বিমানবন্দরে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে ৮৭৬ টন পণ্য
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকে বেবিচকের চিঠি
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর
আবু হেনা মুহিব
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ১১:৫১ | আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ | ১৪:০১
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে আমদানি করা ৮৭৬ টন কাঁচামাল। এর মধ্যে কিছু দাহ্য রাসায়নিকও রয়েছে। এসব পণ্যের প্রায় পুরোটাই তৈরি পোশাক খাতের। অনেক দিন এসব কাঁচামাল বিমানবন্দরের অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘টারম্যাক’ এলাকায় রয়েছে। টারম্যাক এলাকা হচ্ছে বিমানবন্দরের রানওয়ের বাইরে বিমানের পার্কিং, জ্বালানি নেওয়া, যাত্রী ওঠানামা করা বা মালাপত্র লোড-আনলোড করার পিচ বা কংক্রিটের চত্বর। বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে আমাদানির এসব পণ্য যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার বড় কারণ হতে পারে।
সম্প্রতি বিষয়টি জানিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) তৈরি পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর কাছে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, পণ্য জটের কারণে বিমানবন্দরে ফায়ার টেন্ডার চলাচল অর্থাৎ অগ্নিনির্বাপক গাড়ি চলাচল এবং এয়ার সাইড অপারেশন অর্থাৎ রানওয়ে, টারম্যাক, বিমান মেরামতের স্থান হ্যাঙ্গারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঝুঁকি এড়াতে এসব পণ্য টারম্যাক এলাকা থেকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে। এর আগেও একাধিকবার এ বিষয়ে অনুরোধ করে কোনো ফল না হওয়ার কথাও বলা হয় এতে।
বিবেচকের চিঠি পেয়ে বিজিএমইএ আমদানি করা পণ্য দ্রুত বিমানবন্দর থেকে ছাড় করিয়ে নিতে সদস্যের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। এ বিষয়ে বেবিচকের চিঠিও সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও খোলা আকাশের নিচে পণ্য সংরক্ষণ করায় বৈরী আবহাওয়ায় আমদানি করা কাঁচামাল কখনও রোদে পুড়ে, কখনও বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। সময়মতো আমদানি পণ্য ডেলিভারি না নিলে বিমান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উচ্চ হারে ডেমারেজ চার্জ আদায়ের করবে বলে সসদ্যদের সতর্ক করেছে বিজিএমইএ।
আকাশপথে সাধারণত রপ্তানিমুখী পণ্যের স্যাম্পল বা নমুনা পরিবহন করা হয়। রপ্তানি আদেশ প্রক্রিয়ায় ব্র্যান্ড-ক্রেতাদের পণ্যের নমুনা পাঠানো হয়। সেই নমুনা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করে আবার ব্র্যান্ড-ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় একাধিকবার নমুনা পরিবহন করা হয়। আমদানি ও রপ্তানির এই প্রক্রিয়ায় বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ ব্যবহার করা হয়। নমুনা পরিবহনের বাইরে জরুরি কিছু কাঁচামাল, এক্সেসরিজ আমদানিতেও হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ ব্যবহার হয়ে থাকে। এ ছাড়া কুরিয়ারে পাঠানো আমদানি-রপ্তানি নথিপত্রও থাকে এর মধ্যে।
জানতে চাইলে তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গতকাল সমকালকে বলেন, আসল কথা হচ্ছে– কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তৈরি করা জটিলতার কারণেই আমদানিকারকরা সময়মতো পণ্য খালাস করে নিতে পারেন না। আকাশপথে আমদানি করা সবই অত্যন্ত জরুরি পণ্য। এ কারণেই সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যয় কম– তা সত্ত্বেও কয়েকগুণ বেশি পরিবহন ব্যয়ে আকাশপথে আনা হয়। জরুরি এই কাঁচামাল বিমানবন্দরে ফেলে রাখার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। তিনি বলেন, কেন পণ্য খালাস হচ্ছে না– সে বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করতে পারে সরকার।
ঢাকা কাস্টমস এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টিতে ভিজে ও রোদে পুড়ে কিছু পণ্যের মান নষ্ট হচ্ছে। কিছু দিন পর বর্ষা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এ ব্যাপারে কোনো প্রতিকার না পেয়ে ব্যবসায়ীরা মনঃক্ষুণ্ন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে তারা বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি।
এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) হিসাব অনুসারে, গত অক্টোবরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিদুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে ২০০ কোটি টাকার রপ্তানিমুখী ওষুধসামগ্রী পুড়ে নষ্ট হয়। এতে রপ্তানি সরবরাহ ব্যাহত হয়।
