বাঘবন্ধু ও আমি
গল্প লিখেছে ও ছবি এঁকেছে আরওয়া তাহফিজাহ রূপকথা
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
আধা ঘণ্টা হয়ে গেলো কেউ এলো না এখনও। আর ভালো লাগছে না। আমি স্কুল থেকে এবার একাই রওনা দিলাম। স্কুল থেকে বেরিয়ে হাঁটতে থাকলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর দেখলাম, আমাকে একজন ফলো করছে। তার হাঁটা আর তাকানো সন্দেহজনক। আমি জোরে হাঁটলে সেও জোরে হাঁটে। ধীরে হাঁটলে সেও ধীরে হাঁটে। দাঁড়ালে সেও দাঁড়ায়। এখন সে প্রায় কাছে চলে এসেছে আমার। আমি জোরে হাঁটছি। দুষ্ট কোনো লোক হবে নিশ্চয়ই। ছেলেধরাও হতে পারে। আমি পেছনে ফিরে দেখি, লোকটা আর আসছে না। বরং উল্টো দিকে হাঁটছে। বুঝলাম না ঘটনা। আমি আবার হাঁটতে যাবো, তখনই ধাক্কা খেলাম বাঘের সঙ্গে। গায়ে ডোরা কাটা। এবার বুঝলাম, লোকটা কেন পালিয়ে গেলো।
-কী তুমি আজ একা কেন? বললো বাঘটা।
-জানি না। আজ মা আসেনি, আমি বললাম।
-তাই বলে একা একা। ভাগ্যিস আমি এলাম। দুষ্ট লোকটা যদি তোমাকে ধরে নিয়ে যেতো।
-আমার আসলে একা একা বের হওয়া ঠিক হয়নি। মায়ের জন্য অপেক্ষা করা দরকার ছিল। তোমাকে ধন্যবাদ।
-চলো তোমাকে পৌঁছে দিই।
আমরা হাঁটতে হাঁটতে গল্প করছি। বাঘবন্ধুর সঙ্গে আমার এর আগেও দেখা হয়েছিল। তখন আমার ৩ বছর বয়স। আজ দেখা হলো প্রায় এক বছর পর। তাই গল্পও বেশ জমেছে। গল্প করতে করতে আমরা বাসার সামনে চলে এলাম। দেখলাম, আমার ছোট কাজিন বোন সাফা ও সারা এসেছে। তারা এখনও অনেক ছোট, হাঁটতে পারে না। হয়তো মা এজন্যই ব্যস্ত।
বাঘ দাঁড়িয়ে আছে।
-কী হলো? চলো বাসায়, আমি বললাম বাঘকে।
-তোমার বোনেরা তো তোমার মতোই কিউট। ওদের কোলে নিতে ইচ্ছে করছে। আমি তো ওদের কোলে নিতে পারবো না। আমার নখগুলো বড় আর ধারালো। অনেক দিন হলো কাটা হয়নি, বললো বাঘ।
-তুমি কি জানো না, প্রতি সপ্তাহে নখ কাটতে হয়। আমি তো সপ্তাহে একদিন নখ কাটি। না হলে সেখানে জীবাণু বাসা বাঁধে। সেই জীবাণু পেটে গেলে অসুস্থ হয়ে যাবে, আমি বললাম।
-ঠিক বলেছো তুমি। আমি ভুলেই গেছি নখ কাটতে। সবারই প্রতি সপ্তাহে নখ কাটা দরকার। পরিষ্কার রাখা দরকার। এখনই আমি নখগুলো কেটে আসছি। তুমি বাসার ভেতরে যাও।
বলেই দৌড়ে কোথায় চলে গেলো বাঘ।
আমি বাসায় ঢুকলাম। সাফা-সারা ড্রইং রুমে খেলছে। আমাকে দেখতেই হামাগুড়ি দিয়ে ছুটে এলো!
বয়স: ১+২+৪ বছর; প্রথম শ্রেণি, নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা
- বিষয় :
- বাঘ