ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা ৯৪ শতাংশ অর্থনীতিবিদের

বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা ৯৪ শতাংশ অর্থনীতিবিদের
×

ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ১১:৫৮ | আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ | ১৩:৫৮

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রধান অর্থনীতিবিদদের ওপর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) এক জরিপে অংশগ্রহণকারী ৯০ শতাংশ বলেছেন, আগামী এক বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হবে। ২০২৬ সালের শুরুতে যে সতর্ক আশাবাদ দেখা গিয়েছিল, তা এখন উল্টে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৪ শতাংশ অর্থনীতিবিদ আগামী বছরে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছেন।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সর্বশেষ ‘চিফ ইকোনমিস্টস আউটলুক’ নামের প্রতিবেদনে জরিপের বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি জেনেভা থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ডব্লিউইএফ। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ চিত্র উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ দেখছেন তারা। 

প্রধান অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার প্রভাব গত বছরের শুল্ক অস্থিরতার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। যদি এ পরিস্থিতি বছরের জুন পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তাহলে এর প্রভাব কভিড-১৯ মহামারির সময়কার সংকটের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, জ্বালানি ও খাদ্য ব্যয়ের ওপর আরও চাপ তৈরি হবে। 

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিয়া জাহিদি বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগেও প্রধান অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সতর্ক আশাবাদ ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সেই পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। এখন ধারণা করা হচ্ছে, এর অর্থনৈতিক ক্ষতচিহ্ন আগামী কয়েক মাস পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই বিঘ্ন যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, এর দীর্ঘমেয়াদি মূল্য তত বেশি দিতে হবে তাদের, যারা তা বহন করার সামর্থ্য সবচেয়ে কম রাখে।

‘চিফ ইকোনমিস্টস আউটলুক’ প্রতিবেদনটি সরকারি ও বেসরকারি খাতের শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে পরামর্শ ও জরিপের ভিত্তিতে তৈরি করে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম সেন্টার ফর দ্য নিউ ইকোনমি অ্যান্ড সোসাইটি। এই সংস্করণের জরিপ পরিচালিত হয় গত ৬ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত। 

অঞ্চলভেদে অসম অর্থনৈতিক চিত্র

সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক মাস আগেও অঞ্চলটিকে সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু এখন জরিপে অংশ নেওয়া ৮৮ শতাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করেন, এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি দুর্বল বা খুবই দুর্বল হবে। 

অন্যদিকে, সাব-সাহারান আফ্রিকায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এবং এটি জরিপে অন্তর্ভুক্ত সব অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইউরোপে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ায় ‘স্ট্যাগফ্লেশন’-এর ঝুঁকি বাড়ছে। তবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশ দুটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বিনিয়োগ অর্থনীতিকে সহায়তা করবে।

মন্দার ঝুঁকি কম, তবে অস্থিরতা বেশি

পরিস্থিতির অবনতি হলেও জরিপে বড় ধরনের বৈশ্বিক মন্দার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ প্রধান অর্থনীতিবিদ আগামী ১২ মাসে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দায় পড়বে বলে মনে করেন না। তবে অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা দ্রুত বাড়বে, এমন সম্ভাবনাও তারা দেখছেন না। সবকিছু অনেকাংশে নির্ভর করবে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর। স্বল্পমেয়াদি ধাক্কা হলে পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়াবে।

আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৯ শতাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করেন, আগামী বছরে বেসরকারি ঋণবাজারে অস্থিরতা বাড়বে। ৭৪ শতাংশ মনে করেন সরকারি ঋণবাজারে এবং ৬৮ শতাংশ মনে করেন শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে।

এআই নিয়ে আশাবাদ আছে, তবে কিছুটা কমেছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখনও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৯২ শতাংশ প্রধান অর্থনীতিবিদ আগামী বছরে এআই ব্যবহারের বিস্তার ঘটবে বলে মনে করেন। তবে এআই থেকে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির গতি নিয়ে আগের তুলনায় তারা কিছুটা সংযত হয়েছেন। গত জানুয়ারিতে যে ধারণা ছিল, এখন তার তুলনায় প্রায় সব শিল্প খাতেই উৎপাদনশীলতার উল্লেখযোগ্য সুফল পেতে বেশি সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও শিক্ষা খাত ছাড়া অন্য সব খাতে প্রত্যাশা কমেছে। প্রকৌশল, নির্মাণ, ইউটিলিটি, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা খাতে এআইর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুফল সবচেয়ে বেশি বিলম্বিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×