ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

‘ক্যারিয়ারের পথচলাকে এক ধরনের শিক্ষা সফর হিসেবে দেখি’

‘ক্যারিয়ারের পথচলাকে এক ধরনের শিক্ষা সফর হিসেবে দেখি’
×

মোস্তাফিজুর নূর ইমরান

এমদাদুল হক মিলটন

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১৭:০১

ছয় সেকেন্ডের একটি দৃশ্য থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত সিনেমার প্রধান চরিত্র– মোস্তাফিজুর নূর ইমরানের পথচলা যেন ধৈর্য, প্রস্তুতি আর আত্মবিশ্বাসের এক দীর্ঘ গল্প। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কিন্তু অভিনয়কে কখনোই ক্ষণিকের জনপ্রিয়তার জায়গা হিসেবে দেখেননি; বরং প্রতিটি চরিত্রের ভেতরে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। সেই কারণেই আজও তিনি বলেন, ‘চরিত্রের ভেতর নিজেকে খুঁজে পাই।’

বাগেরহাট থিয়েটারে অভিনয়ের হাতেখড়ি। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হয়ে অভিনয়চর্চার পরিধি আরও বড় হয়। ২০০৭ সালে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেও শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। প্রথম টেলিভিশন নাটকে ছোট্ট একটি চরিত্র, পরে ‘গেরিলা’ সিনেমায় মাত্র ছয় সেকেন্ডের উপস্থিতি। এরপর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা একটি কাজ দীর্ঘ সময় ধরে নির্মিত হলেও মুক্তি পায়নি। এমন অভিজ্ঞতা একাধিকবার এসেছে তাঁর জীবনে। কিন্তু অপেক্ষাকে তিনি কখনও ব্যর্থতা হিসেবে দেখেননি; বরং বিশ্বাস করেছেন, ভালো কাজের জন্য সময় প্রয়োজন।

ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এসে তাঁর অভিনয়জীবন নতুন গতি পায়। ‘মহানগর’-এর ইন্সপেক্টর মলয় চরিত্র তাঁকে দর্শকের কাছে নতুন পরিচয় দেয়। এরপর ‘কাইজার’, ‘জাহান’, ‘রঙিলা কিতাব’, ‘ফেউ’ এবং ‘গুলমোহর’– প্রতিটি কাজেই ভিন্ন ধরনের চরিত্র বেছে নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, নিজেকে পুনরাবৃত্তি করার চেয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

চলতি বছর তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘রইদ’। গত ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিতে ‘রইদ’ সিনেমায় ‘সাধু’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। চরিত্রটির জন্য শুধু সংলাপ মুখস্থ করাই নয়, বাস্তব জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা অর্জনেও সময় দিয়েছেন। নৌকা চালানো, গরু চরানো, গ্রামের মানুষের সঙ্গে বসবাস– সব মিলিয়ে চরিত্রটির ভেতরে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি যতটা না ‘সাধু’ হয়ে উঠতে চেয়েছি, প্রকৃতি আমাকে ততটাই সাদু করে তুলেছে।’

‘রইদ’-এর সাফল্য তাঁর জন্য শুধু জনপ্রিয়তা নয়, অভিনয়জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া তাঁকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি সম্প্রতি পরিচালক হিসেবেও নতুন যাত্রা শুরু করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান।

চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে চরকির জন্য নির্মিত ‘জ্বীনের বাচ্চা’ তাঁর প্রথম পরিচালিত কাজ। প্রথম পরিচালনাতেই দর্শকের ইতিবাচক সাড়া তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে।

পরিচালনার দ্বিতীয় কাজও ইতোমধ্যে এগিয়ে চলছে। একটি কাজের পোস্ট প্রোডাকশন করেছেন তিনি। এ মাসের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাবে। এমনটি জানান এ অভিনেতা। তাঁর ইচ্ছা, প্রচলিত গল্পের বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধরনের ভাষা ও নির্মাণশৈলী নিয়ে কাজ করা।

ক্যামেরার পেছনে কাজ করার কারণ প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, ‘একজন অভিনেতার জীবনে সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয় ভালো চরিত্র, নির্মাতা ও গল্পের জন্য। আমাদের দেশের চাইলেও এক বছরে ১০টা ভালো কাজ এসে হাজির হবে না। ভালো কাজের অপেক্ষা যখন করতে হয়। তাই এই মাঝখানের সময়টা কাজে লাগাতে চাই। আমি আগে মঞ্চে নির্দেশনা দিতাম। সেখানে আর কাজ করা হচ্ছে না। আমার কাছে অনেক গল্প জমা আছে। তা ছাড়া এক ধরনের টিম ক্রিয়েট করতে চাই। আমি যা শিখেছি তা দিয়ে নতুন কিছু গল্প বলার চেষ্টা জারি রাখতে চাই। পরবর্তীকালে যারা কাজ করতে চাচ্ছেন বা চাইবেন তাদের সবাইকে একটু কানেক্ট করার ইচ্ছা রয়েছে। এসব ভাবনা থেকেই পরিচালনায় এসেছি।’

অভিনেতা হিসেবেও সামনে ব্যস্ত সময় অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য। এন রাশেদ চৌধুরীর ‘সখী রঙ্গমালা’ সিনেমার কাজ শেষ করেছেন মোস্তাফিজ নূর ইমরান। সিনেমাটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি ভিন্নধারার সিনেমা। নির্মাতা এর আগেও ভালো সিনেমা বানিয়েছেন। পিরিয়ডিক্যাল কাজ করতে পছন্দ করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে এ ধরনের কাজে থাকতে পারা ভালো একটি অভিজ্ঞতা। আশা করছি, কাজটি দর্শকের পছন্দ হবে।’

এ ছাড়া নতুন একটি ওয়েব প্রজেক্টের কাজ শেষ করেছেন, যদিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে বিস্তারিত বলতে চান না।  দীর্ঘ পথচলার দিকে ফিরে তাকালে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান এখনও নিজেকে সংগ্রামের মধ্যেই দেখেন। তিনি বলেন, ‘ক্যারিয়ারের পথচলাকে এক ধরনের শিক্ষা সফর হিসেবেই দেখি।’

আরও পড়ুন

×