ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংশোধিত নতুন বিশ্ব মানচিত্র জাতিসংঘে অনুমোদন, কী বদল আসছে?

সংশোধিত নতুন বিশ্ব মানচিত্র জাতিসংঘে অনুমোদন, কী বদল আসছে?
×

সেনেগালের রাজধানী ডাকারে আফ্রিকার দেশগুলোর পতাকায় আঁকা আফ্রিকা মহাদেশের একটি ভাস্কর্যের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন মানুষ। ছবি: রয়টার্স

রয়টার্স

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:৫৭ | আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:৫৭

বিশ্বের প্রচলিত মানচিত্রে আফ্রিকার আয়তন প্রকৃত তুলনায় ছোট করে দেখানো হয়। এ ধারণা বদলাতে ‘ইকুয়াল আর্থ’ নামে নতুন একটি মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। শুক্রবার ১৬৪-১ ভোটে এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস হয়। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়।

আফ্রিকার দেশগুলোর উদ্যোগে উত্থাপিত প্রস্তাবটির নেতৃত্ব দেয় টোগো। এতে ষোড়শ শতাব্দী থেকে বহুল ব্যবহৃত ‘মারকেটর’ মানচিত্রের পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তন তুলে ধরে এমন মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

মারকেটর মানচিত্রে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি থাকা ভূখণ্ডগুলো বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় দেখায়। যেমন এই মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে প্রায় আফ্রিকার সমান আয়তনের মনে হয়। অথচ বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়।

আফ্রিকার দেশগুলোর মতে, মানচিত্রে আয়তনের এই বিকৃতি আফ্রিকাকে বিশ্বের তুলনামূলকভাবে ছোট ও প্রান্তিক অঞ্চল হিসেবে দেখার ধারণাকে জোরদার করেছে। ভোটের আগে রয়টার্সকে টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসেই বলেন, ‘একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে ন্যায্য বিশ্ব শুরু হয়।’

তবে জাতিসংঘের প্রস্তাবটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। টোগোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সমুদ্র ও আকাশপথে নেভিগেশনের ক্ষেত্রে মারকেটর মানচিত্র ব্যবহারে এ প্রস্তাব কোনো বাধা তৈরি করবে না। এ ধরনের কাজে মানচিত্রটি এখনো কার্যকর।

প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এই উদ্যোগ একটি ‘আদর্শিক এজেন্ডা’ এগিয়ে নিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুসম্পর্কের মতো ‘প্রকৃত সমস্যা’ থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে।

এ বছরই স্কুলের বইয়ে মানচিত্র বদলাবে টোগো

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো মারকেটর মানচিত্রের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। তবে টোগো এ বছরের শেষ নাগাদ স্কুলের ভূগোলের বই ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণে নতুন মানচিত্র চালুর পরিকল্পনা করছে।

টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসেই বলেন, ‘ভূগোলের বই বদলানো প্রথম দেশ হবে টোগো।’ শ্রেণিকক্ষে মানচিত্র পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্য দেশগুলোর জন্যও উদাহরণ তৈরি করতে চান তারা।

দুসেই জানান, কয়েক শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত মারকেটর মানচিত্র থেকে সরে এসে ইকুয়াল আর্থ মানচিত্র ব্যবহারে বিভিন্ন সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রযুক্তি কোম্পানিকে উৎসাহিত করবে টোগো।

আগামী ছয় মাসের মধ্যে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্যদেশ ও অন্যান্য অঞ্চলের সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন মানচিত্রের ব্যবহার বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করবে দেশটি। এ আলোচনায় মানচিত্র, জিপিএস ও অন্যান্য অবস্থানভিত্তিক প্রযুক্তি পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই উদ্যোগকে ঔপনিবেশিক আমলের উত্তরাধিকার মোকাবিলায় আফ্রিকার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে তার দাবি, এটি ইউরোপ বা অন্য কোনো সভ্যতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নয়।

দুসেইয়ের মতে, মারকেটর মানচিত্রের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের পেছনে ঔপনিবেশিকতার প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বদলে যাচ্ছে। বদলাচ্ছে আফ্রিকাও।’
 

আরও পড়ুন

×