ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত
বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলার পর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ছবি: এএফপি
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ | ১৫:২৪ | আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ | ১৫:২৫
ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানের পাল্টা আঘাতের মাত্রা দেখে মনে হচ্ছে; ধারণার চেয়েও তাদের প্রস্তুতি বেশি ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র যেসব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে সেগুলোর মধ্যে আছে মার্কিন দূতাবাস, সামরিক ঘাঁটি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। দুটি স্থাপনায় হামলায় সাতজন সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমস স্যাটেলাইট চিত্র ও ভিডিও যাচাই করে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি স্থাপনা শনাক্ত করেছে।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন। তারা বলছেন, অধিকাংশ হামলাই যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা প্রতিহত করেছে। তবুও অন্তত ১১টি সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা অঞ্চলটিতে থাকা মোট স্থাপনার প্রায় অর্ধেক।
যুদ্ধের প্রথম দিন (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরান কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর মধ্যে ছিল সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেস, কুয়েতের আলি আল সালেম এয়ারবেস, ক্যাম্প বুয়েরিং এবং কাতারের আল উদেইদ এয়ারবেস। উদেইদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি।
ইরানের পাল্টা হামলায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন। তবে পেন্টগনের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে কংগ্রেসে জানানো হয়, প্রথম দিনের হামলায় বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে প্রায় ২০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।
যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোর তুলনায় ইরানের হামলার গতি কিছুটা কমেছে। তবে আক্রমণ থেমে নেই। আল উদেইদ এয়ারবেস, আলি আল সালেম এয়ারবেস, আল ধাফরা এয়ারবেস, ক্যাম্প বুয়েরিং এবং পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে একাধিকবার হামলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যা স্থাপন করা বেশ ব্যয়বহুল। ইরান পরিকল্পিতভাবে সেখানেও হামলা করেছে। এরমধ্যে আছে টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থার উপাদান। শক্তিশালী রাডারের মাধ্যমে আকাশপথের হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করতে এই ব্যবস্থা ব্যবহার হয়। সামরিক বাজেট ও চুক্তির নথি অনুযায়ী, এ ধরনের একটি রাডার ইউনিটের মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
এছাড়া, বেসামরিক মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করেও ইরান হামলা চালিয়েছে। যেমন- দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট এবং কুয়েত সিটি ও সৌদি আরবের রিয়াদে দূতাবাস। এসব হামলার কারণে সাময়িকভাবে সেগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে এসব হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
