সোনালি প্রজন্মে বিচ্ছেদের সুর
ছবি- এএফপি
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ১৭:১১
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) কার্যালয়ের জাদুঘরের গ্যালারিতে যে কটি দলগত ছবি রয়েছে, কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি তাতে উজ্জ্বল নক্ষত্র। তারার মেলায় কিছু তারকাকে যেমন খুব সহজে আলাদা করা যায়, দেশটির ফুটবল আকাশে তেমনই উজ্জ্বল নক্ষত্র তারা। ম্যারাডোনাকে আবর্তিত করে ছিয়াশির বিশ্বকাপ জিতেছেন সার্জিও বাতিস্তা, মার্সেলো বোচিনিরা। সময়ের সেরা দল ছিল সেটি। বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্ত তৈরি হয়েছিল ম্যারাডোনাকে দেখে। টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা ম্যারাডোনার বিদায়ের পর সাদামাটা একটি দলে পরিণত হয়েছিল আলবিসেলেস্তারা।
লিওনেল মেসির দলটিকে দেশটির ফুটবলের সোনালি প্রজন্ম বলা হয়। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের খেলোয়াড়দের দলগত ছবি দেখলে সমর্থকদের চোখে খেলে খুশির ঝলক। কোচ লিওনেল স্কালোনিকে নিয়ে এই দলটিকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন মেসি। এই সোনালি প্রজন্মের দলেও হয়তো বিচ্ছেদের রাগিণী বাজবে খুব তাড়াতাড়ি। কারণ, পরের বিশ্বকাপ নিয়ে এখন থেকেই যে ভাবতে হবে আর্জেন্টিনাকে।
মেসি ৩৯ বছর বয়সে খেলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লিগের দল ইন্টার মায়ামিতে। তিনি চাইলে জাতীয় দলে আরও দুই বছর খেলতে পারবেন অনায়াসে। তবে সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখা বেশি কিছু চাওয়া। কারণ, তখন মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর। ওই বয়সে বিশ্বকাপের মতো হাইভোল্টেজ টুর্নামেন্টে খেলা ভীষণ কঠিন। মেসির মতো কিংবদন্তি অতটা স্বার্থপর না হওয়ারই কথা। আর তাঁর না খেলা মানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে এক সুতায় বেঁধে রাখা কঠিন। দেশটির বর্তমান দলে মেসি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো তারকা নেই। তাই নতুন ম্যারাডোনা বা নতুন মেসির খোঁজ করতে হবে তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনাকে। সোনালি প্রজন্মের দল থেকে এক-দুই বছরের মধ্যেই মেসি, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকোদের সময় ফুরিয়ে যেতে পারে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ মাথায় রেখে নতুন তারকার খোঁজ করতে হবে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে।
যদিও স্পেনের কাছে ফাইনালে হেরে কোচ মিডিয়ায় বলেছেন, ‘এখন ওর বয়স ৩৯ বছর। এককথায় সে অবিশ্বাস্য। তার থেকে আমি নতুন কিছু আর বের করতে পারব না। এই কথা আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি। মেসি যত দিন চায় খেলে যেতে পারে। সব সমর্থক, সতীর্থ তাঁর পাশে থাকবে। আমি নিশ্চিত, প্রত্যেকে ওকে নিয়ে গর্বিত। ও যা অর্জন করেছে, নিঃসন্দেহে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার।’
আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটিকে অভিজ্ঞ আর তরুণ খেলোয়াড়ে ভারসাম্য এনেছিলেন কোচ। যেখানে হেভিওয়েট খেলোয়াড় মেসি। বাকিরা সাধারণ। ক্লাব ফুটবলে তাদের প্রভাব থাকলেও মেসিকে ছাড়া কখনও খেলেনি। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর্জেন্টিনাকে বিকল্প ভাবতে হতে পারে শতবর্ষী বিশ্বকাপ মাথায় রেখে। যদিও এই দল নিয়েই ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা। সদ্য শেষ হওয়া উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপের রানার্সআপ তারা। শেষ চার বিশ্বকাপের তিনটিতে ফাইনাল খেলে রানার্সআপ দুবার। কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে দুবার।
সাফল্যে মোড়ানো এই দলটিকে কোচ হয়তো এক সুতায় বেঁধে রাখার চেষ্টা করবেন আরও কিছুদিন। কারণ, মেসিদের সাফল্যে সফল তিনিও। বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ কোচ স্কালোনির এই দলে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, হুয়ান মুসো। মিডফিল্ডে লিওনার্দো বালেরদি, গঞ্জালো মন্তিয়েল, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, ফাকুন্দো মেদিনা, নাহুয়েল মলিনা। মিডফিল্ডে ভালেন্তিন বার্কো, জিওভান্নি লো সেলসো, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ। আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেজ, লিওনেল মেসি, নিকোলাস গঞ্জালেজ, থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমিওনে, নিকোলাস পাজ, হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ, লাউতারো মার্তিনেজরা হয়তো দলকে এগিয়ে নেবেন। তবে সময়ের আবর্তে একটি-দুটি তারা ঝরে পড়া স্বাভাবিক। সেখানে গোলক্ষক হেরোনিমো রুইয়ি, মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ঢুকে যেতে পারেন সেই ঝুঁকির তালিকা।
- বিষয় :
- লিওনেল মেসি
- আর্জেন্টিনা