মিলি অ্যালককের কাঁধে ডিসি ইউনিভার্সের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
‘সুপারগার্ল’ সিনেমায় মিলি অ্যালকক
মীর সামী
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ১৬:৫৪
ডিসি ইউনিভার্সে নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল সুপারম্যানকে দিয়ে। সেই যাত্রার পরবর্তী এক অধ্যায় হয়ে এলো ‘সুপারগার্ল’। এবারের ছবিটি শুধু আরেকটি সুপারহিরো সিনেমা নয়; বরং এটি এক আহত, ক্ষুব্ধ এবং অসম্পূর্ণ নায়িকার আত্ম-অন্বেষণের গল্প। দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের কাছে সুপারগার্ল মানেই ছিল আশাবাদী, উজ্জ্বল এবং সুপারম্যানের ছায়াসঙ্গী এক চরিত্র। এবার নির্মাতা ক্রেইগ গিলেস্পি সেই পরিচিত ধারণাকে ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর নির্মিত সুপারগার্ল অনেক বেশি রুক্ষ, আবেগপ্রবণ এবং অপ্রত্যাশিত।
ডিসি স্টুডিওসের প্রধান জেমস গানও আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই কারা জোর-এল তাঁর বিখ্যাত কাজিনের মতো নন; তিনি জীবনের অন্ধকার দিকগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র কারা জোর-এল বা সুপারগার্লের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মিলি অ্যালকক। ‘হাউস অব দ্য ড্রাগন’ সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীর কাঁধেই এবার নতুন ডিসি ইউনিভার্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের দায়িত্ব।
ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই তাঁর অভিনয়, শারীরিক ভাষা এবং চরিত্রের প্রতি নিবেদন নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আরও রয়েছেন ম্যাথিয়াস শোয়েনার্টস, ইভ রিডলি, ডেভিড ক্রুমহোল্টজ, এমিলি বিচ্যাম, ডেভিড কোরেনসোয়েট এবং জেসন মোমোয়া। বিশেষ করে লোবো চরিত্রে জেসন মোমোয়ার উপস্থিতি ছবিটির অন্যতম বড় আকর্ষণ। ডিসির কমিক পাঠকদের কাছে বহুদিনের জনপ্রিয় এই চরিত্রকে প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় দেখতে মুখিয়ে আছেন ভক্তরা।
এবারের সিনেমার গল্পের শুরু ক্রিপ্টনের ধ্বংসস্তূপ থেকে। নিজের গ্রহের পতন, আপনজনদের মৃত্যু এবং দীর্ঘ একাকীত্ব কারাকে করে তুলেছে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। পৃথিবীতে বেড়ে ওঠা সুপারম্যানের মতো তিনি মানুষের প্রতি সহজে বিশ্বাস রাখতে পারেন না। বরং গ্যালাক্সির নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েই তাঁর বড় হওয়া। সেই কারণে এই সুপারগার্ল অনেক বেশি কঠোর, অনেক বেশি মানবিক।
এবারের অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কারার প্রিয় কুকুর ক্রিপ্টো। এক ভয়ংকর ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করতে মহাকাশজুড়ে যাত্রা শুরু করেন সুপারগার্ল। এই অভিযানে তিনি মুখোমুখি হন ভয়ংকর শত্রুদের, যার মধ্যে অন্যতম ক্রেম অব দ্য ইয়েলো হিলস।
প্রতিশোধ, ন্যায়বিচার এবং হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের খোঁজ। সব মিলিয়ে এটি পরিণত হয়েছে এক মহাজাগতিক রোড-অ্যাডভেঞ্চারে। তবে ছবিটির শক্তি শুধু অ্যাকশনে নয়, আবেগেও। সুপারগার্লের যাত্রা মূলত একজন মানুষের নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার গল্প। ক্রিপ্টনের শেষ উত্তরাধিকারীদের একজন হিসেবে তিনি যেমন অতীতের ভার বহন করেন, তেমনি নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্বও তাঁর কাঁধে। ফলে ছবিটি একদিকে যেমন প্রতিশোধের গল্প, অন্যদিকে তেমনি আত্মমুক্তিরও গল্প। জনপ্রিয় কমিক ‘সুপারগার্ল: ওম্যান অব টুমরো’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন আনা নোগেইরা।
ডিসি স্টুডিওসের নতুন পরিকল্পনায় এই চলচ্চিত্রের গুরুত্বও অনেক। ‘সুপারম্যান’-এর পর নতুন ডিসি ইউনিভার্সকে আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে ‘সুপারগার্ল’কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জেমস গান ও পিটার সাফরানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন ডিসি ইউনিভার্সে চরিত্রনির্ভর গল্প বলার যে চেষ্টা চলছে, তার অন্যতম উদাহরণ হতে পারে এই সিনেমা। চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর ভিজ্যুয়াল স্কেল। মহাকাশযুদ্ধ, অজানা গ্রহের বিস্ময়কর জগৎ, এলিয়েন সভ্যতার বৈচিত্র্য দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। ট্রেলারের বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা গেছে রঙিন অথচ বিপজ্জনক এক মহাবিশ্ব, যেখানে প্রতিটি গ্রহ ও চরিত্রের নিজস্ব গল্প রয়েছে। ডিসি ইউনিভার্সে সুপারম্যান যেখানে আশার প্রতীক, সেখানে সুপারগার্ল হয়ে উঠতে পারেন সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার প্রতীক।
