উপসাগরীয় আকাশসীমা বন্ধ বিমান চলাচল স্থগিত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
ইরানে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোয় পাল্টা মিসাইল হামলা চালিয়েছে তেহরান। এতে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা। নিরাপত্তা শঙ্কায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় প্রায় সব দেশ তাদের আকাশসীমা অস্থায়ীভাবে বন্ধ বা স্থগিত করেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের পর বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাধারণ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিসিএসিএএ) আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ করেছে। তারা জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও বিমান পরিচালনার ঝুঁকি বিশ্লেষণের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারলাইন্সগুলোকে থাকার ব্যবস্থা এবং সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাতার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমা অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে এবং দেশটির আকাশে কিছু হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। কাতারের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় সাধারণ জনগণকে কেবল সরকারি সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছে এবং গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
আকাশসীমা বন্ধ করেছে কুয়েত ও বাহরাইনও। কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে এবং পুনরায় খোলার সময় নির্ধারণ করা হয়নি। বাহরাইনের ন্যাশনাল কমিউনিকেশন সেন্টার জানিয়েছে, তাদের দেশীয় স্থাপনাগুলো বাইরের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এ ছাড়া মার্কিন ফিফথ ফ্লিটের একটি পরিষেবা স্থাপনাও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা সক্রিয় করা হয়েছে এবং জনগণকে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে পুরো দেশব্যাপী আকাশসীমা ছয় ঘণ্টার জন্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল ইরানও। তবে তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের পর ইরানি গণমাধ্যম ক্রমাগত বিমান হামলার খবর দিয়েছে। ইরাকও আকাশসীমা বন্ধ করেছে এবং এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে।
নতুন তথ্য অনুসারে, সিরিয়া ও জর্ডানের নির্দিষ্ট আকাশপথও অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল। এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, এয়ার ফ্রান্স, লুফথানসা, টার্কিশ এয়ারলাইন্সের মতো বহু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স তাদের নির্দিষ্ট রুটের ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ফ্লাইটগুলোতে ব্যাপক বিলম্ব এবং রুট পরিবর্তনের ঘটনা দেখা যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশেই নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা ও ভ্রমণকারীদের সুরক্ষায় সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। যাত্রীদের বিমান সংস্থা ও সরকারি সূত্র থেকে নিয়মিত আপডেট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- আকাশসীমা
