ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হোটেলে অগ্নিকাণ্ড

দিল্লির নায়ক আফজাল, ওয়াশিম শোনালেন প্রাণ বাঁচানোর গল্প

দিল্লির নায়ক আফজাল, ওয়াশিম শোনালেন প্রাণ বাঁচানোর গল্প
×

ওয়াশিম রাজা (বাঁয়ে) ও মোহাম্মদ আফজাল। ছবি: সংগৃহীত

ইন্ডিয়া টুডে

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ১৬:২৩ | আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ | ১৬:৩০

যখন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ব্যর্থ হয় এবং বড় কোনো বিপর্যয় নেমে আসে, তখন সাধারণ মানুষেরাই অসাধারণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। বুধবার দিল্লির ‘ফ্লুরিশ স্টে বিঅ্যান্ডবি’ হোটেলে অগিকাণ্ডের ঘটনায় মোহাম্মদ আফজাল ও ওয়াশিম রাজা নামের দুই যুবক ছিলেন সেই ত্রাতার ভূমিকায়।

আবাসিক হোটেলটিতে ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জন নিহত এবং আরও বেশকয়েকজন আহত হয়েছেন। আগুন লাগার পর ভেতরে থাকা অতিথিরা যখন বাঁচার আকুতি ও চিৎকার করছিলেন, তখনই আফজাল ও রাজাসহ উদ্ধার কাজে এগিয়ে যান স্থানীয়রা। ফায়ার সার্ভিস যাওয়ার আগেই তারা তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামাল দেন।

উদ্ধারকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মোহাম্মদ আফজাল। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্রুত রাস্তার ওপারের দোকান থেকে তোশক নিয়ে নিচে বিছিয়ে দিই, যাতে ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ার মতো একটা জায়গা তৈরি হয়। আমরা ওপরের তলায় থাকা ব্যক্তিদের নিচে লাফ দিতে বলি। কেউ কেউ লাফ দিলেও অনেকে সাহস পাননি।’

আফজালরা যখন এই পদ্ধতিতে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করছিলেন, ততক্ষণে আগুন আরও ছড়িয়ে যায়। আফজাল বলেন, এরপর তারা থানা ও ফায়ার সার্ভিসে কল দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনের উত্তাপ কিছুটা কমে গেলে তিনিসহ অন্যরা ভেতরে ঢুকে অতিথিদের বাইরে নিয়ে আসেন।

যে তোশকগুলো ভবনের নিচে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেগুলো আনা হয়েছিল ‘আরমানস’ নামের একটি দোকান থেকে। আফজাল বলেন, নিজের মালামাল নষ্ট হবে জেনেও দোকানের মালিক সাহায্য করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। দোকান থেকে নেওয়া কিছু চাদরের সাহায্যে ওপরতলা থেকে ভুক্তভোগীদের নিচে নামিয়ে আনেন। 

আরেক উদ্ধারকারী ওয়াসিম রাজা পাশের ম্যাক্স হাসপাতালের কর্মী। তিনি জানান, জরুরি পরিস্থিতির সময় তাঁর পেশাগত প্রশিক্ষণ বেশ কাজে লেগেছে। অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি পরিস্থিতিতে হতাহতের ঘটনা সামাল দেওয়া নিয়ে তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। 

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থার বর্ণনা দিয়ে রাজা বলেন, ভেতরে থাকা মানুষগুলো আগুনে পুড়ে যায়নি। তারা ধোঁয়ার কারণে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। কোনো রকম দ্বিধা বা আনুষ্ঠানিক অনুমতির অপেক্ষা না করেই তারা কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করেন। মূলত এই প্রচেষ্টার কারণেই কিছু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সবাইকে বাঁচানো যায়নি।

আরও পড়ুন

×