবে সম্মান পেয়েছি। বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে বিভিন্ন দেশের উৎসবে গিয়েছি, স্বীকৃতি পেয়েছি- এটাই আমার জন্য গর্বের।"
এখন ববিতা
ববিতার সংসারে রয়েছে এক সন্তান। নাম অনিক। পড়াশোনা করছে কানাডায়। মাঝে মধ্যে ছেলেকে দেখতে কানাডায় যান তিনি। ঢাকার গুলশানের বাড়িতে অনিকের ঘরটিতে গিয়ে বসেন কখনও কখনও। সেখানেই ল্যাপটপের কাজগুলো সারেন। মনে হয়, ছেলের পাশে বসেই কাজগুলো করছেন। গুলশানের বাড়ির ছাদে রয়েছে তার বিশাল বাগান। এই করোনাকালে বাগানের সঙ্গে যেন তার সম্পর্কটা আরও গভীর হয়েছে। দিনের বেশিরভাগ ব্যস্ততা এ ছাদ বাগনকে ঘিরেই। নতুন স্বাভাবিক অবস্থায় বদলে যাচ্ছে কাজের ধরন, জীবনযাপন। করোনার অখণ্ড অবসরে বাড়ির ছাদ বারান্দায় ফল ও সবজির বাগানের পরিচর্যা করে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটছে অনঙ্গ বউয়ের। তিনি বলেন, 'করোনার সাধারণ ছুটিতে লম্বা অবকাশ একেকজনের কেটেছে একেক রকম। আমি আমার অখণ্ড অবসরে বাড়ির ছাদবারান্দায় ফল ও সবজির বাগানের পরিচর্যা করছি। গত ফেব্রুয়ারিতে বড় বোন সুচন্দা বেড়াতে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। তিন ভাইয়ের মধ্যে দু'জন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে আর একজন অস্ট্রেলিয়ায়। ছোট বোন চম্পা এই সময়ে দেশে থাকলেও সেও খুব একটা বাসা থেকে বের হয় না। চারিদিকে পরিচিত সব মানুষ যেভাবে চলে যাচ্ছেন তাতে ভীষণ চিন্তার মধ্য দিয়েই দিন পার করছি।'

ববিতার চিন্তার অবশ্য কারণও আছে। করোনায় তিনি এরই মধ্যে হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন নিকট স্বজনকে। সারাক্ষণ মন ভালো রাখার চেষ্টা করলেও তা পারছেন না এই অভিনেত্রী। তাইতো তার কণ্ঠে ঝরে ব্যথার সুর- 'মনটা বেশ খারাপ।ফুফাতো বোনসহ আমার পরিবারের পাঁচ-ছয়জনকে কেড়ে নিয়েছে করোনা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেশি চিন্তা হচ্ছে। মন খারাপের পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। ছেলে অনিক কানাডায় থাকে। বছরে দু'বার ছেলের কাছে গিয়ে বেড়িয়ে আসতাম। মে মাসে যাওয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে তা পারিনি। ছেলেটাকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছি। যতই দিন যাচ্ছে, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। কী এমন দুর্যোগ পৃথিবীতে এলো, ইচ্ছা করলেও ছেলের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারছি না, আবার চাইলে ছেলেও এ মুহূর্তে আমার কাছে আসতে পারছে না। বড় বোন সুচন্দা আটকে আছে আমেরিকায়। দেশের বাইরে থাকা ভাইবোনদের সঙ্গে ফেসবুকে ভিডিও কলে কথা হয়। করোনা যে কবে যাবে, তারও নিশ্চয়তা নেই। এসব ভেবে মনটা ভালো রাখা খুব কঠিন '।

ঘরবন্দি জীবন কেমন কাটছে জানতে চাইলে ববিতা বলেন, 'শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্ত থাকতে প্রতিদিন ঘরেই অন্তত দেড় ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করছি। গাছপালার পরিচর্যা করছি। গাছে পানি দেওয়া, আগাছা সাফ করতে হচ্ছে। বাইরের শাকসবজি একেবারেই খাই না। লালশাক, পুঁইশাক আমার বাগান থেকেই পাই। যে জন্য ইদানীং অনেক সময় দিচ্ছি নিজের ছাদবাগানে। এরপর সময় পেলে ল্যাপটপে ছবি দেখছি। সত্যজিৎ রায়ের ছবিই দেখছি বেশি। পাশাপাশি পুরোনো কিছু ক্ল্যাসিক ছবিও দেখছি। সব সময় টেলিভিশনের খবর দেখে করোনার আপডেট রাখছি। প্রায়ই ভাবি কেন এক অদৃশ্য ভাইরাসের কবলে পড়ে সবকিছু যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়তই এ মহামারি থেকে মুক্তি লাভের জন্য প্রার্থনা করছি।
বাংলাদেশের সিনেমায় ববিতা এক উজ্জ্বল তারকার নাম। অভিনয় করেছেন প্রায় তিনশ' সিনেমায়। সাতবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। একসময়ের ব্যস্ত অভিনেত্রী অভিনয় থেকে এখন দূরে সরে আছেন। কোনো অভিমান? না অন্য কোনো কারণ? 'কার ওপর অভিমান করব। অভিনয়ে তো ফিরতেই চাই। সে রকম গল্প ও চরিত্র নিয়ে নির্মাতারা এগিয়ে আসছেন না। তাই অভিনয়ে আমাকে দেখা যাচ্ছে না। যেনতেন চরিত্রে অভিনয় করতে চাই না। বরং তার চাইতে আমি মনে করি, দূরে সরে থাকাই ভালো। আমাদের এখানে নাচ-গান আর মারপিটের ছবি ছাড়া কিছু দেখি না। আজ আমি যা অর্জন করেছি সেগুলো কিন্তু ভালো গল্পের ছবিতে অভিনয়ের জন্য। চলচ্চিত্রের প্রতি সবসময় আমার প্রচণ্ড রকম ভালোবাসা কাজ করে। আমি চাই চলচ্চিত্রে আমাদের সামাজিকতা, আমাদের দেশের কৃষ্টি কালচার উঠে আসুক। বক্তব্যধর্মী ছবি হোক। ভালো চরিত্র পেলে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতেও আমার আপত্তি নেই।'