রাফাহ সীমান্ত বন্ধ
চিকিৎসা ছাড়াই ফের আটকা পড়েছে গাজার অসুস্থ মানুষ
নিরাপত্তাজনিত কারণে ফের ফিলিস্তিনের রাফা সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ | ১২:৪৯ | আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ | ১৬:০১
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানে যৌথ হামলার মধ্যে নিরাপত্তাজনিত কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফের ফিলিস্তিনের রাফা সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। ফলে আবারও বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র প্রধান পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার মানুষ। এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে পরীক্ষামূলকভাবে সীমান্তটি আংশিক খোলা হয়েছিল, যার মাধ্যমে মূলত চিকিৎসার প্রয়োজনে অল্প কিছু মানুষ যাতায়াত করতে পারছিলেন। কিন্তু আবার রাফা সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় গাজার অনেক অসুস্থ এবং আহতরা ফের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
লামা আবু রেদা নামে গাজার এক বাসিন্দা আলজাজিরাকে জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাবছিলেন আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁর অসুস্থ শিশুকন্যা আলমার ভাগ্য বদলে যাবে। পাঁচ মাসের কম বয়সী আলমা অক্সিজেন মেশিন ছাড়া শ্বাস নিতে পারে না। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল রাফা সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের সব আশা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
আবু রেদা বলেন, আমার মেয়ের জীবন একটিমাত্র অস্ত্রোপচারের ওপর নির্ভর করছে। এরপর সে একদম স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারত। যদি তার বিদেশ যেতে আরও দেরি হয়, আমি জানি না কী ঘটবে। শুধু আলমা নয়, রাফা সীমান্ত ফের বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গাজার আরও অনেক অসুস্থ মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০ হাজারের বেশি রোগী এবং আহত ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অপেক্ষায়। তাদের মধ্যে প্রায় চার হাজার ক্যান্সার রোগী রয়েছে; যাদের বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন, যা গাজায় বর্তমানে পাওয়া সম্ভব নয়। এ ছাড়া প্রায় চার হাজার ৫০০ শিশুও এই তালিকায় রয়েছে। তবে গত রোববার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাফাহ সীমান্ত কাল বুধবার থেকে ফের খুলে দেওয়া হতে পারে।
আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়ার আরব লিগের নিন্দা
পবিত্র রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের জন্য আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ বন্ধ রাখার ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব লিগ। এক বিবৃতিতে আঞ্চলিক এই সংস্থাটি বলেছে, জেরুজালেমের এই পবিত্র স্থানে মুসলমানদের নামাজ পড়তে বাধা দেওয়ার কোনো আইনি বা নৈতিক অধিকার ইসরায়েলের নেই। একই সঙ্গে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থানে ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ মুসলিম বিশ্বে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- রাফাহ ক্রসিং
- ইসরায়েল
