ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

কীটনাশক থেকে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি-দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বাস্তব চিত্র

কীটনাশক থেকে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি-দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বাস্তব চিত্র
×

দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি সিনেমার পোস্টার

উপমা পারভীন

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৩৭ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৩৯

সিনেমা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, কখনও সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও তুলে ধরে। সমাজের অস্বস্তিকর সত্য, মানুষের অদেখা সংকট কিংবা দীর্ঘদিনের অবহেলিত কোনো ইস্যুকে যখন বড় পর্দায় তুলে ধরা হয়, তখন একটি সিনেমা কেবল গল্প বলেই থেমে থাকে না; বরং জনমত গড়ে তোলারও চেষ্টা করে। বলিউডের আসন্ন সিনেমা ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি: স্লো পয়জন ইন প্রগ্রেস’ তেমনই একটি প্রয়াস।

কৃষিতে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশকের ব্যবহার, এর ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সাধারণ মানুষের জীবনে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটি মুক্তির আগেই আলোচনায় উঠে এসেছে।

সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া ট্রেলারটিও দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে ট্রেলারটি প্রকাশের পর থেকেই ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, এটি এমন একটি বিষয়কে সামনে এনেছে, যা প্রতিদিন কোটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত হলেও খুব কমই মূলধারার চলচ্চিত্রে উঠে আসে। 

থ্রিলারধর্মী উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে ছবিটি দেখাতে চেয়েছে কীভাবে উন্নত কৃষি উৎপাদনের নামে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশকের ব্যবহার ধীরে ধীরে মানুষের শরীর, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’ কোনো কাল্পনিক দুর্যোগের গল্প নয়। এটি এমন এক বাস্তবতার কথা বলে, যার প্রভাব প্রতিদিন ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে।

প্রকাশ হওয়া সিনেমার ট্রেলারে দেখা যায়, একের পর এক রহস্যজনক অসুস্থতা, মানুষের দুর্ভোগ এবং সেই ঘটনার পেছনের সত্য অনুসন্ধানের চেষ্টা। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়, সমস্যার শিকড় অনেক গভীরে। কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ও কীটনাশক মানুষের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে।

গল্পটি কেবল পরিবেশ দূষণের কথা বলে না; এটি দায়বদ্ধতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, তথ্য গোপন এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সংগ্রামকেও সামনে নিয়ে আসে। সেই কারণে ছবিটির নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘স্লো পয়জন ইন প্রগ্রেস’। একটি ধীরগতির বিষ, যা অদৃশ্যভাবে মানুষের জীবনকে গ্রাস করছে।

ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল আগরওয়াল। ট্রেলারে তাঁকে দেখা যায় একজন দৃঢ়চেতা নারী হিসেবে, যিনি ভয় কিংবা চাপের কাছে মাথা নত না করে সত্যের অনুসন্ধানে এগিয়ে যান। তাঁর চরিত্র শুধু একজন ব্যক্তির নয়; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো অসংখ্য মানুষের প্রতীক।

নিজের চরিত্র সম্পর্কে কাজল বলেন, ‘এই সিনেমার অংশ হতে পারাটা আমার জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা। সব প্রতিকূলতার মাঝেও আমার চরিত্রটি সত্যের পক্ষে লড়াই করে। এই অদম্য স্পৃহাই সিনেমাটিকে বিশেষ করে তুলেছে।’

অন্যদিকে অভিনেতা শ্রেয়াস তালপাড়ে এমন এক সাধারণ মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি পরিস্থিতির চাপে অসাধারণ এক সংগ্রামের মুখোমুখি হন। তাঁর ভাষায়, ‘ট্রেলারটি সিনেমার মূল আবেগকে ধারণ করেছে। এটি আশা এবং দৃঢ় সংকল্প নিয়ে একজন সাধারণ মানুষের অসাধারণ এক চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্প। দর্শকরা নিশ্চয়ই এই বার্তার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে পারবেন।’

সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডে বাস্তব ঘটনা কিংবা সামাজিক সমস্যা নিয়ে নির্মিত সিনেমার সংখ্যা বেড়েছে। তবে কৃষিতে কীটনাশকের প্রভাবের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে পূর্ণাঙ্গ মূলধারার সিনেমা খুব বেশি দেখা যায়নি। সেই জায়গা থেকেই ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’ আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

পরিচালক চেতন ডিকে মনে করেন, এটি শুধু একটি সিনেমা নয়; বরং একটি জরুরি আলোচনা শুরু করার চেষ্টা। তাঁর ভাষায়, ‘এই গল্পের মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমস্যার ওপর আলোকপাত করতে চেয়েছি, যা নিঃশব্দে প্রতিটি পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলছে। ট্রেলারটি সত্য, সাহস এবং দৃঢ়তার এক শক্তিশালী বার্তার মিশেল। আমরা চাই দর্শকরা শুধু সিনেমা দেখেই ফিরে না যান; বরং বিষয়টি নিয়ে নতুনভাবে ভাবুন।’

ছবির কাহিনি লেখা ও প্রযোজনা করেছেন সাগর বি. শিন্ডে। তাঁর লক্ষ্য ছিল বাস্তবতার সঙ্গে নাটকীয়তার ভারসাম্য রেখে এমন একটি গল্প বলা, যা একই সঙ্গে বিনোদন দেবে এবং চিন্তার খোরাক জোগাবে। শক্তিশালী নির্মাণজি স্টুডিওস এবং এমআইজি প্রোডাকশন অ্যান্ড স্টুডিওসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটির চিত্রগ্রহণ করেছেন নিশান্ত ভাগবত। সংগীত পরিচালনায় রয়েছেন মঙ্গেশ ঢাকড়ে, সম্পাদনায় আশিস মাৎরে, গীতিকার শাকিল আজমি এবং শব্দ পরিকল্পনায় অনমোল ভাবে। সহপ্রযোজক হিসেবে রয়েছেন স্বাতী বিনায়ক সাইন্দানে, অনিতা যাদব, বিনায়ক সাইন্দানে, কল্পেশ শাহ, দেবযানী খোরাটে ও প্রেম যোশী।

আগামীকাল হিন্দি, তেলেগু ও তামিল এই তিন ভাষায় মুক্তি পাবে ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি: স্লো পয়জন ইন প্রগ্রেস’। বর্তমান সময়ে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। সেই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’ কেবল একটি থ্রিলার নয়; বরং মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, নিরাপদ খাদ্য এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসা একটি চলচ্চিত্র। ট্রেলার অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিয়েছে। এটি এমন এক লড়াইয়ের গল্প, যেখানে প্রতিপক্ষ অদৃশ্য, কিন্তু তার প্রভাব ভয়াবহ।

আরও পড়ুন

×