ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

জানালায় বসেই করোনা আক্রান্ত মাকে শেষ বিদায় জানালেন ছেলে

জানালায় বসেই করোনা আক্রান্ত মাকে শেষ বিদায় জানালেন ছেলে
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২০ | ০১:৩৮

করোনাভাইরাস গোটা বিশ্বের চিত্রই বদলে দিয়েছে। এই ভাইরাসের আক্রান্তের ভয়ে অনেক ছেলেমেয়ে তার বাবা-মাকে বাইরে ফেলে যাচ্ছেন, রাস্তায় মানুষ মরে পড়ে থাকলেও কেউ কাছে যাচ্ছে না। হাসপাতালে গিয়ে করোনা রোগীরা বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। ভয়ে কাছে ঘেঁষছেন না চিকিৎসকরা। কোথাও আবার আক্রান্ত ব্যক্তিসহ তার গোটা পরিবারকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। এরকম আরও অনেক অমানবিক দৃশ্যের জন্ম দিচ্ছে করোনা।

তবে এর ব্যতিক্রম যে নেই তাই নয়। অনেক হৃদয়স্পর্শী ঘটনাও ঘটছে করোনার কারণে। সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত মায়ের প্রতি এক সন্তানের ভালোবাসার দৃশ্য হৃদয় ছুঁয়েছে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের। অসুস্থ মাকে দেখতে মায়ের রুমের জানালায় বসে থাকতে দেখা তাকে। মায়ের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এভাবেই মাকে দেখেছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে ফিলিস্তিনে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, জিহাদ আল সুয়াইতি নামের ৩০ বছর বয়সী ওই যুবকের মা রেশমি সুয়াইতি(৭৩) করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সরকারি হাসপাতালের ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয় তাকে। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে মাকে দেখতে যাওয়ার অনুমতি পাননি ছেলে। এ কারণে মাকে দেখতে তিনি অপেক্ষা করেছেন জানলার পাশে বসে। মায়ের শেষ সময়ে তিনি তার কাছ থেকে সরে যেতে চাননি। জানলা দিয়েই তিনি দেখেছেন কীভাবে মা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। যতদিন মা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, ততদিন রোজ রাতে ওই জানলার ধারে বসে থাকতেন জিহাদ। মহম্মদ সাফা নামে একজন ওই যুবকের হাসপাতালের জানালায় বসে থাকার ছবিটি শেয়ার করেন সামাজিক মাধ্যমে।

সেখানে সাফা লিখেছেন. করোনা আক্রান্ত ফিলিস্তানি ওই নারীর ছেলেটি মাকে দেখতে তার রুমের পাশের জানালায় বসে থাকতো। মায়ের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রতি রাতে এভাবেই সে মায়ের পাশে থেকেছে।

মহম্মদ সাফার সেই পোস্ট ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই জিহাদের কষ্ট অনুভব করে নানা মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, মায়ের প্রতি এমন ভালোবাসা দেখে আমার চোখ ভিজে উঠছে। আরেকজন লিখেছেন, ঘটনাটি কষ্টকর হলেও অনুপ্রেরণার।

জিহাদের মা রেশমি সুয়াইতি আগে থেকেই লিউকেমিয়ায় ভূগছিলেন। এরপর তার করোনা শনাক্ত হলে শারীরিক জটিলতা বেড়ে যায়। পরে তাকে দেশটির হেবরন স্টেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাঁচদিন চিকিৎসার পর গত বৃহস্পতিবার তিনি  হাসপাতালেই মারা যান।

জিহাদ জানান, তার খুব অসহায় লাগতো। মাকে দেখতে তাই তিনি জানালার পাশে বসে থাকতেন। তিনি আরও জানান,তার মায়ের অবস্থা যখন খুব খারাপ জানানো হয় তখন তিনি মায়ের রুমে ঢুকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকরা অনুমতি দেননি। এ কারণে জানালায় বসেই মাকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

×