ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে যে ৭ অভ্যাস

মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে যে ৭ অভ্যাস
×

প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪২

শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ, তবুও আমাদের অজান্তেই অনেক দৈনন্দিন অভ্যাস মানসিক সুস্থতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এসব অভ্যাস প্রায়ই নিরীহ বলে মনে হয়, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এগুলো মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অবসাদ এবং আবেগগত ক্লান্তির কারণ হতে পারে। 

‘ইন্ডিয়া টিভি’র এক প্রতিবেদনে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অনুষ্কা মোদি এমন কিছু অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কথা বলেছেন যা মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।সেই সাথে কীভাবে সার্বিকভাবে ভালো থাকা সে কথাও উল্লেখ করেছেন। যেমন-

সকালে স্ক্রল করা
ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথেই ফোন হাতে তুলে নিলে, দিন শুরু হওয়ার আগেই আপনার মস্তিষ্ক অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে উঠতে পারে। অবিরাম নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়ার আপডেট এবং অপ্রয়োজনীয় খবর মানসিক জঞ্জাল তৈরি করতে পারে।  স্ক্রিন ব্যবহার করার আগে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শরীরচর্চা করুন, ডায়েরি লিখুন অথবা দিনের সূচনা উপভোগ করুন।

নিজের সবচেয়ে বড় সমালোচক হওয়া 
যে অভ্যাসগুলো মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে তার মধ্যে অন্যতম হলো নিজের সাথে নেতিবাচক কথা বলা। ক্রমাগত নিজের সমালোচনা করলে আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে, আত্ম-সন্দেহ বাড়তে পারে এবং আপনাকে মানসিকভাবে আটকে রাখতে পারে। নিজের সাথে কঠোরভাবে কথা বলার পরিবর্তে, ধৈর্য এবং সহানুভূতি দেখান। কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে আপনি যেভাবে সমর্থন করতেন, নিজের সাথেও ঠিক সেভাবেই আচরণ করুন।

একসাথে একাধিক কাজ করা 
অনেকে মনে করেন, একসাথে একাধিক কাজ করলে তারা বেশি কাজ করতে পারেন, কিন্তু প্রায়ই এর ফল হয় উল্টো। একসাথে একাধিক কাজ করলে আপনার মনোযোগ কমে যেতে, কর্মদক্ষতা হ্রাস পেতে এবং মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে।  একাগ্রতা এবং মানসিক স্বচ্ছতার জন্য একবারে একটি কাজে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিন। 

বিরতি না নেওয়া 
বিরতি না নিয়ে একটানা কাজ করলে তা অবসাদ, উদ্বেগ এবং ক্রমাগত মানসিক ক্লান্তির কারণ হতে পারে। ব্যস্ত থাকলে নিজেকে সক্রিয় মনে হলেও, আপনার মস্তিষ্কেরও বিশ্রাম এবং শক্তি সঞ্চয়ের জন্য সময়ের প্রয়োজন। সারাদিন ধরে ছোট ছোট বিরতি নিলে তা শক্তি পুনরুদ্ধার করতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

বাইরে না যাওয়া 
সারাদিন ঘরের ভেতরে কাটালে উদ্বিগ্ন, অলস এবং বিচ্ছিন্ন বোধ করতে পারেন। কয়েক মিনিটের জন্য বাইরে গেলেও মন ভালো লাগবে। যখনই সম্ভব বাইরের আলো-বাতাস গায়ে লাগান। এতে আপনার মেজাজ ভালো থাকবে। মানসিক চাপও কমবে।  

অভিযোগ করা 

ক্রমাগত অভিযোগ করা নেতিবাচক চিন্তাগুলিতে আরও শক্তিশালী করে । সেই সঙ্গে প্রতিবন্ধকতা থেকে এগিয়ে যাওয়াকে আরও কঠিন করে তোলে। আপনার আবেগ চেপে রাখার বা বারবার সমস্যা নিয়ে ভাবার পরিবর্তে, মনের কথা প্রকাশ করুন। এক্ষেত্রে ডায়েরি লেখা, বিশ্বস্ত কোনো বন্ধুর সাথে কথা বলা বা একজন থেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়া স্বাস্থ্যকর উপায় হতে পারে।

সব কিছুতে হ্যাঁ বলা

সবকিছুতে হ্যাঁ বলা সহায়ক বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এই অভ্যাস মানুষকে মানসিকভাবে ক্লান্ত এবং ভারাক্রান্ত করে তোলে। অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি অপ্রয়োজনীয় চাপ এবং বিরক্তি তৈরি করতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে না বলতে শিখুন। 

আরও পড়ুন

×