সন্ধ্যায় নয়, মধ্যরাতে মঞ্চে উঠবেন সঞ্জয়
বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে ফেস্টের সমাপনী আয়োজন
সঞ্জয় দেব। ছবি:সংগৃহীত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১৩:২৭ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৩৮
ফিফা বিশ্বকাপের এবারের আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন সংগীতশিল্পী ও সংগীত পরিচালক সঞ্জয় দেব এবার দেশের মঞ্চে উঠতে যাচ্ছেন। আজ রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে আয়োজিত ‘ফ্যান ফেস্ট ২.০’-এর সমাপনী আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করবেন তিনি। তবে আগে ঘোষণা করা সন্ধ্যা ৬টায় নয়, সঞ্জয় দেবের পরিবেশনা শুরু হবে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশনস তাদের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হালনাগাদ সময়সূচিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সঞ্জয়ের আগে মঞ্চে পরিবেশনা করবেন ডিজে জুডু।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল উপলক্ষে ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশনস ছয় দিনব্যাপী আয়োজন করেছে ‘ফ্যান ফেস্ট ২.০’। আজ আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ সরাসরি উপভোগের পাশাপাশি দর্শকদের জন্য থাকছে লাইভ কনসার্ট, ডিজে পারফরম্যান্স এবং বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক আয়োজন।
ফ্যান ফেস্টের যাত্রা শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালের দিন। গত ১৪ জুলাই উদ্বোধনী দিনে পারফর্ম করেন ফিরোজ জং ও ডিজে সুমন। এরপর মঞ্চ মাতান ব্ল্যাক জ্যাং, ডিজে তন্ময়, সংগীতশিল্পী তাসনিম আনিকা, ডিজে প্রিয়ন্তী, মিলা ইসলাম, ডিজে রিশাদ, ডিজে তৃষা ও ডিজে সানী। সমাপনী আয়োজনে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন সঞ্জয় দেব। সর্বশেষ সময়সূচি অনুযায়ী, রাত ১১টা ৩০ মিনিটে মঞ্চে উঠবেন তিনি। তাঁর আগে দর্শকদের মাতিয়ে রাখবেন ডিজে জুডু।
অনলাইন টিকিট প্ল্যাটফর্ম ‘টিকিট টুমরো’-তে টিকিট বিক্রি চলছে পুরোদমে। ফাইনাল ম্যাচের দিনের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০০ টাকা। লাইভ কনসার্টে অংশ নিতে গত শুক্রবার ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন সঞ্জয়। দেশে ফিরেই তিনি কনসার্টের ভেন্যু ঘুরে দেখেন এবং ভক্তদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তাও দেন। গতকাল বনানীর একটি স্টুডিওতে টানা মহড়ায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন এই ডিজে ও সংগীত পরিচালক।
এর আগে সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় বলেন, ‘বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার সুযোগ আমার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি বাংলাদেশের পরিচয় বিশ্বদরবারে তুলে ধরারও একটি বড় সুযোগ ছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের দেশের দর্শকদের সামনে দাঁড়াতে পারছি—এটা সত্যিই অন্যরকম অনুভূতি। এক ঘণ্টার পরিবেশনায় ফিফার অফিসিয়াল সাউন্ডট্র্যাক ‘সির সির’ অবশ্যই থাকবে। পাশাপাশি আমার জনপ্রিয় কিছু ট্র্যাক এবং দর্শকদের অনুরোধের গানও পরিবেশনের চেষ্টা করব। আমি চাই, সবাই যেন সংগীতের সঙ্গে গলা মেলান, নাচেন এবং বিশ্বকাপ ফাইনালের এই উৎসবটি আজীবন মনে রাখার মতো একটি সন্ধ্যায় পরিণত করতে পারি।’
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কানাডা পর্বে সঞ্জয়ের পরিবেশনা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। নিজের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি পোশাকেও তিনি তুলে ধরেন বাংলাদেশের পরিচয়। তাঁর পরনে থাকা মেরুন রঙের স্যুটে ফুটে ওঠে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, শাপলা এবং লাল-সবুজের প্রতীকী নকশা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পর এবার দেশের মাটিতে তাঁর পরিবেশনা সংগীতপ্রেমীদের জন্য বিশেষ এক মুহূর্ত হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন আয়োজকরা। তাদের প্রত্যাশা, সঞ্জয়ের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে দর্শকদের উচ্ছ্বাস আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলে জন্ম নেওয়া সঞ্জয় দেবের বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে। তিন বছর বয়সেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রশিক্ষণ শুরু করেন তিনি। ১১ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। খেলাধুলা বা অন্য কোনো বিষয়ে তেমন আগ্রহ না থাকলেও সংগীতই ছিল তাঁর একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান। কখনও ভাবেননি, এই সংগীতই তাঁর জীবনের পথ হয়ে উঠবে। বর্তমানে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক (ইডিএম) প্রযোজক ও ডিজে হিসেবে কাজ করছেন। দেশের মাটিতে তাঁর এই পরিবেশনা ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশাও তুঙ্গে।
- বিষয় :
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
- সঞ্জয় দেব