উপস্থাপক মানেই সব বিষয়ে সমান জানাশোনা আছে, ধারণাটা ভুল: শ্রাবণ্য
শ্রাবণ্য তৌহিদা। ছবি: ফেসবুক
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | ১৩:২৪ | আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ | ১৩:৩৮
শ্রাবণ্য তৌহিদা। উপস্থাপক, মডেল ও অভিনেত্রী। এটিএন বাংলার ‘ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬’সহ আরও বেশ কিছু অনুষ্ঠান উপস্থাপনা নিয়ে কাটছে তাঁর ব্যস্ত সময়। বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে আয়োজিত এই লাইভ অনুষ্ঠান ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে...
বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে দেখা যায়। বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর পর কী সেই ব্যস্ততা আরও বেড়ে গেছে?
ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়াটা ছিল সময়ের দাবি। চার বছর অন্তর বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলে নানা আয়োজন। সেখানে আমরাও কোনোভাবে পিছিয়ে দলে নই। যতভাবে পারি বিশ্বকাপের মৌসুমটা নানা আয়োজনে বর্ণাঢ্য করে তোলার চেষ্টা করি। যেজন্য প্রতিটি টিভি চ্যানেলে বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে নতুন সব আয়োজন করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এই যেমন আমাকেও এনটিএন বাংলা টিভি চ্যানেল থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬’ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনার। নিজে যেহেতু খেলা পাগল মানুষ, তাই এই দায়িত্বটা আনন্দের সঙ্গে পালন করছি।
উপস্থাপক হিসেবে একেক অনুষ্ঠানে একেক বিষয় নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে অনুষ্ঠান তথ্যবহুল করতে কীভাবে প্রস্তুতি নেন?
উপস্থাপনার আগে যতটা অনুষ্ঠানের বিষয়ে সম্ভব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার চেষ্টা করি। প্রতিটি কাজের প্রস্তুতিতে দর্শক পালস বুঝতে পারা জরুরি। এজন্য অতিথিদের কী প্রশ্ন করা যায়, দর্শক কোন বিষয়গুলো জানতে আগ্রহী– এসব নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হয়। এখন কেউ যদি মনে করেন, উপস্থাপক মানেই সব বিষয়ে সমান জানাশোনা আছে; তাহলে বলতে হবে, এই বিষয়ে তাদের ধারণাটা ভুল।

ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় বেশকিছু অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন, যেগুলো দর্শকের কাছে ভীষণ পছন্দের। ফুটবল বিশ্বকাপের লাইভ আয়োজনে অংশ নিয়েও দর্শক মনোযোগ কাড়ছেন– খেলাধুলার প্রতি কী আলাদা দুর্বলতা আছে?
শুধু নিজের নয়, চারপাশে সবারই তো দেখি খেলাধুলার প্রতি এক ধরনের ভালো লাগা কাজ করে। এই যে, ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল চলছে, এ নিয়ে দেশজুড়ে কত কী ঘটে চলেছে। প্রিয় দলের জার্সি পরে অনেকে র্যালি বের করছেন, পতাকার রঙে ঘরবাড়ি, দোকানপাট রাঙাচ্ছেন; রাস্তাঘাট, অফিস আদালতে সব জায়গায় বিভিন্ন দলের পক্ষে-বিপক্ষে মেতে উঠছেন তর্ক-বিতর্কে। এর বাইরে আরও কত কী যে ঘটছে বিশ্বকাপকে ঘিরে, যা লিখে বা বলে শেষ করা যাবে না। এককথায়, বিশ্বকাপ ঘটনাবহুল করে তুলছে দর্শক। এর পেছনে শুধু একটাই চাওয়া প্রিয় দলকে বিজয়ী হিসেবে দেখা। এই যে এত রকম মানুষ, এত কিছু করছেন– আমি তো তাদের বাইরের কেউ নই। তাই ক্যামেরার সামনে নিরপেক্ষ থাকলেও পেছনে কোনো না কোনো দলের সমর্থক নিজেও। প্রিয় দল ও খেলোয়াড়ের সাফল্যে আমিও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠি।
খেলাধুলার বাইরে অন্যান্য অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় কি একই রকম আনন্দ পান?
খেলাধুলার প্রতি দুর্বলতা আছে, কিন্তু তার মানে এই নয়, এর বাইরে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠান নির্মাণ করা হলে, সেখানে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করব না। যখন কোনো কাজ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠে, তখন সেই কাজের প্রতি আকর্ষণটা বেড়ে যায়। সত্যি এটাই, আমাদের বেশির ভাগ অনুষ্ঠানে গবেষণা ও স্ক্রিপ্টের কাজ উপস্থাপকদের করতে হয়। এটা একদিক থেকে যেমন চ্যালেঞ্জিং তেমনি দারুণ সুযোগ কাজের মধ্য দিয়ে মেধাচর্চার। এ কারণে প্রিয় বিষয়ের বাইরেও অন্যান্য অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় এতটুকু সংকোচ কাজ করেনি। রিয়েলিটি শো থেকে শুরু করে রান্না, স্বাস্থ্য, সংগীত, ইন্টেরিয়র, সেরা পরিবারসহ নানা বিষয় বেছে নিয়েছে অনুষ্ঠান উপস্থাপনায়।

মাঝেমধ্যে অভিনয়ে দেখা গেছে আপনাকে। কিন্তু নিয়মিত হয়নি, এর কারণ কী?
অভিনয়ের প্রতি এ ধরনের ভালো লাগা আছে। এজন্য যখন ভালো কোনো কাজের সুযোগ পেয়েছি, অভিনয়ের জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি। আগামীতেও নাটক, সিনেমা, ওয়েব সিরিজ– যেটাই হোক, কাজ করতে আপত্তি নেই। তবে অভিনেত্রী বা মডেল হিসেবে দেখার সুযোগ তখনই পাবেন, যখন পছন্দসই কোনো গল্প ও চরিত্র হাতে আসবে। তবে অভিনেত্রী হিসেবে আমাদের পর্দায় নিয়মিত দেখার সুযোগ নেই, কারণ অভিনয়টা আমার শখ, পেশা নয়।
- বিষয় :
- শ্রাবণ্য তৌহিদা
- উপস্থাপনা
