ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

রিভিউ

পুলিশ-মোহনলালের বুদ্ধির খেলায় কেমন হলো ‘দৃশ্যম ৩’

পুলিশ-মোহনলালের বুদ্ধির খেলায় কেমন হলো ‘দৃশ্যম ৩’
×

‘দৃশ্যম ৩’ সিনেমায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জর্জকুটি (মোহনলাল)। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

সাদিকুর রহমান

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ১৬:৩৭ | আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ | ১৬:৫২

দর্শকের পছন্দের যেহেতু ভিন্নতা আছে, তাই শিরোনামের প্রশ্নটির উত্তর এক কথায় দেওয়াটা সমীচীন নয়। তবে পূর্ণতা-অপূর্ণতার কয়েকটি দিক তুলে ধরে কিছুটা ধারণা দেওয়া যেতে পারে।

এক কিশোরের লাশ গুম করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছিল মালয়ালম সিনেমা ‘দৃশ্যম’ ফ্রাঞ্জাইজির প্রথম দুই কিস্তি। সেই লাশ গুম করে কেন্দ্রীয় চরিত্র জর্জকুটি (মোহনলাল) যে অপরাধ করেছিলেন, তা অস্বীকারের উপায় নেই। কিন্তু এরপরও অপরাধ ধরা পড়ার কাছাকাছি মুহূর্তগুলোতে দর্শক হিসেবে আমরা জর্জকুটির বুদ্ধির খেলা আর মুক্তি দেখতে চেয়েছি। 

তৃতীয় কিস্তির গল্পে বুদ্ধির খেলার চেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে অবরাধবোধের যন্ত্রণায়। এবার পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়ার চতুর কোনো খেলা নেই। জর্জকুটিও আর গ্রামের সেই কেবল টিভি অপারেটর নন। তিনি এখন একটি সফল সিনেমার প্রযোজক। সেই খ্যাতির মধ্যেই শুরু হয় বড় মেয়ে আনজুর (আনশিবা) বিয়ের কথাবার্তা। তাতে বাদ সাধে পুরনো ঘটনার স্মৃতি। প্রতিবেশীদের কানাঘুষা আর চেনা মানুষদের বাঁকা চাহনি জর্জকুটিকে মনে করিয়ে দেয়- সমাজ তাঁর পরিবারকে ক্ষমা করেনি। 

ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

গল্পের এই পর্যায়ে পরিচালক জিতু জোসেফ কোনো রোমাঞ্চের আশ্রয় না নিয়ে অপরাধবোধ আর মানসিক অবসাদকে বেশি পর্দায় এনেছেন। দেখিয়েছেন, জর্জকুটির সবচেয়ে বড় শাস্তি কোনো জেলখানা নয়, বরং সারাজীবন একটি ভয়ের মধ্যে বেঁচে থাকা।

থ্রিলার সিনেমায় উত্তেজনা ধরে রাখার জন্য সাধারণত জমজমাট কিছু চমকের ওপর ভরসা করা হয়। দৃশ্যম ৩ দেখার সময় আপনি যদি সে প্রত্যাশা নিয়ে বসেন, তাহলে হতাশ হতে পারে। কারণ এবারের চিত্রনাট্যটি একদিকে আবেগঘন ‘ফ্যামিলি ড্রামা’ অন্যদিকে ক্রাইম থ্রিলার হয়ে ওঠার দ্বন্দ্বে ভুগেছে। 

সিনেমার প্রথমার্ধ বেশ মন্থর। মূল গল্পে ঢুকতে পরিচালক একটু বেশিই সময় নিয়ে ফেলেছেন। আগে থেকেই জানা অপরাধ ও জর্জকুটির পরিবারের মানসিক অবস্থাকে টেনে বড় করার ফলে চিত্রনাট্য অনেকটাই একঘেয়ে হয়ে গেছে।

অভিনয়ের দিক থেকে মোহনলাল আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি বড় মাপের অভিনেতা। ক্লান্তি, ভয় আর ভেতর থেকে ভেঙে পড়া এক বাবার অসহায়ত্বকে তিনি দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী, সন্তানদের চরিত্র সেই আগের গণ্ডিতেই আটকে আছে। কাউকে নতুন কোনো ভূমিকায় মেলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়নি। 

জর্জকুটির চরিত্রে মোহনলাল। ছবি: সংগৃহীত

তবে প্রথম কিস্তির সেই নিষ্ঠুর পুলিশ সহদেবন (কালভবন শাজন) আর শান্ত স্বভাবের প্রভাকরের (সিদ্দিক) চরিত্রকে এবার প্রতিশোধপরায়ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের গল্প সিনেমার শেষ দিকে গিয়ে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি করে।

মালয়ালম সিনেমা দেখার ক্ষেত্রে কেরালার প্রকৃতির সজীবতা অনেক দর্শককেই টানে। দৃশ্যমের আগের দুই কিস্তিতেও সেটা ছিল। এবার সেই চেনা পরিবেশ নেই। আবহ সঙ্গীতেও নেই টানটান উত্তেজনা জাগানোর মতো কিছু।

প্রশ্ন উঠতে পারে এতো অপূর্ণতা সত্ত্বেও দৃশ্যম ৩ কেন দেখবেন? এবারের কিস্তির আসল জোর এর নৈতিক ভাবনার মধ্যে। যা আমাদের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। আইন যেখানে কেবল প্রমাণের ওপর ভর করে চলে, সেখানে মানবিক ন্যায়বিচার বলতে আসলে কী বোঝায়? বুদ্ধি কি আসলেই অপরাধের চেয়ে নৈতিকভাবে বড় হতে পারে? 

সব মিলিয়ে, প্রত্যাশার পারদ কিছুটা নিচুতে রেখে সিনেমাটি দেখতে বসলে নিরাশ হবেন না। তবে শেষ দৃশ্যে নতুন কিস্তির ইঙ্গিতটা বেশ ক্লান্তিকর। প্রথম দুই কিস্তির মাধ্যমে দৃশ্যম ফ্রাঞ্জাইজি যে ভালো লাগা তৈরি করেছিল, সেটিকে অতিরিক্ত টেনে ধ্বংস করার কোনো মানে হয় না।

ভারতীয় সিনেমা হলগুলোতে দৃশ্যম ৩ মুক্তি পেয়েছে গত মে মাসে। দেশটির গণমাধ্যমগুলোর খবর বলছে, চলতি মাসের শেষ দিকে বা আগামী মাসের শুরুতে এটি অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পেতে পারে। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে অবৈধভাবে রেকর্ড করা একটি সংস্করণ ছড়িয়ে পড়েছে। 

আরও পড়ুন

×