ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ভুলে যাওয়া যখন রোগ

ভুলে যাওয়া যখন রোগ
×

 ডা. রাশেদ সোহরাওয়ার্দী

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ০৯:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

কমবেশি সবাই ভুলে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। এই ভুলে যাওয়া কি সাধারণ কোনো ঘটনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো রোগ বা অসুখ? ডিমেনশিয়া নিয়ে যখনই কথা বলি সবাই মনে করেন, আমিও তো ভুলে যাই। তাহলে আমারও কি ডিমেনশিয়া হয়েছে? কোন ধরনের সমস্যাকে ডিমেনশিয়া বলা হয়– চলুন, জেনে নেওয়া যাক।
ডিমেনশিয়ার কারণে নিকটতম অতীতের স্মৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবার আগে। অতীতের কথা খুব ভালোভাবে বলতে পারেন; কিন্তু একটু আগে কী করেছেন, তা মনে করতে পারেন না। এ ছাড়া দিন-তারিখ-সময় মনে করতে পারবেন না। একই কথা বারবার জিজ্ঞেস করতে থাকেন।
দৈনন্দিন কাজ সম্পাদনে সমস্যার সৃষ্টি হবে। যেমন– কোনো কিছু ভালোমতো পরিকল্পনা করার পরও তালগোল পাকিয়ে ফেলা বা বাড়ির রাস্তা ভুলে যাওয়া ইত্যাদি।
ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হবে। মাঝেমধ্যে সঠিক শব্দ খুঁজে পাবেন না বা কথার খেই হারিয়ে ফেলবেন। এমনকি উত্তেজিত হয়ে যেতে পারেন।
ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির স্থান ও সময় নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে। আজ মাসের কত তারিখ বা কী বার– এটি তারা বলতে পারবেন না। এমনকি নিজের ঘরকেও অপরিচিত মনে হতে পারে।
ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন এবং তিনি যা ভাবছেন, সেটিই সঠিক বলে মনে করবেন। এটি নিয়ে অন্যদের সঙ্গে মনোমালিন্য তৈরি হতে পারে।
ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি গণনা করা ভুলে যাবেন। টাকা-পয়সা বা অন্যান্য হিসাব তারা রাখতে পারবেন না বা ভুল করবেন। লেনদেনের ক্ষেত্রে অসংগতি দেখা দেবে।
ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র খুঁজে পাবেন না। যেমন– মানিব্যাগ, দলিলপত্র। তারা নিজেরা লুকিয়ে রাখবেন, কিন্তু ভুলে যাবেন যে কোথায় রেখেছেন।
হঠাৎ মুড পরিবর্তন হওয়া ডিমেনশিয়ার আরেকটি লক্ষণ। রেগে যাওয়া, কারণ ছাড়া মন খারাপ করা, ডিপ্রেশনে ভোগা। এ ছাড়া আচার-ব্যবহারে পরিবর্তন আসতে পারে।
ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন আসা। যেমন– হাসিখুশি মানুষটি হঠাৎ গম্ভীর ও বদরাগী হয়ে যেতে পারেন। আগে অনেক মিশুক ছিলেন; এখন একেবারে চুপচাপ।
আমরা সবাই মাঝেমধ্যে একঘেয়েমিতে ভুগি। আবার ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির কোনো কিছু করার প্রতি আগ্রহ বা উৎসাহ থাকে না।
ওপরের এক বা একাধিক কারণ যদি কোনো মানুষের মধ্যে দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে নিওরোলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
লেখক: ডিমেনশিয়া বিশেষজ্ঞ।

আরও পড়ুন

×