ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার চক্রের মূল হোতা গ্রেপ্তার: সিআইডি

কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার চক্রের মূল হোতা গ্রেপ্তার: সিআইডি
×

গ্রেপ্তার রুবেল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১৭:৪৮

কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে পাচারের পর পাসপোর্ট ছিনিয়ে নেওয়া, অর্থ আত্মসাৎ এবং নির্যাতনের অভিযোগে মো. রুবেল (২৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থানা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার খাগজানা গ্রামে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব। 

এর আগে ৩ জুলাই ‘কম্বোডিয়া থেকে নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে ফিরলেন তরুণী’ এই শিরোনামে সমকালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। 

সিআইডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আর্থিক সংকটে থাকা ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার সময় রুবেলের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে রুবেল তাঁকে কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখান। বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রথমে এনজিও থেকে নেওয়া এক লাখ টাকা এবং পরে বিভিন্ন সময়ে আরও অর্থসহ মোট চার লাখ টাকা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর পাসপোর্টও সংগ্রহ করে।

সিআইডি জানায়, ২০২৫ সালের আগস্টে ভুক্তভোগীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রের সদস্যরা তাঁর পাসপোর্ট ও সঙ্গে থাকা অর্থ ছিনিয়ে নেয়। পরে তাঁকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করে অনিচ্ছাকৃত কাজ করানো হয়। চক্রটি ওই নারীর উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করে। এ ছাড়া বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি প্রাণনাশ ও অন্য দালালের কাছে বিক্রির হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। 

সিআইডি আরও জানায়, কয়েকটি সংস্থার সহায়তায় চলতি বছরের ১ জুলাই দেশে ফিরে আসেন ভুক্তভোগী। এরপর তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতেই মূল অভিযুক্ত রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের আদেশে তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

মানব পাচার চক্রের অন্য সদস্য, আর্থিক লেনদেন, বিদেশে অবস্থানরত সম্ভাব্য ভুক্তভোগী এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত করছে পুলিশ। একই সঙ্গে এই চক্রের মাধ্যমে আরও কোনো বাংলাদেশি পাচারের শিকার হয়েছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সিআইডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

আরও পড়ুন

×