ফেরান তোরেস
ফুটসাল খেলে ফুটবলার
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের একমাত্র গোলটি করেন ফেরান তোরেস এএফপি
আহসান হাবিব সম্রাট
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩৮ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ | ০৯:২৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের জয়সূচক গোলের নায়ক ফেরান তোরেস শিশু বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটসাল খেলতে ভালোবাসতেন। এ সময়েই তাঁর মধ্যে ফুটবল প্রতিভার দেখা মিলেছিল। এক দিন স্কুল থেকেই বিখ্যাত ভ্যালেন্সিয়া সিএফ একাডেমি থেকে ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পান। মাত্র ৬ বছর বয়সেই তোরেসকে একাডেমিতে ভর্তি করে নেওয়া হয়।
১৬ বছর বয়সে ভ্যালেন্সিয়ার সিনিয়র দলে অভিষেক হয় তোরেসের । সবচেয়ে কম বয়সে স্প্যানিশ লিগে ৫০ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়ে ফেলেন। সে সময় উদীয়মান এই তারকাকে দলে নিতে প্রতিযোগিতায় নামে দুই জায়ান্ট ক্লাব বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। শুরুতে এই দলের কোনোটিতেই না গিয়ে ইংলিশ লিগ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন এই উইঙ্গার। এরপর দ্রুতই ডাক আসে স্পেন জাতীয় দল থেকে।
২০২০ সালে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ম্যানচেষ্টার সিটিতে যোগ দেন তোরেস। সে সময় তাঁকে দলে নিতে পেরে ম্যানসিটির ফুটবল পরিচালক জিকি বেগিরিসটেইন উচ্ছ্বাস জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা তোরেসের বিকাশটা খুব ভালো করে লক্ষ্য করেছি এবং মুগ্ধ হয়েছি। সে তরুণ একজন প্রতিভা, যে কিনা এখনও প্রতিনিয়ত উন্নতি করছে। কিন্তু তাঁর এমন টেকনিক্যাল গুণাবলি রয়েছে, যা আমরা একজন উইঙ্গারের মধ্যে চেয়েছি। সে খুবই দ্রুত, বল দখলে দারুণ ছুটতে পারে ও একবারের মুভমেন্টেই নিজেকে নাগালের বাইরে নিতে পারে এবং ম্যাচজয়ী মুহূর্ত তৈরি করতে পারে।’
একই বছর জাতীয় দলে ডাক পান তোরেস। তবে স্পেন দলে এই উইঙ্গারের অভিষেক ঘটে ২০২২-এর কাতার বিশ্বকাপে। এর পরই থেকেই লা রোজা দলের নিয়মিত মুখ তিনি। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ৬৫ ম্যাচ খেলে ২৫ গোল করেছেন বার্সেলোনার এ ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপের শুরুতে পারফরম্যান্সে কিছুটা ছন্দপতন হয়েছিল তোরেসের। কেপ ভার্দের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে তাঁকে একাদশে রেখেছিলেন স্পেন কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে। কিন্তু ম্যাচটিতে লা রোজা দল গোলশূন্য ড্র করায় পরের ম্যাচে একাদশ বদলে ফেলেন কোচ। এরপর বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে বদলি খেলোয়াড় হিসেবেই মাঠে নামেন ২৬ বছরের এই উইঙ্গার। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে পর্তুগালের বিপক্ষে স্পেনের জয়সূচক গোলটি এসেছিল তোরেসের অ্যাসিস্ট থেকে। ফাইনালেও তাঁর কাছ থেকে এমন কিছুই আশা করেছিলেন কোচ। এ কারণে ৬১ মিনিটে মাইকেল ওয়াইরসাবালকে তুলে নিয়ে তোরেসকে মাঠে নামান ফুয়েন্তে। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচটিতে জয়সূচক গোল করে কোচের আস্থার প্রতিদান দেন তিনি। টুর্নামেন্টজুড়ে নিয়মিত একাদশে সুযোগ না পাওয়া তোরেসই যেন স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের নায়কে পরিণত হন।
ম্যাচ শেষ এই উইঙ্গার বলেন, ‘টুর্নামেন্টজুড়ে আমি অনেক সমালোচনার শিকার হয়েছি। এই গোলটি আমার সব চাপ এক পাশে সরিয়ে দিয়েছে। ভাগ্যই যেন আমার জন্য অন্যরকম কিছু লিখে রেখেছিল। (দুঃসময়ে) আমাকে সব সময় এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগানোয় সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। যেটা আমি সব সময়ই বলে থাকি, সৃষ্টিকর্তা তাদেরই সবকিছু দেন যারা এটার জন্য সবচেয়ে যোগ্য।’ লা রোজা দলের এই তারকা বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই গোল শুধু আমার একার নয়। এটি ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের (স্পেনের জনসংখ্যা) গোল। যারা বিশ্বকাপ শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে আমাদের সঙ্গে মাঠেই ছিল। আমরাই বিশ্বকাপ ট্রফি জেতার যোগ্য দাবিদার ছিলাম এবং ভাগ্যও যেন আমাদের জয় নির্ধারণ করে রেখেছিল। চ্যাম্পিয়ন হতে আমরা মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছি এবং সেরাটাই মেলে ধরেছি।’
- বিষয় :
- বিশ্বকাপ ফুটবল
- ফুটবলার