ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

মারামারি কাণ্ডে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের কী শাস্তি হতে পারে?

মারামারি কাণ্ডে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের কী শাস্তি হতে পারে?
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ১৬:৩৬

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। স্পেনের কাছে হারের পর দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ ঘটনায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস, থিয়াগো আলমাদা, নাহুয়েল মোলিনা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি ঘটনার ভিডিও, ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এক বা একাধিক শাস্তি দেওয়া হতে পারে।

কী ধরনের শাস্তি হতে পারে?

দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা: ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক কিংবা সব ধরনের ফুটবল কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে। অতীতে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় এমন শাস্তির নজির রয়েছে।

স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি লুইস রুবিয়ালেস স্পেনের নারী বিশ্বকাপ জয়ের পর জেনি এরমোসোর ঠোঁটে চুমু দেওয়ার ঘটনায় ফিফা এই ধারার অধীনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল। রুবিয়ালেসকে ২০২৩ সালে তিন বছরের জন্য সব ধরনের ফুটবল-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং তিনি সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের আবেদনেও সফল হননি। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ইতালির ডিফেন্ডার জর্জিও কিয়েলিনিকে কামড় দেওয়ার কারণে উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজকে চার মাসের জন্য সব ধরনের ফুটবল-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এর ফলে লিভারপুলের খেলোয়াড় হিসেবে তিনি প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের প্রথম নয়টি ম্যাচ খেলতে পারেননি। তবে আলমাদা, আয়ালা, মোলিনা ও পারেদেসের ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা হওয়ার আশঙ্কা কম।

আর্থিক জরিমানা: ঘটনার দায়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এর বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। অতীতেও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় বিভিন্ন জাতীয় ফেডারেশনকে জরিমানা করেছে ফিফা।

ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা: সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের আগামী আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা টুর্নামেন্টের এক বা একাধিক ম্যাচে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: যদি কোনো কোচ বা কর্মকর্তা শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা বা অন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আর্জেন্টিনা এর আগেও খেলোয়াড়দের আচরণগত কারণে ফিফার শাস্তির মুখে পড়েছে। সর্বশেষ এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ফলে এবারও তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে তদন্ত এখনো চলমান। ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত নয়। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আরও পড়ুন

×