ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমানোর উপায়
অধ্যাপক ডা. আলতাফ সরকার
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
ডিমেনশিয়া সাধারণত বার্ধক্যজনিত ভুলোমনের সমস্যা হলেও এর প্রকোপ গুরুতর হতে পারে। বর্তমানে পাঁচ কোটির বেশি মানুষ বিশ্বব্যাপী ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। আলঝেইমার্সের মতো দুরারোগ্য ব্যাধিও এক ধরনের ডিমেনশিয়া। বয়স বাড়লে তো বটেই, কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস এবং বংশগত কারণও কম বয়সে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন করে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। নিয়মিত কিছু ঘরোয়া কাজ ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
মানসিক স্বাস্থ্য ও সৃজনশীলতা
lঘর পরিষ্কার করা: এই কাজ মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও অবসাদ কমাতে সরাসরি সাহায্য করে। ঘর পরিষ্কারের সময় মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন হরমোন তৈরি হয়, যা মনের উন্নতি ঘটায়। এটি নিয়মিত ধ্যানের মতোই ইতিবাচক ফল দেয়।
lবাগানের কাজ: এটি মানসিক চাপ কমিয়ে মন ও শরীরকে সতেজ রাখে, যার ইতিবাচক প্রভাব মস্তিষ্কের ওপর পড়ে এবং চারপাশের চাপের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
lরান্না করা: রান্না একটি সৃজনশীল কাজ। রান্নার প্রক্রিয়া, যেমন– সবজি কাটা বা মসলা বাছাই মস্তিষ্কের বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত রাখে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়।
শারীরিক ও শ্বাসের ব্যায়াম
lনিয়মিত ব্যায়াম (হাঁটা): প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করা জরুরি। এর মধ্যে হাঁটা সবচেয়ে কার্যকর; যা হাড়, হাড়ের সংযোগ ও মাংসপেশিকে সবল রাখে। এটি ভালো ঘুম ও ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।
lপ্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার পা হাঁটার লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত।
lএকা হাঁটার পরিবর্তে সঙ্গী নিয়ে হাঁটার চেষ্টা করলে অভ্যাসটি বজায় রাখা সহজ হয়।
lনিয়মিত হাঁটলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে, মন ভালো থাকে এবং দুশ্চিন্তা দূর হয়।
lশ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (ব্রিদিং এক্সারসাইজ): যে কোনো ব্যায়াম করার সময় যদি ঠিকমতো শ্বাস-প্রশ্বাস চালাতে অসুবিধা হয়, তবে বুঝতে হবে ব্যায়ামটি সঠিক হচ্ছে না। তাই নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা উচিত। বড় করে শ্বাস নেওয়া এবং ছাড়া– এ প্রক্রিয়াটি নাক দিয়ে করার চেষ্টা করা ভালো।
লেখক : মাস্কুলোস্কেলিটাল ডিজঅর্ডারস বিশেষজ্ঞ
- বিষয় :
- বার্ধক্য
