ডিসেম্বরের মধ্যেই করোনার ভ্যাকসিন আনতে চায় ২ কোম্পানি
প্রতীকী ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২০ | ০৮:০২ | আপডেট: ০২ জুন ২০২০ | ০৯:১১
সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বর্তমানে ১৩৫টি ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি মডার্না ও চীনের সিনোভ্যাক বায়েটেক দাবি করেছে, তাদের তৈরি ভ্যাকসিন ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ সফল প্রমাণিত হয়েছে। কোম্পানি দু’টি আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ভ্যাকসিন আনতে চায় বাজারে।
মডার্নার ভ্যাকসিন গবেষণা কার্যক্রমে প্রথম ধাপে প্রায় শতভাগ সাফল্যজনক ফলাফলের পর দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে বলে খবর দিয়েছে স্ট্যাট নিউজ। এতে বলা হয়, মর্ডানার দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় ৬০০ মানুষ অংশ নেবেন। এর মধ্যে প্রথম তিনশ’ জনের বয়স হবে ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে, এবং বাকি তিনশ’ জনের বয়স হব ৫৫ বছরের উর্ধ্বে। মডার্নাও আশা করছে ডিসেম্বরের মধ্যেই ভ্যাকসিন বাজারে নিয়ে আসতে।
পাশাপাশি চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়েটেক দাবি করেছে, তাদের তৈরি ভ্যাকসিন ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ সফল প্রমাণিত হয়েছে। এই দাবির কথা তুলে ধরে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম ধাপের দ্বিতীয় ধাপে এক হাজার স্বেচ্ছাসেবীর উপর এটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে এই একই ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষাও চলছে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সিনোভ্যাক বায়েটেক এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেছে, তারা ডিসেম্বরের আগেই ভ্যাকসিন বাজারে আনতে সক্ষম হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন তৈরিতে সক্ষম হবে।
অন্যদিকে করোনা মুক্তির পথে সফল পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছে চীনের অপর একটি প্রতিষ্ঠান৷ তাদের দাবি, ভ্যাকসিন নয়, তাদের উৎপাদিত ওষুধেই আটকানো সম্ভব হবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ৷ বেইজিংয়ের অ্যাডভান্সড ইনোভেশন সেন্টার ফর জেনোমিক্সের পরিচালক সানি জাই গত রোববার জানান, এই ওষুধ প্রাণীদের ওপর সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে ৷ তিনি বলেন, ‘আক্রান্ত ইঁদুরদের ওপর এই পরীক্ষামূলক ওষুধ ব্যবহার করে অ্যান্টিবডিকে নিউট্রলাইজ করা হয়েছে৷ এর পাঁচদিন পরে ভাইরাল লোড কমিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করে নিশ্চিত হওয়া গেছে ওষুধটি কাজ করেছে।’
সানি জাই আরও বলেন, যে ওষুধ অ্যান্টিবডি নিউট্রলাইজ করে তা অনেকাংশেই মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থেকে তৈরি হয়, যা ভাইরাসের দ্বারা কোষ আক্রান্ত হওয়া আটকায় ৷ আইসোলেট করে দেওয়ায় কাজ হয়েছে এমন ৬০ জন রোগী এই ওষুধে সেরে ওঠার প্রমাণ পেয়েছেন বলেও তার দাবি।
বিজ্ঞানবিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘ডিসকভার ম্যাগাজিনে’র গত সপ্তাহের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৩৫টি ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণার কাজ চলছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, জাপান, চীন, অষ্ট্রেলিয়া কয়েকটি দেশের ৭টি ভ্যাকসিন ট্রায়ালের আওতায় এসেছে। ট্রায়ালে আসা ভ্যাকসিনগুলোর দ্বিতীয় ধাপে মানুষের ওপর পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তৃতীয় ধাপে কয়েকটি দেশের মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে এর কার্যকারিতা দেখা হবে। আরও প্রায় ১২টি ভ্যাকসিন ট্রায়ালের উপযোগী হয়েছে এবং সেগুলো খুব দ্রুতই কার্যকারিতা পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পরীক্ষার কাগে আগের চেয়ে গতি বেড়েছে। ফলে আরও দ্রুততম সময়ের মধ্যেই করোনার ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ভ্যাকসিন বাজারে আসার প্রত্যাশা জানিয়ে বলা হয়, ২০২১ সালের শুরুটা করোনাভয় মুক্ত পরিবেশের মধ্য দিয়েই হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।