জন্মদিনের মধ্যাহ্নভোজ হঠাৎ গড়ায় মোদির পদত্যাগ দাবির বিক্ষোভে
আটক হওয়ার আগে নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেসের নেতারা। মঙ্গলবার দিল্লিতে। ছবি: এএফপি
ইন্ডিয়া টুডে
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ২১:২২ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ | ২১:৩৪
ভারতে তরুণদের আন্দোলনের মধ্যেই পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগের দাবি তুলেছে কংগ্রেস। সংসদের প্রধান বিরোধী দলটির নেতারা মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। কয়েক ঘণ্টা পর সেখান থেকে পুলিশ বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজনকে আটক করেছে।
বিকেলে হঠাৎ করেই লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে একাধিক দাবি জানাতে শুরু করেন কংগ্রেসের নেতারা। এই কর্মসূচির বিষয়ে আগে থেকে কোনো ঘোষণা ছিল না। বিকেলে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ শীর্ষ নেতারা দলটির সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন রাজাজি মার্গে যান। এদিন ছিল খাড়গের ৮৪তম জন্মদিন। তখন সবাই ভেবেছিলেন, জন্মদিনের মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনে অংশ নিতে নেতারা জড়ো হয়েছেন। কিন্তু এরপর সবাই দুই কিলোমিটার দূরের লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে যান।
নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে পৌঁছে কংগ্রেস নেতারা বিক্ষোভ শুরু এবং ছাত্রদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে মোদি ও অমিত শাহর পদত্যাগ চেয়ে স্লোগান দেন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, ছাত্রদের ওপর লাঠিপেটার ঘটনায় দলটি প্রথমে বিজয় চক পর্যন্ত মিছিলের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। মঙ্গলবার দিল্লির মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। পরিস্থিতি দেখে কংগ্রেস দ্রুত পরিকল্পনা বদলায়। এই পরিকল্পনাটির বিষয়ে হাতেগোনা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা অবগত ছিলেন।
বিকেল তিনটার দিকে নেতারা কংগ্রেস সভাপতির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য রাজাজি মার্গে যান। একে একে রাহুল, প্রিয়াঙ্কাসহ অন্য নেতারা জড়ো হওয়ার পর সবাই একসঙ্গে বাইরে বেরিয়ে লোক কল্যাণ মার্গের উদ্দেশে যাত্রা করেন। ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, আচমকা এই পদক্ষেপে পুলিশ একেবারেই প্রস্তুত ছিল না। প্রথমে তাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে কয়েক মিটার দূরে আটকে দেওয়া হয়। এরপর নেতারা সেখানেই বসে দাবি জানাতে থাকেন।
কংগ্রেসের তোলা চারটি দাবি হলো- শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা নিয়ে পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাওয়া। কয়েক ঘণ্টা ধরে অবস্থান চলার পর দিল্লি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কংগ্রেস এমপিদের আটক করতে শুরু করে। শুরুর দিকে আটক করা হয় কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারসহ কয়েকজনকে। এরপর আটক হন এমপি সুখজিন্দর সিং।
একাধিক এমপি আটক হলেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ আরও কয়েকজন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকেন। পরে পুলিশ কংগ্রেসের এই দুই শীর্ষ নেতাকেও আটক করে নিয়ে যায়। তাদের কোথায় নেওয়া হয়েছে তা রাত ৯টা পর্যন্ত জানা যায়নি।
আরও পড়ুন: মোদিজি, দেশটা আপনার বাপের নয়: কেজরিওয়াল